![]()
[আড়ালের অনুভূতি (পর্ব- ৪)- এর বাকী অংশ]
এই সব কিছুই আমি পুরোপুরি জানতে পারি অনেক পরে আর কিছু অবচেতন মনের স্মৃতির থেকে । বাকিটা শোনা আর কিছুটা বুঝে নেওয়া। এক সময় বড় চাচার বাড়ি-ঘর নিজের বাড়ি ঘর হয়ে গেলো। চাচাতে বড় ভাই-বোন হয়ে গেল নিজের ভাই বোন। আমার বড় মা সবাই কে বলতেন আমার তিন ছেলে মেয়ে আর আমার চাচাতে ভাই বোন সব সময় আমাকে তাদের ছোট ভাই হিসেবেই সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতো। চাচাতে শব্দ টা যে কখন ঘুচে গেল বুঝতেই পারলাম না। যদি ও বড় চাচা আমাকে কখন ও নিজের ছেলে বলেনি কিন্তু আমার জীবনে বড় চাচা আর বড় মায়ের ভুমিকা সব থেকে বেশি। কোন দিক দিয়ে আমাকে কুমতি রাখেনি তাঁরা। আমার স্কুলে র্ভতি, প্রতিদিন বড় বাবা নিজে আমাকে নিয়ে পড়তে বসানো, সুবিধা- অসুবিধা সব কিছু। এমন কি আমি অসুস্থ হলেও তিনি নিজে আমার কাছে থাকতেন রাতের পর রাত জেগে। যেটা ভাইয়ার ক্ষেএে ও করেননি। অবশ্য এই নিয়ে আমার ভাই বোন এর কোন ক্ষোভ ছিল না। সবাই জানতো বড় বাবা আমাকে একটু বেশিই ভালবাসতো। বড় বাবা আমাকে নিজে পড়াতেন। টিচার খরচ বাঁচানোর জন্য নয়, বরং তিনি চেয়ে ছিলেন আমাকে তাঁর নিজের মনের মত গড়তে। বড় বাবা ভাইয়াকে চেয়ে ছিলেন ক্যাডেটে র্ভতি করতে কিন্তু সেটা না হাওয়ায় আমিই ছিলাম শেষ ভরসা। আর বাড়ির কাছেই ছিলো ঝিনাইদহ ক্যাডেটে কলেজ। সেই সময় আবার ক্যাডেটে কলেজ গুলোর রেজাল্ট ভাল হতো ।
তাই তিনি সব সময় বলতেন “আমি চাই তুমি ক্যাডেটে র্ভতি হও”।
আমি যখন ক্লাস ফাইভ এর বৃত্তি পরীক্ষা দিলাম, পরীক্ষা শেষ হবার পর বড় বাবা আমাকে বলেছিলেন "যশোর শহরে এমন জায়গায় একটা বাড়ি কিনবো, যেখান থেকে তোমার ক্যাডেটের কোচিং করতে সুবিধা হয় "
তাঁর আস্থা ছিলও আমার উপর আমি বৃত্তি পাবো। পেলাম ও, সারা জেলার মধ্যে ৩য় হলাম। ততো দিনে আমি একমাএ যে বড় বাবা- মায়ের সাথে আছি। বড় ভাইয়া ততো দিনে পাইলট হয়ে গেছে আর চাকরি ও পেয়ে গেছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসে। বড় ভাইয়া পড়া শোনাই করেছিলো বিদেশে। আর আপু তখন পড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে “বোটানিতে”।
মজার ব্যাপার হল সেই সময় যশোর শহরের যারা মোটামুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে মেয়েদের পড়াতে চাইতেন তারা সবাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেউ প্রথমেই বেছে নিতেন । তাঁদের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলো দূর মনে হতো। হাতে গোনা দুই একজন পড়তো অন্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে। যদি ও এর পিছে অনেক বড় একটা কারণ ছিলো খারাপ যোগাযোগ ব্যবস্থা ।ঢাকা থেকে যশোর যেতে হতো বাসে না হয় প্লেনে। বাসে গেলে সময় লাগতো ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা আর প্লেনে সময় লাগতো ১ ঘণ্টা কিন্তু টিকেটের দাম অনেক ছিল যা সাধারণ পরিবার গুলোর মাসের বাজারের খরচের সমান। আর রাজশাহী থেকে যশোর যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ ভাল ছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে ছিল ট্রেন আর বাস। ট্রেনে সময় লাগতো ৩ ঘণ্টা আর ভাড়া ও কম ৮০ টাকার নিচে তার পর আবার স্টুডেন্ট হলে তো কথায় নাই। ভাড়া অর্ধেক......। তাই সবাই ট্রেন টা কেই বেছে নিতো আর বেছে নিতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে।
আমি বৃত্তি পাবার পর যশোর জিলা স্কুলে র্ভতি হলাম ক্লাস সিক্স এ। এর আগে আমি বড় মায়ের স্কুলে পড়তাম বকচরে। বকচর হচ্ছে যশোর শহর থেকে একটু দূরে, যশোর-খুলনা রোড এর পাশে। আমার বড় মা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। আর বড় বাবা চাকরি করতেন পোষ্ট অফিসে। সব কিছু মিলিয়ে আমার সুবিধার জন্য বড় বাবা একটা বাড়ি কিনলেন যশোর শহরে বেজপাড়ায়।
আমার জীবনের আর একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে দিলেন বড় বাবা আর মা। আর ও একটা দের খুলে দিলেন সামনে এগিয়ে যাবার।
এই সব কিছু ভাবতে ভাবতেই আবার উদ্দীপিতের মোবাইল টা বেজে উঠলো । কলার আর কেউ না - "ইলেকট্রনে প্রোটন নেই" বন্ধু - পাপন।
কল রিসিভ করতেই কোন সৌজনতা বোধ না করেই বলে উঠলো
- কি খাবি চা-কফি না কি কোল্ড ড্রিংকস ??
- তোর যা ভাল লাগে নিয়ে আয়।
- ওকে ।
কথাও শেষ লাইন কাটা ও সারা। সে এমনই... মানুষ যে কত অদভূত আর যে কোন ব্যাপারে কৌতূহলশূন্য হতে পারে সেটা পাপন কে না দেখলে বোঝা যাবে না।
চলবে-----

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


