(রম্য রচনা, ছোট গল্প
ভোর এর জগিং শেষে ফুরফুরে মেজাজে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন রাইহান সাহেব, কিন্তু বাড়ীর পেছনের মোড় টা ঘুরেই দূর থেকেই বাড়ীর দোয়াল দেখেই মেজাজ টা খিঁচিয়ে উঠলো। দোয়ালে বড় করে লেখা আছে “দোয়ালে পোষ্টার লাগাবেন না” এই লেখার ঠিক পাশেই লাল পোস্টার কাগজের একটা পোষ্টার লাগানো। এটা দেখার পর কার মাথা ঠিক থাকে।
রাইহান সাহেব দাঁড়ালেন ঠিক পোষ্টা্রটার সামনে, পোষ্টার পড়ার জন্য নয় বদজাদ টা-কে ধরা যাই কিনা সেটার জন্য। হাঁ, বদজাদ টা মোবাইল নম্বর দিয়েছে পোষ্টারে। দেরি না করেই পকেট থেকে মোবাইল বের করেই কল দিলেন নম্বরে।
সাথে সাথে কল রিসিভ করলো একটা ছেলে, কন্ঠ শুনেই বোঝা যাই সদ্য যৌবনে পা দিয়েছে সে।
- আসসালামু আলাইকুম
রাইহান সাহেব – রেগে রেগে উত্তর করলেন “ওয়া আলাইকুম আসসালাম”
- কে বলছিলেন ?
রাইহান সাহেব – তোমার লাল পোস্টারের পাশে যে “পোষ্টা্র লাগাবেন না লেখা” আছে আমি সে…
- ও আচ্ছা আপনি তাহলে ঐ ওয়াল পোস্টার ?
এই কথা শুনে রাইহান সাহেব তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন। আর বলে উঠলেন “চুপ একদম চুপ”।
সাথে সাথে ছেলে টা বলল
- বা-রে, আপনিই তো ব-ল-লে-ন।
রাইহান সাহেব – তুমি আমার বাসার দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছো কোন ?
ছেলেটার সরল উত্তর- ওথানে কোন পোস্টার লাগানো ছিলনা, আর দেয়ালে টা অনেক পরিষ্কার ছিলতো তাই।
এই কথা শুনে রাইহান সাহেব নিজের মাথার চুল ছিড়বেন না হাত-পা ছুড়ে কাঁদবেন বুঝতে পারছিলেন না।
রাইহান সাহেব ১০০০ ভোল্ট এর কন্ঠনিয়ে বললেন রাখ তুমি।
সাথে সাথে ছেলে টা বলে উঠলো
- আঙ্কেল… আঙ্কেল, প্লিজ রাখবেন না , দুটা কথা বলবো আপনার সাথে।
রাইহান সাহেব- রেগে চেঁচিয়ে বললেন, কি কথা বলতে চাও তুমি আমার সাথে ??
ছেলেটা খুব শান্ত গলাই বললো আপনি কয় তলাই থাকেন আঙ্কেল ??
রাইহান সাহেব- এই প্রশ্ন শুনে যেন বোকা হয়ে গেলেন। কিন্তু তিনি তো মচকানোর পাএ-নন, বরং তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন “কোন তোমার কি দরকার” ?
- না যদি বলতেন তা হলে ভাল হতো।
- রাইহান সাহেব উত্তর করলেন তিন তলায়।
-ছেলেটা সাথে সাথে প্রশ্ন করলো “আপনার বাসাই ইঁদুর আছে আঙ্কেল?”
রাইহান সাহেব আকাশ থেকে না, তার ও উপর থেকে পড়লেন মনে হয় !!!!!
- ইঁদুর??
- আমার বাসাই ইঁদুর আছে কি-না সেটা জেনে তুমি কি করবা ??
