somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাত দেবার ভাতার না কিল মারার গুশাই

০২ রা জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একুশে টেলিভিশনে গতকাল সোমবার রাতে একটি টক শো অনুষ্ঠানে ‌"বাকপটু" আনিসুল হকের বিভিন্ন কথা শুনে হতবাক হলাম। আনিসুল হকরা বাংলাদেশে যত ধনী হয়েছেন দেশের অন্যকোনো শিল্পখাতে তা হয়নি। বাংলাদেশে সবচেয়ে দামি গাড়িগুলো চড়েন উনারা। নিদেন পক্ষে দেশের সবচেয়ে দামি স্কুলে পড়েন তাদের সন্তানেরা। আর বেশিরভাগ পোশাক শিল্প মালিকের ছেলেমেয়েরাতো বিদেশে পড়াশুনা করেন।
আনিসুল হকসহ সব পোশাক মালিকদের ট্যাক্সফাইল তলব করা উচিত। এদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে ট্যাক্স মেলানো উচিত। তাতে পোশাক শিল্প মালিকরা কি পরিমাণ ইনছাফ করেন দেখা যাবে।
আনিসুল হক গতকাল আলোচনায় ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের কাছে (যদিও এইসব ইউনিয়ন নেতাদের নিয়ে অনেক প্রশ্ন ও বিতর্ক আছে...) অনুযোগ করেছেন কেন তারা শ্রমিকের দক্ষতা বাড়াতে ভুমিকা নেন না! বাহ আনিসুল হক বাহ্.. ‌"ভাত দেবার ভাতার না, কিল মারার গুশাই"। ১৬৬২.৫০ টাকা দিতে চান না আবার দক্ষতা চান।
এক সাংবাদিক বলেছিলেন.."ফরচুনা গার্মেন্টস দেশের অন্যতম বড় পোশাক শিল্প কারখানা। সেখানে বেতন দেওয়া হয়নি।" আনিসুল তার আগে বলেছিলেন "যারা পারছেন না তারা দিচ্ছেন না। এদের সংসারও ভালো চলছে না।" ধন্যবাদ সাংবাদিককে।
ফরচুনার মালিক হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার তাহের। যিনি বিজিএমইএ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য নির্বাচন করেছেন। নেতা গোছেন কেউকেটা। টাকার পাহাড় বানিয়েছেন। কিন্তু শ্রমিকদের টাকা দিতে চায় না। খাসলত খারাপ।
সব পোশাক মালিকদের খাসলত খারাপ। এরা শ্রমিকদের বাসার চাকরের মত ভাবে। নিজেদের ভাবে প্রভু। দাস-প্রভু ভাবতে গিয়েই বেশিরভাগ কারখানাতে মালিকেরা শ্রমিকদের বিদ্রোহ করতে বাধ্য করেছে। পোশাক শিল্প মালিকদের দম্ভ দেখলে মনে হয় তারাই দেশের মা-বাব।
কত টাকার ইনসেনটিভ এরা খেয়েছেন, কত হাজার টাকার অবৈধ কোটা ব্যবসা করেছেন তার ইয়াত্তা নেই। আর বন্ডেড ওয়ার হাউজের কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি করে ধুমায় বড় লোক হয়েছেন। সবই চোট্ঠামি।
গার্মেন্টস মালিকদের ব্যাক টু ব্যাকে আসা মালামালের কন্টেইনার ফাঁকা পাওয়া গেছে এমন সংবাদ পত্রে ছাপা হয়েছে। আরো অজস্য ফাঁকি, দুই নম্বরীর চুড়ান্ত তারা। আর প্রায় প্রতিজন পোশাক শিল্প মালিকদের বিদেশে ব্যাংক ব্যালাঞ্চ আছে। ওভার ইন ভয়েজ করে ব্যাক টু ব্যাক ও আন্ডার ইন ভয়েজ করে রপ্তানিতে তারা মুদ্রাপাচার করেছেন। আরও সঙ্গে আছে স্টক লট। এসব এখন শক্তভাবে ধরা উচিত। তাহলে দেখবেন শুড় শুড় করে ১৬৬২.৫০ টাকা দিয়ে দেবে।
যৌথবাহিনী যদি এসব বিষয়ে একটু তদন্ত চালায় তাহলেই সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। বহু পোশাক মালিকের বাইরে কারখানা আছে। কেউ আবার নিজেই দম্ভ করে বলেছেন তার কারখানা দেশের বাইরেও আছে। সেখানেতো কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। দৈনিক প্রথম আলোতে গত বছরের জুন মাসে এক গোলটেবিল বৈঠকে বিজিএমইএর এক সাবেক সভাপতি এসব তথ্য দেন। যা প্রথম আলোতে ছাপা হয় লিড সংবাদে। এগুলো এখন যৌথবাহিনীর ধরা উচিত।
বাংলাদেশের ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অনুসারে কারেন্ট একাউন্ট করভারটেবল। ক্যাপিটাল একাউন্ট নয়। ফলে এখানে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বাইরে বিদেশ ভ্রমন এবং অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া যায়। কিন্তু কোনোভাবেই ক্যাপিটাল ট্রান্সফার করা চলে না। নাইরোবি, মরিসাস ও ক্যারিবিয়ান যেসব রাষ্ট্রে আমেরিকা ডিউটি ফ্রি সুবিধা দিয়েছিল সেসব দেশে আমাদের পোশাক শিল্প মালিকদের একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অংশ মালিক কারখানা বানিয়েছেন। আর ইংল্যান্ড আমেরিকাতে অনেকের বাড়ি আছে। এদের মুলধন এখন রিকল করা উচিত। কেবল রাজনীতিবিদরা মুদ্রাপাচার করেনি। গার্মেন্টস মালিকরা সব চেয়ে বেশি মুদ্রাপাচার করেছেন।
প্রিয় ব্লগার এগুলো গল্প না সত্য। কিন্তু হয়ত অনেকের জন্য বিরক্তিকর।তারপরও বলতে চাই এগুলো বিষয়ে এখন সবর্ত্র সোচ্চার হওয়া জরুরী। কারোর ধৈয্যচু্যতি হলে ক্ষমা করবেন।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×