somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অল্পক্ষণের নিরাশার কথা

২৭ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'হুম।'
'তোমাকে ডিস্টার্ব করে থাকলে সরি।'
'দেখো, আর যাই করো, বেশি বুঝবানা। তাহলে কিন্তু মেজাজ খুব খারাপ হয়।'
'বেশি বুঝার কিছু নাই। আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাকে ডিস্টার্ব করছি। সে জন্য বললাম।'
'হুম।'

দুপুর থেকে ফেসবুকে বসে রয়েছি। ঘুম থেকে উঠেছি দেরি করে। আগের রাতে ঘুমিয়েছিও দেরি করে। ঘুম থেকে উঠে গিয়েছিলাম আইডিবিতে। একটা রাউটার আর কিবোর্ড কেনার খুব দরকার ছিল। ঈদের আগেরদিন আইডিবি বন্ধ থাকবে জানতাম না। শুধু শুধুই গিয়ে ঘুরে এলাম। আসার পর ল্যাপটপ খুলে বিছানায় আধশোয়া হয়ে পড়ে রয়েছি। ঘুমও আসছে না, কাজ করতেও ইচ্ছে করছে না। আগামীকাল কুরবানীর পরের হাজারটা কাজের কথা চিন্তা করে এখনই মাথা ধরতে শুরু করেছে। আমি এমনিতেও কথা কম বলি। 'হুম' হচ্ছে আমার সবচেয়ে বেশি বলা আর লেখা শব্দ। তাই কেউ আমাকে বারবার হুম বলতে দেখলে প্রায়ই ভুল বুঝে যে আমি এড়ানোর চেষ্টা করছি।

কিন্তু কয়েকদিন কথা বলার পর বুঝে যাওয়ার কথা যে 'হুম' হচ্ছে আমার সবচেয়ে বেশি বলা শব্দ। কিন্তু তাও না বুঝলে আমার আর কী করার আছে। তাই আমিও তর্কে গেলাম না। বিছানায় আধশোয়া হয়ে পড়ে রইলাম।

কিছুক্ষণ পরপর বাইরে থেকে ছাগলটার শুকনো গলা শুনতে পাচ্ছিলাম। ছাগলটা এবার আমরা কিনিনি। ভাবীর বাসা থেকে পাঠিয়েছে। আমাদের গরু কেনা হয়েছে আজ দুপুরে। আর ছাগলটা বাসায় এসেছে গতকাল সকালে। অনেকদিন পর ছাগল দেখে মজাই পেলাম। আম্মু মনে করিয়ে দিলো, ছোটবেলায় নানাবাড়ীতে গেলে ছাগলকে কলাপাতা খাইয়ে আমার একটা বড় সময় কাটতো। আম্মু বললো, কলাপাতা তো আর পাবি না, কাঁঠালপাতা পাস কি না দেখ।

আমি একটু হেঁটে গিয়েই কাঁঠালপাতা পেয়ে গেলাম। ছাগলের ছোট্ট একটা হাট। সেখানে বিক্রি করছে। ২০ টাকা দিয়ে কিনে এনে ছাগলটাকে খাওয়ালাম।

আজ দুপুরে আইডিবিতে যাওয়ার জন্য বের হওয়ার সময় দেখলাম ছাগলটা পান্তা ভাত খাচ্ছে। গতকাল রাতে ভাতের মাড়ও খেয়েছিল। তাই ভেবেছিলাম ছাগলটার খাওয়ার ঝামেলা শেষ। কিন্তু বারবার শুকনো কাশি শোনার পর আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম ছাগল কিছু খেয়েছে কি না। আম্মু বললো, কিছু খায়নি। সামনে দেখলাম অনেক কিছু দেয়া। গতকাল পেয়াড়া গাছের পাতা খেয়েছিল। আজ তাও খাচ্ছে না। যাই হোক, আমি ভাবলাম খিদে নেই তাই হয়তো খায়নি। গুরুত্ব দিলাম না।

