
-
এই ছবিটির অর্থ মহানুভবতা নয়.। এই ছবিটির অর্থ সামাজিক দায়বদ্ধতা। সমাজ থেকে ছিটকে পড়া একজন মানুষ, যার মুখশ্রী দেখে অন্যরা ভয় পায়, এড়িয়ে যায়। এমন একজন মানুষকে কিছুটা মানসিক শান্তি দিতে চেষ্টা করেছিলাম। সমাজের একজন মানুষ হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব।
এই মহিলাটি গ্যাসের চুলায় রান্না করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছেন। ফলাফল তো দেখতেই পারছেন। একটি অসতর্কতা তার জীবনকে এলোমেলো করে দিয়ে গেছে। এখন তার জীবন কাটে ভিক্কা করে। দিন শেষে যে ১০০-১৫০ টাকা পায় তা দিয়ে তার দুই সন্তান নিয়ে খেয়ে পড়ে, ঘর ভাড়া দিয়ে ঢাকার শহরে বাঁচতে হয়। ঢাকার শহরে বেঁচে থাকাটা কতোটা কঠিন সেটা নিশ্চয়ই আপনার অজানা না। তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তার অপরাধ তার ঘাড়ে জিন/ভুত/পেতাত্তা আছে। তার জীবনের এই দুর্বিশহ কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার কেউ নেই। তাই তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলেছিলাম। শুধু তাকে বুঝাতে চেয়েছিলাম, "আপনি এখনো বেঁচে আছেন এটাই অনেক বড় বিষয়। আপনি আর দশজন মানুষের মতই মানুষ। মানুষের সঙ্গ আপনার মৌলিক অধিকার।"
মহিলাটি এতো বাজে ভাবে ইঞ্জুর হয়েছেন যে, একটি হাত কেটে বাতিল করে দিতে হয়েছে। মানুষের জীবনে কুশিক্ষা কত শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে আছে তা ভেবে আমি অবাক হই। মিহিলাটি বিশ্বাস করেন তাকে ভূতে/ বোবায় ধরে পুড়িয়ে দিয়েছে। এই বিষয়টাকে ঢাল হিসেবে তার স্বামীও ব্যাবহার করেছে। ছেড়ে চলে গেছে।
মহিলাটি যখন আমাদের দিকে এগিয়ে আসছিল, ধানমন্ডি লেকের সবাই ভয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিল। আমার এক মেয়ে বন্ধু তো কষ্টে কেঁদেই ফেলেছিল। কারন সেও জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছে আগুনের লেলিহান শিখা কত ভয়ংকর হয়। আর সেই অভিমানী মেয়েটি, যার অভিমান ভাঙ্গাতে সেদিন লেকে গিয়েছিলাম। যে ভয়ে চোখ মেলে তাকাতেই পারছিল না। তাকে এটাই বলেছিলাম- "মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা কর। সেখানে কত কষ্ট, কত সুখ পাশাপাশি বসবাস করে। যদি না পার, তবে আমাকেও কখনো ছুঁতে পারবে না। কারন মানুষ বিনা আমার কাছে সবকিছুই অর্থহীন" ।
-
এই ছবিটা সকলের জন্য তিনটি ম্যাসেজ বহন করে।
১/ দয়া করে গ্যাস ব্যবহারে সতর্ক হন. নিজের নিরাপত্তার জন্য হলেও রান্না শেষে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দিন। রান্নার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন।
২/ এমন মানুষ দেখলে ভয় বা ঘৃনা করে দূরে ঠেলে দিবেন না। তাতে তিনি একা হয়ে পড়বেন। জানেনই তো মানুষ একা বাস করতে পারে না। মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। অনেক কিছু করার দরকার নেই। আপনার সীমাবদ্ধতার মাঝ থেকে যা করা যায়, ঠিক ততটুকুই করুন।
৩/ এই মহিলা চাইলেও আর কাজ করে খেতে পারবে না। তাই দয়া করে এমন মানুষকে কাজের প্রস্তাব বা পরামর্শ/ উপদেশ দিবেন না। যদি পারেন তাকে কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করুন। এই মানুষটা আমাদের সমাজেরই অংশ। তার ভালো থাকা না হোক, কিন্তু বেঁচে থাকাটা জরুরী। ভুলে যাবেন না, এই পরিনাম কাল আপনারও হতে পারে।
ঈশ্বর সবার মঙ্গল করুন....
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





