সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার মুঠোফোনে।
আর আমি তখন—
পদ্মা, মেঘনা আর ডাকাতিয়ার সঙ্গমস্থল
থেকে একটু পেছনে দাঁড়িয়ে,
বামদিকে নতুন ঘাটের নীরব প্রান্তে
দিগন্তের শেষ সীমারেখায়
একটি স্বপ্নের সলিলসমাধি দেখছিলাম!
অপেক্ষায় ছিলাম অস্ট্রিচ কিংবা লেপচার—
পৌঁছে যাব কীর্তনখোলার পাড়ে।
নিয়তির গতিপথ পাল্টে যাবে,
আমাদের পথও হয়তো বদলে যাবে—
কখনো ঝিকঝিক শব্দে ছুটে চলা ট্রেনে,
কখনো শহরের চেনা সিটি সার্ভিসে;
তবু পাশাপাশি থাকার
একটি ছোট্ট স্বপ্ন বুকে নিয়ে।
এই ছিল কি তবে---তোমার আমার সাতকাহন?
তুমি একদিন এসে দাঁড়ালে সেই মোহনায়—
যেখানে কত নদী এসে
নিজেদের নাম হারিয়ে ফেলে;
শুধু আমি ছিলাম না-সেই চেনা সীমারেখায়।
তুমি ছিলে, নদী ছিল, দিগন্ত ছিল—
শুধু ছিল না আমাদের
একসঙ্গে হেঁটে যাওয়ার সেই প্রতিশ্রুত পথ।
আজও কোনো পড়ন্ত বিকেলে
নদীর জলে সূর্যের শেষ আলো পড়লে
মনে হয়—
হয়তো সেদিনের সেই খুদে বার্তাটি
এখনো কোথাও ভেসে আছে,
কোনো অচেনা স্রোতের টানে
সমতট থেকে কীর্তনখোলা হয়ে সমুদ্রের পানে...
আর আমি—
আজও দাঁড়িয়ে আছি সেই মোহনায়,
একটি অসমাপ্ত যাত্রার স্মৃতি বুকে নিয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