এরই মাঝে দুলাভাইয়ের ফোন এলো। চশমা ঠিক করা লাগবে আমার। তাই সন্ধ্যার পরপর ফোন পেয়ে দৌড়ে গেলাম ।পরিচিত দোকান বলে সামনে বসিয়েই চশমা ঠিক করে দিলো। সেটা নিয়ে বাসায় ফিরলাম ১০টার দিকে। বারান্দায় এসে দেখি ছাগল অর্ধেক আমার রুমে ঢুকে আছে। বুঝলাম না, রশি এতো ঢিল হলো কীভাবে। তবে কাল রাতের একটা কথা মনে পড়লো। ছাগলটাকে কাঁঠালপাতা খাওয়ানোর কারণে ছাগলটা আমাকে ভালোভাবেই চিনেছিল। তাই রাতে যতোবার দরজা খুলেছি, ততোবারই ছাগলকে আমার রুমের দিকে এগিয়ে আসতে দেখেছি। লাগানোর সময়েও উঁকি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো।

ঘরে ঢুকে শুনলাম, ছাগল কিছুই খাচ্ছে না। কাঁঠালপাতা খাওয়ার পর এখন পাতাই খুঁজছে। পেয়াড়া পাতা দিয়ে কাজ হচ্ছে না। দেখলাম ছাগলটা আমার পায়ের কাছে শুঁকছে। মায়া লাগলো। বেচারা ছাগলটা নিশ্চয়ই আমার কাছ থেকেই খাবার খুঁজছে। হয়তো আশাও করেছে আজ বিকেলেও ওর জন্য কাঁঠাল পাতা নিয়ে আসবো। নিরীহ প্রাণীটার কথা ভেবে মন খারাপ লাগলো। তাই সঙ্গে সঙ্গেই বেরোলাম সেই ছাগলের হাটের উদ্দেশ্যে।

কিন্তু রাত দশটায় কি আর কাঁঠালপাতা বিক্রি করে! কোথাও পেলাম না কাঁঠাল পাতা। আশেপাশে যতগুলো হাট আছে গেলাম। গরুর জন্য খড় আছে, ঘাস বা পাতা পেলাম না কোথাও। পরে মনে হলো, গাবতলী তো কাছেই আছে। সেখানে নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। যতদূর মনে পড়ে, অনেক আগে একবার গরু কিনে আনার সময় ঘাস আর পাতার পসড়া দেখেছিলাম।

রাত দশটায়ই রওনা দিলাম গাবতলীর উদ্দেশ্যে। অনেক বছর পর গাবতলী গেলাম। বিশাল হাট। প্রচুর গরু। হাজার হাজার গরু ফেরত যাবে বোঝাই যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই অনেক বেপারীকে দেখলাম ট্রাকে গরু উঠিয়ে হাট ছেড়ে রওনা দিয়েছেন। একটু সাবধান থাকার চেষ্টা করলাম। পরিচিত একজন গরুর হাটে গিয়ে অসুস্থ হয়েছে। আর আমি এসেছি রাত দশটায়!

গরুর অভাব নেই। ছাগলেরও অভাব নেই। কিন্তু কোথাও ঘাসের সন্ধান পেলাম না। নেই কাঁঠাল পাতাও। হয়তো রাত হয়ে গেছে, তাই পসড়া উঠিয়ে বিক্রেতারা চলে গেছেন। রাত পোহালেই ঈদ। একদিনের জন্য কি আর কেউ ঘাস কিনবে নাকি!

কোনো উপায়ন্তর না দেখে পৌনে এগারোটায় মিরপুরে ফিরতি গাড়ি ধরলাম। বাঙলা কলেজের সামনে দিয়ে গাড়ি যখন তুমুল বেগে ছুটছে, তখন মনে মনে খুব খারাপ লাগছিল। ছাগলটা আগামীকালই হয়তো কুরবানী হয়ে যাবে। আজ সারাদিন নিশ্চয়ই সে আশায় ছিল তার সামনের রুমে থাকা ছেলেটা তার জন্য কাঁঠাল পাতা জোগাড় করে নিয়ে আসবে। তার এই আশাটা ভঙ্গ হলো। কারো খাবারের আশা ভঙ্গ হলে আমার এমনিতেই খারাপ লাগে। আর এ-তো ছাগল; অবলা এক প্রাণী। আজকের আমার ভুলটা শোধরানোরও কোনো উপায় নেই। এই উপায় নেই যে কাল থেকে নিয়মিত পাতা এনে খাওয়াবো। কারণ, আজই যে তার শেষ রাত।

ছাগলটার এই ক্ষণিকের নিরাশা আমার মন খুব খারাপ করে দিলো। একটা অপরাধ বোধ কাজ করতে শুরু করলো। জানি না, আল্লাহ মাফ করবেন কি না আমাকে।



প্রথম প্রকাশঃ ফেসবুক :: ব্লগ
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×