গত আগস্ট মাসে আমার এক খালাত ভাই আয়ারল্যান্ড হইতে দেশে বেড়াইতে আসিয়াছিলো, পায়ে ছিলো এক জোড়া নতুন জুতা। এক্কেবারে স্লীম, ঠিক যেন ঐশ্বরিয়া রাই। ওজনে খুব হালকা, ঠিক যেন প্রজাপতি। আমি তো প্রথম দর্শনে উহার প্রেমে পড়িয়া গেলাম। সাথে সাথেই আবদার করিয়া বসিলাম যাওয়ার আগে যাহাতে উহার মালিকানা আমাতে সমর্পন করিয়া যায়। খালাতভাই চলিয়া যাইবার সময় আমাকে কিছু বলিয়া যায় নাই। আমি ভাবিলাম, হয়তোবা তার শখের জুতা, তাই উহার মালিকানা হস্তান্তরে আগ্রহী নহে। সপ্তাহখানেক আগে ছোট মামা নিজের জুতা খুজিবার অভিপ্রায়ে পুরাতন জুতার বাক্স ঘাটিয়া সেই জুতার জোড়ার দর্শন পাইলেন এবং যথারীতি প্রেমে মজিয়া গেলেন এবং নিজের জুতা খোঁজা বাদ দিয়া উহা পরিয়াই অফিসে রওয়ানা হইলেন। আমি অফিস থেকে বাসায় ফিরিয়া শুনিলাম, খালাতভাই যাওয়ার আগে ব্যস্ততার কারণে আমাকে অবহিত করিতে পারে নাই যে, সে আমার জন্য জুতা জোড়া রাখিয়া যাইতেছে এবং খালাকে এ সম্বন্ধে বলিয়া গিয়াছে। কিন্তু খালামণিও সেই কথা ভুলিয়া গিয়াছেন। কিন্তু জুতা জোড়া দর্শনে খালার সেই কথা স্মরণ হইয়া গিয়াছে এবং আমি অফিস হইতে ফিরিবামাত্র আমাকে জানাইয়াছে। আমি আহ্লাদিত এ কারণে যে, যাক শেষাবধি জুতা জোড়ার মালিকানা আমি পাইতে চলিয়াছি; আবার কিছুটা শঙ্কিতও যে, মামা না আবার উহা দখল করিয়া বসে। অবশেষে পরদিন প্রাতে আমি মামার আগে আগে উহা পরিধান করিয়া অফিসে রওয়ানা হইয়া গেলাম। মনে হইতেছিলো যেন, পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়িয়া অফিসে যাইতেছি এবং এর পর প্রতিদিন সেই অনুভূতি আস্বাদন করিতেছি। অদ্য দ্বিপ্রহরে জোহর নামাযান্তে রাজউক মসজিদ হইতে বাহির হইবার প্রাক্কালে আবিস্কার করিলাম চোর বেটাও আমার জুতা জোড়ার প্রেমে মজিয়া গিয়াছে এবং দেরি না করিয়া উহার মালিকানা করায়ত্ত করিয়া লইয়াছে। আমি দুঃখী মনোরথে খালি পায়ে বাসায় ফিরিয়াছি, আর আল্লাহ্র কাছে চোর বেটার জন্য হেদায়েত প্রার্থণা করিয়াছি যাহাতে আমার মতো আর কাউকে এই রূপ দুঃখী না করে। উহার প্রেমে মজিয়া যাতে সে চুরি ছাড়িয়া দেয়। আমি কিছুতেই জুতা জোড়ার চেহারা মনের আয়না হইতে মুছিতে পারিতেছিনা। বারে বারে শুধুই তাহার কথা মনে পড়িতেছে। আল্লাহ্ চোর বেটাকে হেদায়েত নসীব করুণ। আমিন।
পুনশ্চঃ সাধু-চলিত মিশ্রণ দুষণীয় নহে।
আলোচিত ব্লগ
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।