আমি এই মৃত্যুর পক্ষের একজন মানুষ। মৃত্যু বড় রহস্যময় এক বিষয়। কখন সে আসে আর কখন সে যায় সেটা কেউ বলতে পারে না। যে ব্যাক্তি যেখানে মৃত্যুর ইচ্ছা পোষণ করে, সেখানেই মৃত্যু হওয়াটাকে আমি সৌভাগ্যের বিষয় বলে বিশ্বাস করি।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, যারা হজ্বে যায় তাদের জীবনের বৃহৎ খায়েসই থাকে হজ্বে গিয়ে ইন্তেকাল করা। কোন হিসাব নাই, দাঁড়িপাল্লা নাই, পুলসিরাত নাই, সরাসরি বেহেশতে। সুতরাং যে সকল হাজীরা মক্কায় গিয়ে পটল তুল্লেন তাদের জন্য মায়া কান্নার কোন কারন দেখি না। বরং শুকুর আলহামদুলিল্লাহ তাদের জীবনের শেষ ইচ্ছা খানা ১০০% পুরন হয়েছে।
মুমিনের হজ্ব, মুমিনের মক্কা, মুমিনের আল্লাহ, মুমিনের ক্রেন। আল্লাহ যদি ধাক্কা দিয়া ক্রেন ফ্যালায় দিয়েই থাকে তাতে তুমি বলার কে হে নাস্তিক??? আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের পাতা পর্যন্ত নড়ে না। হাজার টনের লোহার ক্রেন তো দূর কি বাত!!! এই উত্তম কথাটি কিন্তু জানিয়ে দিয়েছে নির্মাণকাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের এক প্রকৌশলী। সুতরাং কান্না কাটি করে সৌদি আরবের ভাব মূর্তি নষ্ট করে হজ্ব ব্যবসায় বাঁশ দিবেন না। প্লিজ!!!!!!!!!
নাস্তিক মানুষ ভিড়ের মাঝে যাইতে নাই। আমি যাইতেও চাই নাই। কিন্তু ইনবক্সে গুঁতানোর লোকের তো অভাব নাই। ইস্যু নিয়ে হিসু করা আমাদের মত ফেবু লেখকদের আবার ম্যালা দোষ। কিছু না কইলে আবার মুমিনরা গালি দিব। তাই কইলাম।
ইহা যদি কোন এঙ্গেল থেকে মনে হয় যে আরবের উদাসিনতা, দায়িত্ব হীনতা, বা অন্যায়। তবে আর জীবনে হজ্বে যাবেন না। এর থেকে এক দুইবার কাশ্মির ঘুরে যাবেন। কাশ্মির মক্কা থেকে কোন অংশেই অসুন্দর না। কাশ্মীরও মহান আল্লাহ্রই সৃষ্টি। আর যদি মনে হয় মানুষ খুন করা আল্লাহর আশীর্বাদ তা হলে আগামী বছরের হজ্ব টিকিট এখনি বুক দিয়ে রাখুন। ২০০৬ সালে মক্কায় দুর্ঘটনায় মারা যায় ৩৪০ জন হাজী। ২০১৫ তে মারা গেল ১০৭ জন। প্রতিবছর নানা দুর্ঘটনায় খুচরা খাচরা মৃত্যু তো আছেই। এর পরেও কেরও টনক নড়ে না।
যাই হোক, একবার ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখবেন- পর পর আগামী ৫০ বছর যদি মক্কায় হজ্ব না হয় তবে তাদের অর্থনীতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে?? তখন চাইলে আপনি নিজেই দুই চারখানা আরব দাস দাসী আপনার বাড়ির থালা বাসুন ধোঁয়ার জন্য কিনে আনতে পারবেন। আপনার মা বোনদের পাঠাতে হবে না আরবদের থালা ধুইতে। কিছু কি বুঝলেন????
দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। সেটা বলে কয়ে আসে না। দুর্ঘটনাটার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিলেই ঝামেলাটা মিটে যেত। কিন্তু তা না করে সব আল্লাহর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের দায়কে অস্বীকার করার মত নিচু মানসিকতা শুধু ধার্মিকদেরই পক্ষে সম্ভব। মানুষ এখনো কতোটা বর্বর। ছিঃ
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




