somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আমিই মিসির আলী
মিসিরআলীর ব্লগে স্বাগতম। মন্তব্য করে হিট দিয়া যান। আর ব্লগে না পাইলে ফেবুতে খোঁজ করুন : মুহাম্মাদ আরিফ হোসাইন ( ইংরেজীতে )

শীতে উষ্ণতার চাওয়া !! আধ্যাত্মিকতায় গফরার জুলেখারে পাওয়া!!

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিকদার চেয়ারম্যানের বড় মেয়ে জুলেখা। সুন্দরী, মর্ডান, স্মার্ট সব আধুনিক গুণে গুণান্বিত এই মেয়ে। তবে এই মেয়ের সবচেয়ে ভালো গুণ হলো নামাজ পড়েই হিন্দি সিরিয়াল দেখা :3!

আব্দুল গফুর সামাদ! লোকে গফরা কইয়া ডাকে। চেয়ারম্যানের ডান হাত। সিকদার মেয়া ১৫ বছর ধইরা এলাকার চেয়ারম্যান। সিকদারের বিপক্ষে কেউ ভোটে দাঁড়াইলে গফরা দুনিয়া থেইক্যা তাকে গুডবাই কইরা দেয়।

তখন ছিলো বর্ষাকাল। আজম খানের সেই বিখ্যাত গানটা তখন চা দোকান দখল করছিলো।
গফরা সেই গানের মর্মাথ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। সুযোগের সৎব্যবহার করাই যেন এই গানের মূল পতিপাদ্য বিষয়।

গফরা গানটা ফুরফুরে মেজাজে থাকলে গুনগুনায়। সিকদার মেয়ার বিষয়টা নিয়া মনে ভীষণ খকটা! ঘরে সুন্দরী মাইয়্যা! গফরা যদি কিছু কইরা বসে!!! সমাজে মুখ দেখাবে কি করে!! গফরা লম্পট বইলা খ্যাত। তারে স্পেশাল নজরে রাখে সিকদার চেয়ারম্যান।

গফরা জীবনে চিরকুমার থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। কিন্তু চেয়ারম্যানের মাইয়্যা টারে তার মনে ধরছে। মুনিবের মেয়ে! নজর দেয়া মহাপাপ :3 কিন্তু সময় এখন শীতকাল। :-p

উষ্ণতা খুঁজে বেড়ায় গফরার বিশাল দেহ। মনে মনে পণ করলো বিয়ে যদি করে তবে জুলেখারেই করবে! বিদেশী সিগেরেটটা জ্বালিয়ে পরিকল্পনা করতে লাগলো! সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না। আঙ্গুল অবশ্যই বাঁকা করতে হবে।

জুলেখা একা ঘুমায়। তার ঘরটাও আলাদা। চেয়ারম্যান বাড়ি নাই। টাকা দিয়া চাকর বাকরগুলারে কিন্না নিছে।

রাত ২:২০ মিনিটে গফরা লম্পট জুলেখার ঘরে টোকা দিছে। জুলেখার সাড়া শব্দ নাই। আবার টোকা দিয়া দরজার কড়া নাড়লো এবার জুলেখা সজাগ হইছে তবে শব্দ করে না। হিন্দি সিরিয়াল দেখা এই মেয়ের মাথায় বুদ্ধির ঢেঁকি!! ভুঁত ভাবিয়া এটাচ বাথরুমে গিয়ে অযু করে তাহাজ্জুদ নামাজে দাঁড়াইয়া গেল!

গফরা লম্পট দরজার ফাঁক দিয়া এক নজর দেখে নিলো। আকাশ ভাইঙ্গা পড়লো তার মাথায়। এখন কিছু করলে জান্নাত তো দূরে জাহান্নামেও ঠাঁই হবে না গফরার। চোর হইলেও ঈমানদার টাইপ অবস্থা। ২০ হাজার টাকা জলে গেল। জব্বর একটা সুযোগ ছিলো। গফরা কেন জোর গলায় ডাক দিলো না সে তা বুঝতেছে না।

গফরা লম্পট সেদিন আর কিছু করলো না। রাতে ঘুমিয়েছে হতাশা আর এক অজানা তৃপ্তি নিয়া। হয়তো জীবনে একটা ভালো কাজ করছে সেজন্য তার আত্মা খুশি।

গফরা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে সে গাছে বাঁধা অবস্থায় আছে। শরীরে কাপড় আছে শুধু একটা ছোট হাফপ্যাণ্ট! সূর্য এখনো উঠে নাই। হালকা কুয়াশা পড়ছে। পাঁচ ছয়টা বাচ্চা পোলাপাইন তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় গফরা ফ্যালফ্যাল কইরা তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। তারাও এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে গুফরার দিকে!

চেয়ারম্যানের চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় জল পড়ছে। জীবনের সব কুকর্মের ফল আজ ভোগ করতে হলো তার মেয়েকে। চেয়ারম্যান মেয়ের ঘরটার দিকে তাকিয়ে আছে আর চোখের জল ফেলছে!!

চারদিকে এখনো জানাজানি হয় নি। চেয়ারম্যান ধীরগতিতে তার মেয়ের ঘরের দিকে গেল। মেয়ে নামাজ পড়ে নামাজের বিছানায় বসে ছিলো!! রাতে ভূতের খটখট করা শব্দ সে এখনো মন থেকে সরাতে পারে নি।

সিকদার মেয়া দরজায় কড়া নাড়লো। মেয়ে চমকে উঠলো। সিকদার কাঁদো গলায় বলে উঠলো " জুলেখা মারেএএএ দরজা টা খোল মা ''

জুলেখা হকচকিয়ে তড়িঘড়ি করে দরজা খুলে দিলো। .
" কি হয়েছে আব্বু??

সিকদার মেয়া ভিতরের স্বাভাবিক অবস্থা দেখে কিছুটা চমকিত হলো।
" রাতে গফরা তোর ঘরে ঢুকছিলো??

না আব্বু! কি বলো এসব!! জানো রাতে আমার দরজায় ভূতে কড়া নাড়ছিলো! আমি ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। তখনই নামাজে দাঁড়িয়ে যাই। তারপর আর কোন শব্দ হয়নি।

সিকদারের মনে নতুন ভাবান্তর হলো। গফরার ভিতরে একটা ফেরেস্তা বসবাস করে। আর সে কি না কি ভাবলো।চাকর বাকর গুলাও বদের হাড্ডি!!! কি সব আজেবাজে কাহিনী বানাইয়া কইলো!!

সিকদার মনে মনে ঠিক করে ফেললো গফুরের সাথেই জুলেখার বিয়ে দিবে!

মাঘ মাসের ১৬ তারিখ। ধুমধাম করে গফুর আর জুলেখার বিয়ে হলো

হ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৮
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×