ছোট বেলাই আমার মা কে দেখতাম হাতে রং বে রং এর রেশমি চুড়ি পরতে। সেই সময় চুড়িআলি আসতো বাড়ি বাড়ি। বড় ঝুড়ি ভরে কাপড়ের ভাজে ভাজে রাখতো তাদের চুড়ি। বড্ড যন্ত করে দিত সেই কাপড়ের ভাজ যেন রেশমি চুড়ি ভোঙ্গে ঠুঙ্ক কাঁচের টুকরায় রুপ না নেই।
বাড়ি বাড়ি এসে খুব উৎসাহ নিয়ে হাঁক দিতো বাড়ির মেয়েদের। সবার সামনে মেলে ধরতো ঝুড়ির সব রং বে রং এর রেশমি চুড়ি। ঝুড়িতে থাকতো ছোট, বড়, বয়স্ক সবার হাতের মাপের রেশমি চুড়ি। বাড়ির মেয়েদের হাতে তুলে দিতো (হাতে চুড়ি পরিয়ে দেওয়া) যন্তে রেশমি চুড়ি। হাতে তুলে (হাতে চুড়ি পরিয়ে দেওয়া) দিয়ে বলতো “বু- নিয়ে নাও, তোমার হাতে খুব সুন্দর লাগছে”। কেই যদি হাতে তোলা (হাতে চুড়ি পরিয়ে দেওয়া) চুড়ি খুলতে চাইতো দেখতাম বলতো তাঁরা “রাখো-রাখো আমি খুলে দিচ্ছি”। যদি কেই টাকার অভাবে ভাল-লাগা চুড়ি গুলো না নিতে চাইতো দেখতাম বলতো “রেখে-দাও বু,পরে টাকা দিয়ে দিও”। তাদের ভালবাসা ছিল অন্য রকম, হয়তো তারা চিন্তা করতো কয়টা টাকা-ই তো, কয় দিন পর-ই নেই। টাকার অভাবে ভাল-লাগা চুড়ি গুলো নিতে পারছে না। তাদের ভালবাসা ছিল সত্য আর তাই তারা অকপটেই বলতো তাদের কথা। তারা শুধু কটা টাকা-ই আয় করতে চাইতো না সাথে চাইতো সবার ভালবাসা আর শ্রাদ্ধা।
এখন ও রেশমি চুড়ি পাওয়া যায় তবে ভাল চুড়ি পেতে হলে যেতে হয় সেই নিউ-মার্কেট না হয় বেলি রোড অথবা ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাই।এখন কার চুড়িআলিরা বসে রাস্তার পাশে সারি করে। শুধু চুড়ি পছন্দ হলেই হবে না দামে আগে পরতা পড়তে হবে, তবেই চুড়ি হাতে উঠবে(হাতে চুড়ি পরিয়ে দেওয়া)। যদি দাম নিয়ে একটু কথা বলা হয় তবে শুনতে হয় “আফ্যা, দামে পরতা না পড়লে নিয়েন না”। তাদের কাছে পছন্দ, ভালবাসার থেকে টাকা টাই বড়। ব্যস্ত শহরে ভালবাসা,শ্রাদ্ধা হয়ে গেছে হীরা-জহরত-মণী-মুক্তার মত। এখন ও সবাই হাতে রেশমি চুড়ি পরে তবে সেই ভালবাসা দিয়ে হয়তো কেউ নেই না আর হাতে ও পরে না।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



