somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধু একজন

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



(এই লেখার সব চরিত্র সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কোন চরিত্রের সাথে বাস্তবে কারো মিল থাকলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও কা্কতলীয়। বাস্তবে এইসব চরিত্রের কোন অস্তিত্ব নাই)


আজ রিনার মন ভালো নেই। ওর ঘরের জানালা দিয়ে আকাশটা দেখা যায়। ও বাইরে তাকাল। আকাশে ঘন কালো মেঘ করেছে। যে কোন মুহূর্তে শুরু হতে পারে ঝড়ো বাতাস। গত বছরের এই দিনটার কথা ওর বড় বেশী মনে পরছে। এই দিনে রিনার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। সব ঠিক পথেই এগুচ্ছিল। হঠাৎ করে পাত্র পক্ষ বেঁকে বসল। বিয়েটা ভেঙ্গে গেল। এর আগেও এরকম হয়েছে। কিন্তু এইবার রিনা সত্যি সত্যি বিয়ের জন্য সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

বিয়ে ভাঙ্গার পর যথারীতি মনোয়ারা খালার আগমন। "কিরে রিনা কেমন আছিস? তোর বিয়ের কথা শুনেছিলাম। সেকি বিয়ে ভেঙ্গে গেছে? ওমা এত ভাল পাত্র হাতছাড়া হয়ে গেল? আর ওঁদেরই বা দোষ কি মা? তোর কপালই মনে হয় এরকম।..........." মনে হয় সব কিছুর জন্য শুধু রিনাই দায়ী। অথচ সবাই জানে ঠিক কেন ওর বিয়েটা প্রতিবার ভেঙ্গে যায়।

রিনা হিসাব মিলাতে পারে না। কেন বার বার এই একই ঘটনা ঘটছে? ওর চেহারা বা গায়ের রঙের জন্যতো ও দায়ী নয়। একজন মানুষের সব চেয়ে বড় পরিচয় কি তাঁর গায়ের রঙ অথবা তাঁর চেহারা? তাঁর চিন্তা, চেতনা, মননের কি কোন দাম নেই সমাজের কাছে?

রিনা ঠিক করলো ও আর বিয়ে করবে না। তবে কেন জানি এই দিনটার কথা ওর বারে বারে মনে পরছে। মায়ের ডাকে রিনা ভাবনার জগত থেকে ফিরে এল। "রিনা রিনা ছাদ থেকে কাপড় গুলো নিয়ে আয়তো মা। বৃষ্টিতে সব ভিজে যাবে যে।" "যাচ্ছি মা" একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে রিনা ছাদের দিকে রওনা হল।

খুব ছোট বেলায় রিনা ওর বাবাকে হারিয়েছে। মাঝে মাঝে ওর বাবার কথা মনে পরে। বাবা ওকে খুব আদর করতেন। ওর শত অন্যায় আবদারও বাবা হাসি মুখে মেনে নিতেন। একবার এইরকম ঝড়ের দিনে ছোট রিনার আইসক্রিম খাওয়ার শখ হয়েছিল। মা শুনেই প্রচণ্ড ধমক দিলেন। কিন্তু বাবা বললেন, " আচ্ছা ছোট মানুষ শখ করেছে। কি হয়েছে? আমি যাচ্ছি।" বলেই বাবা রিনার জন্য আইসক্রিম আনতে ছুটলেন। মা ছাতা আনার আগেই বাবা রওনা হয়ে গেছেন। সেইবার বৃষ্টিতে ভিজে বাবার আকাশ পাতাল জ্বর হয়েছিল। মা রাগী দৃষ্টিতে রিনার দিকে তাকালে বাবা বলতেন, "আমার মেয়েকে কিছু বলবা না।"

রিনা কাপড় নিয়ে ঘরে ঢুকল। জানালায় বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ হচ্ছে। কারেন্ট চলে গেছে। ও ওর বিছানার উপর বসলো। মাঝে মাঝে ওর বড় বেশী ক্লান্ত লাগে। রিনার পথ চলা শেষ হয় না। ও আবার উঠে দাঁড়ায়। এখানে থামলে চলবে না। ওকে এখনো যেতে হবে অনেকটা পথ। হয়তো একদিন রিনা তাঁর সকল প্রশ্নের উত্তর পাবে। সেদিনের জন্য আমরাও নাহয় অপেক্ষায় থাকলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:৩৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শোকের দিনে উল্লাস: শুরু হলো কখন থেকে?? বাংলাদেশের রাজনীতির নৈতিক পতনের এক কালো অধ্যায়

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩






বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, ছিল জাতির নৈতিক বোধের ওপর নির্মম আঘাত। একজন জাতীয় নেতার শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে একটি দলের নেত্রীর তথাকথিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেনারেশন গ্যাপ

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:১০


ভ্যানের বার্গার আর
ই-কোলাই গিজগিজ ফুচকায়
এই ভ্যাপসা বগলভেজা গরমে
সুগারদাদুর সাইড-চিক চটে গ্যাছে।
দাদু পুরান পাটের কারবারী—নাহ্ এ হবেনা
....
হঠাৎ সুগারপিতার ফোন—MNC এক্সিকিউটিভ
রিটার্ন অন ইনভেস্ট জানে।
আর ঐ বুড়োটা!
হাইড্রা-কেরাটিন-রিবন্ডিং—খরচ জানে?



ছুড়ে ফেলা বার্গার খুলে
সস্তা পামের মেয়োনিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে, পর সোনালি চেলি নব সোনাল ফুলে......

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:১৬


সেই ছোটবেলায় আমার বাড়ির কাছেই একটা বুনো ঝোপঝাড়ে ঠাসা জায়গা ছিলো। একটি দুটি পুরনো কবর থাকায় জঙ্গলে ছাওয়া এলাকাটায় দিনে দুপুরে যেতেই গা ছমছম করতো। সেখানে বাস করতো এলাকার শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডা. নাসিরের উপর হামলা কেনো?

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

শরিয়তপুর শহরের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ডাক্তার নাসিরের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি মানবতার সেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের নিরাপত্তার ওপর এক চরম আঘাত। সমাজ যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক টুকরা স্মৃতি!

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ১৭ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৪

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড। রাত ১১ টা। ইভিনিং এ ১২ বছর বয়সের মেয়ে ভর্তি হয়েছে। ইন্টেস্টিনাল টিবি’র কেস। বাচ্চাটা থেকে থেকেই চিৎকার করছে, আংকেল আমার ব্যাথাটা কমিয়ে দেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×