রাষ্ট্রপতির বিজয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে ঢুকতে দেয়া হয় নি মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক কে!
এ অপমান একজন মুক্তিযোদ্ধা কে আহত করেছে, কিন্তু বিনোদিত হয়েছেন এ দেশের সুশীল সমাজ ও আধুনিক প্রজন্মের অনেক ফেসবুক সেলিব্রেটি কে, বিনোদিত হয়েছেন অনেক চেতনাধারি দেশপ্রেমিক। বিনোদিত হয়েছেন সদ্য খাতিমান অনেক কলামিষ্ট মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের অনেকের মুসলমানিও হয় নি। যাদের অনেকের পরিবারে খোঁজ নিলে একজন মুক্তিযোদ্ধাও মিলবে না। অথচ মুক্তি যুদ্ধের চেতনার হাওয়া বইছে বিধায় তারা এক এক জন দু' কলাম লেখেই ২০১৫ সালের ডিজিটাল বীরশ্রেষ্ঠ হয়ে গেছেন। তাই অবলীলায় একজন বীর প্রতীক মুক্তিযোদ্ধা কে অবলীলায় তারা সমবেদনা জানাতে পারেন, তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে পারেন, চোর বলে গালি দিতে পারেন, এমনকি তাকে রাজাকার বলেও আখ্যা দিতে পারেন।
রাজনীতি এমন একটা জিনিস সেখানে সবই থাকে কেবল নীতি টা ছাড়া। সেই নীতি বিহীন কাজটি যা কিনা সকলেই করে থাকেন রাজনীতি তে, সেই কাজটির জন্য যেই ফেসবুকি ডিজিটাল বীরশ্রেষ্ঠের বংশে একটাও মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যাবে না, যার পরিবারের সবাই মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে কাটিয়ে এসেছে, সেও একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি ধৃষ্টতা দেখিয়ে মন্তব্য করতে পারে! অথচ তাকে অপমান করার, অপবাদ দেয়ার কারণ যদি এটাই হয়ে থাকে যে তিনি রাজনীতির কারনে জামাতের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন, তাহলে তো আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার চেয়েও বড় ভুলটা অনেক আগেই করে ফেলেছেন। ফরিদপুর অঞ্চলের কুখ্যাত 'নুরু রাজাকারের' নাতির সাথে স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর নাতনির বিয়ে দিয়েছেন!
রাজাকারের পরিবারের সাথে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের পরম আত্মীয়তায় এই যোগ সূত্রয় প্রমান করে রাজনীতি তে সব সম্ভব। আর সে কারনেই কুখ্যাত রাজাকার হওয়া সত্তেও যুদ্ধ অপরাধীর তালিকায় নুরু রাজাকার বা তার ছেলের নাম উঠেনি, একি কারণেই স্বাধীন বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজত্ব চলছে তখনও শুধুমাত্র আত্মীয়তার জেরে ফরিদপুর বরিশাল বাইপাস সড়কের নাম একজন রাজাকারের নামে ' নুরু মিয়া সড়ক' ! অথচ কি অদ্ভুত ভাবে এই ধৃষ্টতার প্রতিবাদে একটা শব্দও খরচ করতে দেখা যায় না সুশীল সমাজের কোন প্রতিনিধিকে, কোন বিখ্যাত মিডিয়াবর্গ কে। যেন বঙ্গবন্ধুর পবিত্র রক্ত একজন রাজাকারের দুষিত রক্ত কেও শুদ্ধ করে দিতে পারে অথচ একজন মুক্তিযোদ্ধা রাজনৈতিক কারণে রাজাকারের সাথে হাত মেলালে সে মুক্তিযোদ্ধার সম্মান হারায়! এতটাও তুচ্ছ তবে একজন মুক্তিযোদ্ধার সম্মান? অথচ দুপক্ষের পার্থক্য কেবল এটাই যে এদের একজন সমাজকল্যাণ পার্টির সভাপতি আর একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা!
সুশীল সমাজ আর ফেসবুকের এই বীরশ্রেষ্ঠরাই এদেশের সবচেয়ে বড় হিজড়া সম্প্রদায়। চেতনার 'চ' টাও যদি সত্যি তাদের ভেতর থাকতো তাহলে যে দোষে বঙ্গবন্ধু কন্যা কে তারা ছাড় দিয়েছেন, একই কাজের জন্য তারা একজন বীর প্রতীক কে রাজাকার বানিয়ে এভাবে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করতে পারতেন না!

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




