
কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার বরের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরাকের সাদ্দাম হোসেন আর মার্কিনিদের বুশকে নিয়ে।
টিভি চ্যানেল বলতে ওই এক খানি তখন বাংলাদেশ টেলিভিশন। আমরা খবরের সময় সব কাজকর্ম ফেলে ছুটে এসে জুড়ে বসতাম টেলিভিশনের সামনে। একদম কথাবার্তা খাওয়া-দাওয়া আলোচনা সব কিছু বন্ধ- হা করে গিলতাম শুধু সাদ্দাম আর বুশের যুদ্ধের খবর। লাভলু নামে কাজের ছেলে ছিল কিন্তু শুধু খাবার সময় ছাড়া ওকে খুঁজে পাওয়া ভার ছিল। সারাদিন আদার বাদাড়ে ঘুরে বেড়ানো, ও গুলি ডাঙুলী সাত চারা খেলা নিয়ে ব্যাস্ত থাকত-তবে টিভি খুললেই সে ম্যাজিক এর মত হাজির হয়ে যেত। অন্যসব অনুষ্ঠান যাই হোক তবে খবরের সময় সে টুপ করে ফের হারিয়ে যেত।
কিন্তু হঠাৎ করে বুশ- সাদ্দামের খবরের অনুরক্ত হয়ে পড়ল সে। খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতে খবরের পুরো সময়টা বসে থাকে। আমরা ভাবছিলাম যাক ওর এত দিনে বুদ্ধি-শুদ্ধি হল, গ্রাম দেশ ছাড়িয়ে এসে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পা দিয়েছে।
হঠাৎ একদিন খবরের মাঝখানে খুব সিরিয়াস ভূমিতে আমার ছোট ভাইকে জিজ্ঞেস করল মামা, আমার ছোট ভাই আরও বেশি সিরিয়াস বলল -কি বল?
মামা এই যে বুশ বুশ করতেছে সারাদিন, আপনারও দেখি সারা দিন বুশ আর সাদ্দামের গল্পই করেন। এরা কি কোন দ্যাশ না মানুষ?
***
আমি তখন গানের লিরিক্স লিখতাম, ঠিক তখনকার মত স্বপ্ন ছিল ভালো একজন গীতিকার ও মিউজিশিয়ান হওয়া। এই চক্করে কিছুদিন পিয়ানো ও শিখেছিলাম।
দিন চলে গেল ... আমার স্বপ্নগুলো পাল্টে গেল। আর গানগুলো বাক্স বন্দি গেল!
এরপর অনেক বড় বড় গায়ক মিউজিশিয়ানের সাথে পরিচয় গল্পস্বল্প আলাপচারিতা হয়েছে। লজ্জায় কখনো কাউকে বলতে পারি নাই যে আমি একসময় লিরিক্স লিখতাম, সে গুলো দু-চারটে একদম মানহীন ছিল না।
এ আই দেহ পরিবার সমাজ ধর্মবন্দী কর্মবন্দি একঘেয়ে জীবনে অনেক মানুষের অনেক লুকিয়ে রাখার স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রেই এত সহজে সবকিছু হয়ে যাবে যা ভাবা যায় না।
প্রথমে আমার চেনাজানা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে তার একান্ত বাধ্যগত ছাত্রের মত জেনে নিলাম উপায় কি?
সে আমাকে কিছু কৃত্রিম সুপার জিনিয়াস মিউজিশিয়ানদের ঠিকানা দিয়ে বলল, কিভাবে কি করতে হবে!
লিরিক্স এর সাথে অল্প কিছু প্রোম্পট আর হালকা একটু নিজের মিউজিককি আসে যায় সেন্স এগুলো জুড়ে দিলে চমৎকার কিছু জিনিস বের হবেই।
একেক বারে চার ধরনের মিউজিক কম্পোজিশনে এবং চার ধরনের কন্ঠে গান দেয় সে। যেটা পছন্দ সেটা বেছে নিলে হয় আর না পছন্দ হলে এরা আবার শুরু করে নতুন করে। আমার মত বাচ্চা তার হাতে খেলনা পেয়ে গেছে- এখন রুখে কার সাধ্যি!
নিচের লিংকটা জুড়ে দিলাম গানটা শুনে বলুন তো আসলেই কি আমরা হেরে যাচ্ছি ; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে??
কি আসে যায়
ফুটনোট: লিরিক্স এ আগে সাদ্দাম আর বুশের কথা লিখা ছিল, এখন সেটা পাল্টে দিয়েছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



