এক বন্ধু আলাপ প্রসঙ্গে বলল: ভারতীয় টিভি সিরিয়ালগুলো নাকি টানা ৬/৭ বছর পযর্ন্ত- চলে! আমি বিস্ময়ে জানতে চাইলাম: এটা কী করে সম্ভব? কি করে সম্ভব এটা বন্ধুটা ভাল করে বুঝিয়ে বলতে পারেনি, তাই বুঝার দায়ত্ব নিয়ে রাত সাড়ে দশটাতে টিভি সেটের সামনে বসলাম। শুরু হলো সিরিয়াল: ‘তোমায় আমায় মিলে।’ প্রথম পরব: কাজের মেয়ে ছাদে কাপড় শুকাতে দিচ্ছে, প্রথম কাপড়টা দিল, দ্বিতীয়টা দিতে গিয়ে হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল উপরের দিকে, সঙ্গে সঙ্গে শুরু হলো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। এভাবে মেয়েটা মিনিট পাঁচেক উপরের দিকে তাকিয়ে আছে, আর আমরা মানে দর্শকরা সবাই মেয়েটার দিকে, (মনে মনে প্রশ্ন) মেয়েটা দেখল কী? এভাবে মিনিট পাঁচেক চলার পর মেয়েটা উচ্চ শব্দে ডাক দিল: বড় মা। মেয়েটার ডাক শুনে ঘরের ভিতরে থাকা মানুষগুলো পরস্পর মুখের দিকে তাকাচ্ছে আর একই রকম মিউজিক চলছে। প্রথম পরব শেষ বিজ্ঞাপন বিরতি শুরু।
দ্বিতীয় পরব শুরু: এবার ঘর থেকে একেক জন ছুটে আসছে, আর সবাই উপরের দিকে তাকাতেই যেন লা-জবাব হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ভূত কিংবা তার থেকেও বিস্ময়কর কিছু দেখে সবাই বোধ শক্তি হারিয়ে ফেলছে। এই বোধ হারানো অবস্তায় দ্বিতীয় পরব শেষ বিজ্ঞাপন শুরু।
তৃতীয় পরব: শুরুতেই আমরা দেখছি, সেই কাজের মেয়েটা বলছে: ট্যাঙ্ক ফুটো হয়ে সব জল যে পড়ে যাচ্ছে আমরা স্নান করব কী করে? বুঝতে পারলাম সবাই এতক্ষণ পানির ট্যাঙ্কের দিকেই তাকিয়ে ছিল। তো, ফোন করা হল কল মিস্ত্রিকে, তিনি জানিয়ে দিলেন আসতে পারবেন না। তা হলে এখন উপায়? উপায় হিসেবে উষসী নামে বাড়ির বড় বউটা আমাদের সামনে হাজির হলো। উষসী বলে উঠল: আমি ঠিক করব, সাথে সাথে মিউজিক শরু হলো। সেই মিউজিকের মধ্যেই আজকের পরব শেষ। আগামী পরবের বিজ্ঞাপনে দেখলাম: মেয়েটা কার্নিশ ধরে ঝুলে আছে, অন্যরা মেয়েটাকে বাঁচাতে চেষ্টা করছে। হায় হায়, তবে কী মেয়েটা পড়ে মারা যাবে নয়তো কোমর ভাঙবে? বউ আমাকে আশ্বস- করে বলে উঠল: দূর পরবেও না মরবেও না। সিরিয়ালটা বয়স সবে দেড় বছর, এখনেই নায়িকা মারা পড়লে বাকি ৪/৫ বছর চলবে কি ভাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



