somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুসলিম নারীদের নিয়ে উন্নত বিশ্বের কেন এত চক্রান্ত ?

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন পর লিখলাম । সবাইকে পড়ার অনুরোধ করছি ।:):)


ইদানিং দেশের মিডিয়াগুলো নারীদের সম-অধিকারের জন্য খুব তোড়গোড় চালাচ্ছে ।এখানে একই বিষয়ে তাদের তাদের দৈতনীতির দিকটা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে ।আর এর জন্যই আমার এ লেখাটি ।

তাদের দৈতনীতিটা পরিষ্কার হওয়া দরকার । একদিকে বলছে নারীদের সম-অধিকার দিতে হবে ।আবার বলতেছে নারীরা রাস্তাঘাটে ইভটিজিং ,যৌন হয়রানি, বখাটে ছেলেদের উৎপাত এবং তাদের লোলুপ দৃষ্টি , পারাপর্শির কটুক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্ষণ এর শিকার হচ্ছে ।
আমি মনে করি নারী সম-অধিকার , নারি-পুরুষ বৈষম্য দুর এবং ছেলে-মেয়েদের ফ্রি মিক্সিং এর ফল হচ্ছে এগুলোই ।

কারণটা একটু বিশদ আকারেই দেখি ,
নারীর সম-অধিকারের কথা পাশ্চাত্য দেশ গুলো বলে আসছে ।এ দেশ গুলোতে নারী-পুরুষের বৈষম্যের হার শুন্য ভাগ বলা যেতে পারে।তার ফল আমাদের একটু দেখে নেওয়া দরকার ।
ধর্ষনে শীর্ষ দশটি দেশ ।
১.যুক্তরাষ্ট্র:-সে দেশে শুধু নারী রাই ধর্ষিত হয় না,পুরুষে রাও হয়!প্রতি ৬ জনে ১ জন এবং ৩৩ জনে ১ জন পুরুষ ধর্ষন অথবা ধর্ষন প্রচেষ্টার শিকার হন!
২.সাউথ আফ্রিকা:-এই দেশটি কে বলা হয় ধর্ষনের রাজধানী!এক সমীক্ষায় দেখা যায় শতকরা ২৫ জন পুরুষ যাদের প্রত্যেকেই একাধীক নারীকে ধর্ষন করেছে!
৩.সুইডেন:-এ দেশের প্রতি চার জনে ১ জন ধর্ষিতা !
৪.ভারত:-ইদানিং ধর্ষক উৎপাদনে বেশ তত্‍পর দেখা গেছে এই দেশটিকে!খুব দ্রুত হারেই বাড়ছে ধর্ষনের প্রবনতা!সবশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রতি ২২ মিনিটে একটি রেপ কেস এর রিপোর্ট আমোলে নেয় পুলিশ!
৫.যুক্তরাজ্য:-এ দেশে প্রতি বছর গড়ে ৮৫,০০০ জন নারী ধর্ষনের শিকার হয়!প্রতি ৫ জনে ১ জন জীবনে অন্তত এক বার হলেও যৌন হয়রানির শিকার হন।
৬.জার্মানি:-শুধু এ বছরেই রেপ কেসের রিপোর্ট হয়েছে ৬৫ লাখ ৭ হাজার!
৭.ফ্রান্স:-৩৭ লাখ ৭১ হাজার ধর্ষকের তালিকা আনুযায়ী শীর্ষ ধর্ষনের তালিকায় ফ্রান্স ৭ম!
৮.কানাডা:-এ দেশে প্রতি ৩ জনে ১জন যৌন হয়রানীর শিকার
৯.শীলঙ্কা:-ছোট্ট এই দেশটিও ধর্ষন তালিকায় উঠে এসেছে!১৪.৫ শতাংশ পুরুষ ই অন্তত একবার ধর্ষন করে
১০.ইথিওপিয়া:-জাতিসংঘের জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৬০ শাতাংশ নারী যৌন হয়রানীর শিকার!
***হিজাব প্রচলিত আছে এমন একটি দেশও দেখলাম কি এই তালিকায়?
[***জড়িপ ও তথ্য সুত্রঃজাতিসংঘ,শ্রীলঙ্কান মাল্টি কান্ট্রি,জাস্টিস ইন্সটিটিউট অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া,মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস,ন্যাশনাল ক্রাইম রিপোর্ট অব ইন্ডিয়া]

এই হচ্ছে কথিত সভ্য জাতীর আসল রুপ ।যেখানে সভ্যতার আদলে তারা এসব অসভ্য কাজ করে বেড়াচ্ছে। X((X((
নিঃশন্দেহে বলে দেওয়া যায় এর কারন হচ্ছে নারীর সম-অধিকার দেওয়া , নারী-পুরুষের বৈষম্য দুর এবং ছেলে মেয়েদের ফ্রি মিক্সিং ।

কিন্তু ভাই , আবার দেখেন এসব দেশের আইন শৃঙ্খালা পরিস্থিতি কত শোচ্চার।তবুও তাদের এ অসভ্যতা কিভাবে প্রশ্রয় পায় ? নারী ধর্ষণের মত অপরাধের কি আদৌ শুষ্ঠ বিচার হচ্ছে? যদি বিচারই হত তাহলে নারী ধর্ষণের হার এতটা হত কি ?
নাকি এটাই তাদের কালচার । এই অসভত্যা যদি একটি দেশের কালচার হয় ,তাহলে নিকুচি করি তাদের অনুসরণে ।

রিসেন্টলি বহুল আলোচিত ঘটনা হচ্ছে নোবেল শান্তি পুরষ্কার । নারীর আইডল হিসাবে সেটি দেওয়া হয়েছে অযোগ্য মালালা কে।যেখানে শান্তি পুরষ্কারের প্রথম লিষ্টে ছিল জাপানের জনগন ।যাইহোক ,আমার প্রশ্ন হচ্ছে মালালাকে কেন এই গুরুত্বপূর্ণ পুরষ্কারটি দেওয়া হল?

