কারো গাল ভরা দাড়ি, কারো বা থুতনির নীচে এক মুষ্টি। পরনে সফেদ পাঞ্জাবি পাজামা মাথায় টুপি। দীর্ঘ মিছিলটার একটাই স্লোগান ছিল, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। গাড়ি পাচ্ছিলাম না বলে, আমিও মিছিলটার সঙ্গ নিয়ে ছিলাম, একেবারে লালখান বাজার মোড় থেকে জামে মসজিদ উত্তর গেট পর্যন্ত। সেই ফাঁকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে নিলাম মিছিলে অংশ নেওয়া মানুষগুলোকে, এটা আসলে ওইসব মানুষদের বুঝার একটা চেষ্টাও বলতে পারেন। সেই সুযোগও এলো, পরিচয় হলো নেতা গচের একজনের সাথে। তিনি আমাকে জোড় দিয়ে বুঝাতে চাইলেন, রাষ্ট্রকে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করতেই হবে। আমি একেবারে সুবদ বালকের মতো প্রশ্ন করে বললাম: হুজুর, রাষ্ট্র তাদের মুসলিম ঘোষণা করে ছিল জানি কত সালে? লোকটা এবার গর্জন করে বলল: এত সাহস হইছে নাকি রাষ্ট্রের, রক্তের বন্যা বয়ে দিমু না!’ আমি এবার একটু ভরকে গিয়ে আমতা আমতা করে বললাম: হুজুর, রাষ্ট্র যদি তাদের মুসলিম ঘোষণা না করে তবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি আসছে কেন? তাছাড়া আমি যদ্দুর জানি, কে মুসলমান আর কে মুসলমান না সেই বিচারের দায়তো স্বয়ং আল্লহর হাতে, এখানে রাষ্ট্রের কিবা করার আছে। লোকটা এবার আমার মূল প্রশ্নকে এড়িয়ে আগের মতই গর্জন করে বলল: জানেন ওরা কী করেছে? আমাদের নবিকে অস্বীকার করে ওরা গোলাম কাদিয়ানিকে শেষ নবি বলে ঘোষণা করেছে। আমি আগের মতই শান্ত কণ্ঠে: ওদের কোন গ্রন্থে লিখেছে, গোলাম কাদিয়ানি শেষ নবি, যদি বলতে তবে একটু পড়ে দেখতাম। লোকটা এবার তালেবেরে দোকানের চা পুরো শেষ না করে উঠে গেলেন, যাওয়ার সময় বললেন: আসলে বইটার নাম আমিও জানি না, বড় হুজুরের কাছে জেনে আপনাকে জানাব। লোকটার সাথে আর দেখা হলো না, আমারও আজও জানা হলো না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