ছেলেটা বিপুল উংসাহ নিয়ে বলতে শুরু করলো “আমি ইঁদুর মারার জন্য বিড়াল ভাড়া দেই আঙ্কেল”
বলে কি এই ছোকড়া “ইঁদুর মারার জন্য বিড়াল ভাড়া” বাপের জন্মে দেখাতো চুলোই যাক চিন্তাই করতে পারি না। রাইহান সাহেব একটু আগ্রহী হলেন বিষয় টা জানার জন্য। তিনি প্রশ্ন করতে লাগলেন ছেলেটিকে।
- সত্যি-ই তুমি বিড়াল ভাড়া দাও ইঁদুর মারার জন্য।
- জী আঙ্কেল, সেই জন্যই তো আপনার বাসার দেয়ালে পোষ্টার মেরেছিলাম, দেখেন লেখা আছে “রেন্ট এ বিড়াল”
ছেলেটা বলতে লাগলো- আমার বিড়াল খূব ডিসেন্ট, সে ঘরবাড়ি নোংরা করে না, তার এক নং – দুই নং যেটাই বেগ পাক না কোন, সে সোজা ওয়াস রুমে চলে যাই, আর সে ইঁদুর মেরে খায়না, সেটা নিয়ে ফুটবল খেলে।
এই সব কথা শুনে রাইহান সাহেব অবাক হয়ে গেলেন, আর ভাবতে লাগলেন এটাও কি সম্ভব !!
তিনি কঠিন গলাই বলবেন “তুমি যা বললে সব সত্যি” ??
ছেলেটার সরল উত্তর- আপনি চাইলে আমি ভিডিও ফুটেজ দেখাতে পারি, আর সে যদি ইঁদুর না মারতে পারে আর ইঁদুর খাই তবে আপনি যে পেনাল্টি দিবেন আমি মেনে নেব।
রাইহান সাহেব আর একটু আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলেন- তোমার বিড়ালের মিশন চার্জ কত ??
ছেলেটা একটু লাজুক ভাবে বললে- আঙ্কেল, আমার বিড়ালের মিশনের জন্য কোন চার্জ নেই না । শুধু বিড়ালের সিকুরিটি চার্জ নেই… ১০০০ টাকা।
তবে একটা শর্ত আছে আমার জাম্বুর। এই জাম্বুটা আবার কে ?? বলে উঠলেন রাইহান সাহেব ।
ছেলে টা হাসতে হাসতে বলল না—না আঙ্কেল, জাম্বু টাই আমার বিড়াল।
রাইহান সাহেব গলা টানতে – টানতে বললেন ও তার নাম “জাম্বু”
তা কি শর্ত আছে তোমার জাম্বুর ??
- জাম্বু খাওয়ার ব্যাপারে খুব জেদি, তার পছন্দের খাবার না পেলে সে কিন্তু কোন কাজ করবে না।
রাইহান সাহেব তো এবার পুরাই বাওলা “তার আবার পছন্দের খাবার ও আছে ?”
- জী আঙ্কেল, আছে তো,
- সকালে খায় দুধ-ভাত, ১১ টার দিকে খায় বিস্কুট, দুপুরে- রান্না মাছ দিয়ে ভাত মাখা আর রাতে মাছের বারবি কিউ।
রাইহান সাহেব- বল কি তোমার জাম্বু মাছের বারবি কিউ ও খায় ??
ছেলেটা হাসতে হাসতে বলল না আঙ্কেল সেই বারবি কিউ না, কাঁচা মাছটা আগুনে ঝলসে দিলেয় হয়।
তা বেস ভাল লাগলো তোমার কথা শুনে, দেখি কবে আনতে পারি তোমার জাম্বু কে আমার বাড়ী।
ও আচ্ছা তোমার নাম টা তো জানা হলে না, বললেন রাইহান সাহেব।
“আমার নাম দ্রাঘিমাংশ”
এই পর্যন্ত কথা হয়ে থাকলো রাইহান সাহেবের সাথে দ্রাঘিমাংশ। দ্রাঘিমাংশ চোখয়ে এখন স্বপ্ন নতুন এবং প্রথম বিজনেসের। অবশেষে দ্রাঘিমাংশের বিজনেস শুরু হতে যাচ্ছে,
নবীন বিজনেস “রেন্ট এ বিড়াল, রেন্ট এ বিড়াল”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



