পাদুকা কাহিনী
০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
গত আগস্ট মাসে আমার এক খালাত ভাই আয়ারল্যান্ড হইতে দেশে বেড়াইতে আসিয়াছিলো, পায়ে ছিলো এক জোড়া নতুন জুতা। এক্কেবারে স্লীম, ঠিক যেন ঐশ্বরিয়া রাই। ওজনে খুব হালকা, ঠিক যেন প্রজাপতি। আমি তো প্রথম দর্শনে উহার প্রেমে পড়িয়া গেলাম। সাথে সাথেই আবদার করিয়া বসিলাম যাওয়ার আগে যাহাতে উহার মালিকানা আমাতে সমর্পন করিয়া যায়। খালাতভাই চলিয়া যাইবার সময় আমাকে কিছু বলিয়া যায় নাই। আমি ভাবিলাম, হয়তোবা তার শখের জুতা, তাই উহার মালিকানা হস্তান্তরে আগ্রহী নহে। সপ্তাহখানেক আগে ছোট মামা নিজের জুতা খুজিবার অভিপ্রায়ে পুরাতন জুতার বাক্স ঘাটিয়া সেই জুতার জোড়ার দর্শন পাইলেন এবং যথারীতি প্রেমে মজিয়া গেলেন এবং নিজের জুতা খোঁজা বাদ দিয়া উহা পরিয়াই অফিসে রওয়ানা হইলেন। আমি অফিস থেকে বাসায় ফিরিয়া শুনিলাম, খালাতভাই যাওয়ার আগে ব্যস্ততার কারণে আমাকে অবহিত করিতে পারে নাই যে, সে আমার জন্য জুতা জোড়া রাখিয়া যাইতেছে এবং খালাকে এ সম্বন্ধে বলিয়া গিয়াছে। কিন্তু খালামণিও সেই কথা ভুলিয়া গিয়াছেন। কিন্তু জুতা জোড়া দর্শনে খালার সেই কথা স্মরণ হইয়া গিয়াছে এবং আমি অফিস হইতে ফিরিবামাত্র আমাকে জানাইয়াছে। আমি আহ্লাদিত এ কারণে যে, যাক শেষাবধি জুতা জোড়ার মালিকানা আমি পাইতে চলিয়াছি; আবার কিছুটা শঙ্কিতও যে, মামা না আবার উহা দখল করিয়া বসে। অবশেষে পরদিন প্রাতে আমি মামার আগে আগে উহা পরিধান করিয়া অফিসে রওয়ানা হইয়া গেলাম। মনে হইতেছিলো যেন, পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়িয়া অফিসে যাইতেছি এবং এর পর প্রতিদিন সেই অনুভূতি আস্বাদন করিতেছি। অদ্য দ্বিপ্রহরে জোহর নামাযান্তে রাজউক মসজিদ হইতে বাহির হইবার প্রাক্কালে আবিস্কার করিলাম চোর বেটাও আমার জুতা জোড়ার প্রেমে মজিয়া গিয়াছে এবং দেরি না করিয়া উহার মালিকানা করায়ত্ত করিয়া লইয়াছে। আমি দুঃখী মনোরথে খালি পায়ে বাসায় ফিরিয়াছি, আর আল্লাহ্র কাছে চোর বেটার জন্য হেদায়েত প্রার্থণা করিয়াছি যাহাতে আমার মতো আর কাউকে এই রূপ দুঃখী না করে। উহার প্রেমে মজিয়া যাতে সে চুরি ছাড়িয়া দেয়। আমি কিছুতেই জুতা জোড়ার চেহারা মনের আয়না হইতে মুছিতে পারিতেছিনা। বারে বারে শুধুই তাহার কথা মনে পড়িতেছে। আল্লাহ্ চোর বেটাকে হেদায়েত নসীব করুণ। আমিন।
পুনশ্চঃ সাধু-চলিত মিশ্রণ দুষণীয় নহে।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির...
...বাকিটুকু পড়ুনএসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।
দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন
-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে...
...বাকিটুকু পড়ুন