সহজ ভাবেই বলা যায়, মালালাকে আইডল বানানো । মুলমান নারীরা যেন মালালাকে আইডল হিসাবে নেয় ।
কিন্তু একটু গভির ভাবে চিন্তা করলে আসল সত্যটা বেড়িয়ে আসে ।
এ পর্যায়ে আমি আপনাদের ধ্রুত শিয়ালের গল্পটি মনে করিয়ে দিতে চাই ।গল্পে ছিলো একটি ধ্রুত শিয়ালের লেজ কাটা গেছে ।তেমনি উন্নত রাষ্ট্র গুলোরও লেজ কাটা গেছে। কারন তাদের ধর্ষণের হার ।তারা সভ্য জাতি হিসাবে তাদের এই ধর্ষণের হারটা অসামঞ্জ্যক।তাই ধ্রুত শিয়ালের মত লেজকাটাটা একটা আইডল হিসাবে দেখাতে চাইছে । মানে হচ্ছে নারী সম-অধিকার তারি উপঢৌকন হিসাবে মালালা কে নারীর আইডল বানানো এবং সেটা যেন মুসলিম নারীরা বা সভ্য সমাজের নারীরা গ্রহন করে ।আর নারী পুরুষের বৈষম্যটা তাদের মত করে যদি দূর করতে সক্ষম হয় ।তাহলেই তাদের সফলতা অর্জন হবে । কারন তাহলে নারী ধর্ষণের হারটা সব জাতীর মধ্যেই তাদের মত করে পাওয়া যাবে ।পাশাপাশি তাদের আরো কয়েকটি লক্ষ্য পূরণ হবে ।যেমন মুসলমান জাতীকে ধংস করা , নারীদেরকে নিয়ে বিজনেস , আরও ব্যাপকভাবে নারীদের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে পারা ।আর এগুলো হলে আইএমএ জাহেলিয়া যুগ আবার ফিরে আসছে, বেশি দেরি নাই ।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাদের সুসিল মিডিয়াগুলোও সম অধিকার এবং নারী পুরুষের বৈষম্য দুর ইত্যাদি ঢালাও ভাবে প্রচার শুরু করেছে ।
আমি মানছি , জাতি হিসাবে ওরা উন্নত ।ওরা প্রযুক্তি ,জ্ঞান , বিজ্ঞান ,চিন্তাধারা , রাজনীতি ইত্যাদি আরো অনেক বিষয়ে এগিয়ে । তাই ওদের অনুসরণ করাটা আমাদের অবশ্যই ফলপ্রুস হবে ।তাই বলে কি বাছাই করে সবচেয়ে জঘন্য জিনিস গুলোই আমাদের অনুসরণ করতে হবে ?

আর একটা বিষয় দেখেন যা আগেই একবার বলেছি, উন্নত দেশ গুলোর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গুলো কতটা স্ট্রং ।
পক্ষান্তরে আমাদের দেশে তা ততই নগন্য ।
এর মধ্যেও তাদের এই ধর্ষণের হার ।
একটু চিন্তা করে দেখুন নারী সম অধিকার , নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর হয়ে গেলে এবং ছেল মেয়েদের ফ্রি মিক্সিং দেওয়া হলে , ধর্ষণের হার টা বাংলেদেশেও কি পরিমান বেড়ে যাবে।

সুসিল সমাজের তো এসব নিশ্চয়ই না জানার কথা নয় ।তবে এরা কেন মেয়েদের এসব বলে মুখে ফেনা তুলছে ।কারনটা তাহলে স্পষ্টই হলো পাশ্চাৎদের মত আমোদ, ফূর্তি,এনজয়,নারী ব্যবস্যা না করলে চুলকানি বোধহয় আর কমে না ।

আমাদের দেশের মা ও বোনদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই ,
আপনাদের নিয়ে যে চক্রান্ত চলছে তা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। একটু দুর দৃষ্টি স্থাপন করেন , এর প্রভাবটা আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন ।আপনারাই এদের চক্কর থেকে বেরুতে পারেন ।এখন আপনারাই যদি খাল কেটে কুমির আনার চেষ্টা করেন তাহলে সমাজের বাকি মানুষদের আর কিছুই করার থাকবে না ।
তাই বলি আপনারাই পারেন আইএম এ জাহেলিয়া যুগে পরিনত করতে কিন্তু আবার আপনারাই পারেন নিজেরা ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে এবং এদেশ তথা সমগ্র মুসলিম জাতীকে বাঁচাতে ।
এজন্য আপনাদের সচেতন হতে হবে ।
মুসলমান নারিদের ইসলামের রুলস হিসাবে হিজাব পড়া উচিত ।

সবাইকে ধন্যবাদ ।কষ্ট করে আমার লেখাটি পড়ার জন্য ।
এবং নারিদের হিজাব পড়ায় উবুদ্ধ করতে আপনাদের কাছে কমেন্টসে কিছু লেখার অনুরোধ করছি ।

লেখা - আহমেদ গালিব
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

×