যাদের ঘণ্টা খানেকের কর্মবিরতিতে মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না, তাদেরকে সুশৃঙ্খল বাহিনীগুলোর মত কড়া, সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা, বিধিনিষেধ, নিয়মকানুনের আওতায় আনা হোক। ডাক্তাররা কি কোনো সশস্ত্র বাহিনীর চেয়ে কম শক্তিশালী? যে নিয়মানুগ প্রক্রিয়ায় ডাক্তারদের প্রশিক্ষিত করা হয়, সেটি কি অমানবিকীকরণ প্রক্রিয়া নয়? অতএব এইসব মানবিকতা, গায়েবিয়তার কথা বলে বলে মুখে-মাথায় ফ্যানা তুলে ফয়দা নাই। মানুষের জান রক্ষা-রক্ষণাবেক্ষণ করা ডাক্তারদের গুরুদায়িত্ব এবং তা পালনে তারা বাধ্য। আর স্বাভাবিকভাবেই, সুশৃঙ্খল করতে তাদেরকে যখন জনসাধারণের সঙ্গ-সংসর্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে, কঠিন বিধিনিষেধ-নিয়মকানুনের আওতায় আনা হবে তখন তেমন সুযোগসুবিধাও তারা পাবে!
আর যদি এমনটা করা না যায়, তাহলে, সোজা কথা: তাদের সাথে বচসা-বাহাসে অবতীর্ণ হওয়া নয়। যারা হবে, তাদেরই দোষ; তারাই সাধারণ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলার জন্য দায়ী হবে। ডাক্তারদের গায়ে হাত দেবেন; তাদের কর্মক্ষেত্রে ভাঙচুর করবেন; কিন্তু তারা যখন ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে কর্মবিরতিতে যাবেন তখন তারাই শুধু জানোয়ার বনে যাবে, এটা ক্যামন কথা? তারাও রক্তমাংসের মানুষ। বরং অমানবিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে বের হয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন প্রকৃতির মানুষ। তারা প্রতিটি, প্রত্যেকটি দিন রক্ত দ্যাখে, ফিনকি দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তধারা দ্যাখে, মারাত্মক আহত মানুষ দ্যাখে, জীবনের জন্য মানুষের আকুতি, বাঁচার জন্য কাকুতিমিনতি দ্যাখে, মানুষের মৃত্যু দ্যাখে, শিশুর মৃত্যু দ্যাখে, শিশুকে অনাথ করে যাওয়া মায়ের মৃত্যু দ্যাখে। So don't mess with them.
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৪ সকাল ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



