
ঈদের দুই দিন সন্ধ্যা নামতেই কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে দিয়ে লোডশেডিং। আর ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত কারেন্ট বাবু পুরাই বেপাত্তা। গরম সিদ্ধ হওয়ার মতো অবস্থা এই আর কি! কারেন্ট আসা যাওয়ার ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগ সব সময় রহস্যময়। ভুতের ডেরায় ভূতের আক্রমণের ও সময় সীমা থাকে। তারা হয়তো মাঝরাতের দিকে আক্রমণ করে। কিন্তু আমাদের এই মহান দেশের লোডশেডিং এর কোন সময়সীমা নেই।
ডিজিটাল! ডিজিটাল!! ডিজিটাল!!! একই শব্দে কান ঝালাপালা। আরে ভাই খালি কি বিলের কাগজ এর ডিজিটালাইজেশন করলেই হবে, একটু লোডশেডিংয়ের ডিজিটালাইজেশন করুন না প্লিজ। বিদ্যুৎ বিলের প্রথমে হাতে লেখা কাগজ, পরে কম্পিউটারাইজড কাগজ, বিদ্যুৎ বিল কম উঠে এই অভিযোগে আপনারা এনালগ মিটার চেঞ্জ করে,নতুন ডিজিটাল মিটার লাগালেন। এখন আবার প্রিপেইড মিটারের কানাকানি শুনছি। আরে ভাই ঐদিকে লোডশেডিং এর দিকে একটু নজর দেন না প্লিজ। এত মান্ধাতার আমলের ই রয়ে গেল। ও এতে বুঝি আপনাদের কোন সমস্যা নেই। নাহ! সমস্যা তো হওয়ার কথা। যদি সবার সমস্যা হয় তাহলে একটা কাজ করলে কেমন হয় লোডশেডিং নিয়ে আপনার একটি মোবাইল ভিত্তিক অ্যাপ তৈরি করতে পারেন। সেই অ্যাপ দিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় প্রত্যেক দিনের লোডশেডিং সম্পর্কে জানা যাবে। এইটাও তো ভাই ডিজিটালাইজেশন। যদি আগেভাগে লোডশেডিং সম্পর্কে জানা যায় তাহলে অন্তত প্রস্তুতি নেওয়া তো যাবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ খুব অল্প সময়ই লোডশেডিং এর জন্য সতর্ক করে। একবার তো এমন হয়েছিল যে টানা তিন দিন ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং নেওয়ার পর চতুর্থ দিন শুনি বিদ্যুৎ বিভাগের মাইকিং। এই মাইকিং শুনে হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না।
দয়া করে আমাদের গ্রাহকদের কষ্টটা একটু বুঝুন। লোডশেডিংয়ের প্লিজ ডিজিটালাইজেশন করুন। আগামী এক মাসের লোডশেডিং এর অগ্রিম তালিকা তৈরি করুন। বেশি বিরতির লোডশেডিং এর ক্ষেত্রে আপনারা নির্দিষ্ট এলাকায় গ্রাহকদের মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে দিতে পারেন। যাতে তারা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে পারে। আর ছোট বিরোতির লোডশেডিং এর ক্ষেত্রে একটি তালিকা নিজস্ব ওয়েবসাইটে বা অ্যাপ এ রাখুন যাতে যে কেউ ইচ্ছা করলেই এ তালিকা আগেভাগে জেনে নিতে পারে। আরে ভাই ৬ মাস অন্তর অন্তর বিল বাড়াচ্ছেন, গ্রাহকদের সেবার মান তাও একটু বাড়ান না। তাহলে বিদ্যুৎ বিভাগের ডিজিটালাইজেশন গ্রাহকদের অনেক উপকারে আসবে আশা করি।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



