অলসতা খুব আশ্চর্য একটা জিনিস। একবার শুরু হলে থামতে চায়না। না, মানে এটা কোন অনুভুতি না। আসলেই কি? এসব ভাবতে ভাবতে কিরি বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে থাকে। আজ ছুটি। আজও ছুটি। এই অফিসে সপ্তাহে দুদিন ছুটি পাওয়া যায়। শুক্রবার কেমন যেন দেখতে না দেখতে, বুঝতে না বুঝতে কেটে যায়। শুক্রবারটা বরাবরই আলসেমিতে কাটে কিরির। কিচ্ছু করতে ইচ্ছে হয়না। তাছাড়া দিনটাও কেমন জানি চতুর টাইপের, খুব তাড়াতাড়ি এসে চলে যায়। ছোঁয়াছুঁয়ি খেলার মত। মাথার কাছ থেকে ফোনটা টেনে নিয়ে নোটিফিকেশন গুলো দেখতে থাকে কিরি। এটা ওর অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলেও মাথার কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে সব নোটিফিকেশন চেক করে সে। কেউ অনলাইনে উপস্থিতি জানান দিলে রাত কেটে ভোর হয়ে যায়। আর ঘুম হয়না। সেসব কথা আরেকদিন হবেখন। সাতসকালে এতগুলো নোটিফিকেশন, মানেটা কি? বুঝতে পারেনা কিরি। হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জার, ইনবক্স খুদেবার্তায় ভর্তি। 'শুভ জন্মদিন' কিরি! আজ তোমার জন্মদিন। এমন না যে কিরি ভুলে গিয়েছিল! কাল রাতেই তো শোবার সময়ে ইরি ফোন করেছিল। রাত এগারোটা উনপঞ্চাশ মিনিটে খুদেবার্তা দিয়ে আঁশ মেটেনি। শুভেচ্ছা যথাসময়ে পৌঁছেছে কিনা তা যেন নিশ্চিত হয়ে নিতে চায়। এসব উপলক্ষ উদযাপন কিরির কাছে খুবই একটা ঝামেলার বিষয় মনে হয়। তাছাড়া ইরির এরকম বারবার হানা দেয়াটা কিরির কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠছে আজকাল। এরপরও শুরুতেই হোয়াটস অ্যাপ খুলে ইরির শুভেচ্ছা বার্তা দেখে কিরির মেজাজ সপ্তমে চড়ে গেল। 'ধুর' বলে মুখ দিয়ে একটা বিরক্তির শব্দ উচ্চারন করে বিছানা থেকে উঠে বসলো কিরি। সময় কত দেখা হয়নি। উঠে গিয়ে জানালার পর্দা সরাতেই ভোরের অপুর্ব আলোয় চোখ ঝলসে গেল যেন। সূর্য সবে উঠতে শুরু করেছে। একবিন্দু আলোর ফোটা একশো আশি ডিগ্রি এঙ্গেলে ছড়িয়ে আকাশটাকে রহস্যময় করে রেখেছে। কি নরম আভা। মনের অজান্তেই কিরির মুখেও একবিন্দু হাসির ছটা ঝিলিক দিয়ে গেল। ফোনটা নিয়ে এসে এই আকাশের ছবি তুলে নিল সে। তারপরই ফোনে এত এত নোটিফিকেশন দেখে একটা দমবন্ধ করা অনুভূতি হল কিরির। নাহ, ইরিকে একটা কিছু বলতেই হবে আজকে!
ইরি আর কিরি দুই বন্ধু। সাতবছর একসাথে পড়াশুনা করলেও বন্ধুত্বের বয়স ছয়বছর। আর ভালবাসা পাঁচ। বলুন তো ইরি আর কিরির মাঝে কে ছেলে আর কে মেয়ে?

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৯:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




