আমাদের পরিবার, আমাদের সমাজ, আমাদের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের গড়ে দেয়া বনিয়াদের উপর আমাদের পরিচিতি তৈরি হয়। কত স্বাভাবিক একটা বিষয়! নিজেদের জীবনের নানা ঘটনা বলা সময় সময়টাকে আমরা দুইটা ভাগে ভাগ করি। একটা বোঝার বয়স হউয়ার আগে, আরেকটা যখন বুঝতে শিখেছি। কি দারুন বিভাজন। সাদা কথায় ধরে নেয়া যাক, বুঝতে শেখার পরে যা কিছু করেছি তাঁর ইতিহাস আমি নিজেই বয়ান করতে পারি। কিন্তু এই বুঝতে শেখা কি পক্ষপাতিত্বমূলক হতে পারেনা? হতেই পারে। পক্ষের বাইরে যাওয়া খুব কঠিন। আমি মাহে মাহে তালগোল হারিয়ে ফেলি। মানুষ বলে শোনা কথায় বিশ্বাস করতে নেই। করলাম না। দেখে বিশ্বাস করব? যা দেখি তাঁর পুরোটাই কি সত্যি? বা যা দেখে সত্যি মিথ্যা নির্ধারণ করি সেটাই কি পুরোটা? ঘটনা কিছু তো আড়ালে রয়েও যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছিলাম, আংশিক সত্য। জীবনে যা দেখছি, কোনটাই পুরো সত্য নয়। যা দেখি সবি আংশিক সত্য। পক্ষপাত বিহীন জীবন অকল্পনীয়। বিশ্বাসের মজবুত ভিতের পিছেও রয়েছে পক্ষপাতদুষ্টটা আর আংশিক সত্যের ছায়া। আমি যখন বলি যে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় আমিতো এ দুনিয়ায় ছিলাম না। আমার পরিবার ছিল এর পক্ষে। কেও যুদ্ধ করেছে, কেও আন্দোলন করেছে, জনমত গঠন করেছে। আমার নির্বাচন কি পক্ষপাতমূলক নয়? আমার পারিবারিক শিক্ষা থেকে এর বীজ আমার শিকড়ে প্রোথিত। ভালো মন্দের বিচার, সেটাও তো পারিবারিক-সামাজিক-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে প্রাপ্ত। পরিবারে যখন অনাচার দেখি, সমাজে কলুষতা দেখি, প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দেখি তখন আমার বিশ্বাসের ভিত দুর্বল হতে শুরু করে। বিশ্বাস করার মত সত্তা খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে উঠছে দিন দিন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৭:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




