-অস্মিতা।
- মা।
- ইদানিং তোমার চলাফেরা আমার ভাল লাগছে না। রাত করে বাড়ি ফিরছ। এত রাত পর্যন্ত বাইরে কি কর?
- তোমার মেয়ের জামাইর সাথে থাকি।
- মানে?
- সোজা।
- ঠিকমতো উত্তর দাও।
- রাত পর্যন্ত বাইরে কি কর?
- মা, তোমার শাড়িটা পছন্দ হয়েছে?
- কোনটা?
- কাল যেটা এনে দিয়েছিলাম।
- হ্যাঁ হয়েছে। আবার কার ফোন রিসিভ করছ? ইদানিং ফোনে কথা বলার বাতিক হয়েছে তোমার। কার সাথে এত কথা বল?
- আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে।
- লজ্জা করছে না আমার সামনে এসব বলতে।
- হাহাহাহা........ আস্তে কথা বলো মা লজ্জা করবে কেন!!!!! সত্যি বলতে আমি লজ্জা পাইনা।
- আবার কথা বলছ?
- বাবার পাঞ্জাবীটা পছন্দ হয়েছে?
- হ্যাঁ হয়েছে।
- খেয়েছ?
- হ্যাঁ খেয়েছি।
- মা, আমাকে হাতখরচ দাওনা কতদিন?
- ২৬ দিন ২ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট।
- বেশ ভাল হিসেব রাখতো।
- হিসেব ভাল না রাখলে তোমাকে মানুষ করলাম কিভাবে। এবার আমার কথার ঠিকঠাক জবাব দাও। এত রাত পর্যন্ত বাইরে কি কর? এত কথা কার সাথে বল?
- মা, তোমার মাসে কত টাকা হাত খরচ লাগে?
- ২ হাজার ৮ শত ৮০ টাকা।
- এই নাও মিষ্টি খাও।
জোর করে মায়ের মুখে একটা মিষ্টি গুজে দিল অস্মিতা।
- আমাকে ঘুষ খাইয়ে লাভ হবে না।
- এই নাও তোমার হাত খরচের টাকা।
- সেদিন তুমি আমার থেকে টাকা নিয়ে হাত খরচ চালাতে আর আজ আমাকেই টাকা দিচ্ছ। এই টাকা কোথায় পেলে?
- এ মাসে প্রথম বেতন পেয়েছি, মা। তোমার দুঃখ ঘোচানোর একটা উপায় খুঁজে পেয়েছি।
আসমা বেগমের চোখের কোনায় এক ফোঁটা পানি সূর্যের আলোয় চিকচিক করছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



