somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাম্প্রতিক বাংলাদেশে উচ্চ আত্মহত্যাপ্রবণতার স্বরূপ উন্মোচন

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শোনা গেল লাসকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে— ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হ’লো তার সাধ

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাস তার আট বছর পরে শীর্ষক কবিতায় এভাবেই হয়তো তার কোনো নিকটজনের আত্মহত্যার প্লট তুলে ধরেছিলেন , কিন্তু আশ্চর্য কি ভাবতে ভাবতে বা ভাবনায় তিনি নিজেও তার জীবনকে চলন্ত ট্রামের নিচে বিসর্জন দিয়ে গেলেন ।
নির্বাচনের এই ডামাডোলের মধ্যে আপনারা খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা , সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় বনানী থেকে মহাখালী : আত্মহত্যার বদ্ধভূমি নামে একটা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে , লেখক খুব গুরুত্বসহকারে বনানী থেকে মহাখালীর দিকে যেই রেলক্রসিং গেছে তার নিকটবর্তী চা দোকানিদের কাছে জিজ্ঞাসা করে জানতে পেরেছেন প্রকৃত অবস্থাটা কি ! প্রতি সপ্তাহে এখানে কেউ না কেউ আসে আত্মহত্যা করতে , কি তরুণ , চাকরি হারানো মাঝবয়সী লোক কেউ বাদ যায় না ।কাউকে হয়তো ফেরানো গেছে আর কেউ হয়তো জীবনকে দিয়ে যায় রেলের চাকার নিচে ! কোন হতাশায় স্বীয় প্রাণ সংহারী এই মানুষগুলো ??????

আমরা এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি , এক অদ্ভুত গ্রহণকাল চলছে বাংলাদেশে ,সবাই এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত , আমাদের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা এক বিশাল বেকার জনগোষ্ঠী তৈরী করেছে যার মধ্যে বিশাল সংখ্যায় উচ্চশিক্ষিত বেকার , কাঙ্খিত চাকরি না পেয়ে এসব বেকার তরুণেরা হতাশ । বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি আমাদের কারো অজানা নয় , সবার একইরকম আর্থিক সামর্থ থাকেনা , যখন তারা দেখে পাশের বাড়ির ছেলেটি কিংবা পরিচিত বন্ধু যোগ্যতাসম্পন্ন না হয়েও কেবল অর্থ আর খুঁটির জোরে চাকরি পাচ্ছে তখন এসব অসফল তরুণদের মনে বাসা বাধে একরাশ অতৃপ্তি আর হতাশা , পরিবার কিংবা বন্ধু সবাই এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করে , যার ফলে প্রথমে মনে জন্ম নেয় ক্ষোভ , একসময় পরিণত হয় হতাশা আর সবশেষে আসে বিষাদ । আর এই সময়ই তার নিজের জীবনকে নিজের কাছে তুচ্ছ আর অর্থহীন লাগে , আশা করার জায়গা গুলো ভরসা করার মানুষগুলো থেকে অবদমনের শিকার হয়ে সে কোনো আলো দেখতে পায়না , এই অবস্থায় আমাদের নার্ভাস সিস্টেমে হতাশা সৃষ্টিতে সহায়ক হরমোনের ক্ষরণ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে হয় , একপর্যায়ে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে আত্মহত্যা করে বসে । সম্প্রতি ঢাকায় অবস্থানরত আমার জুনিয়র এক পরিচিত ছেলের সাথে কথা হচ্ছিলো , কথায় কথায় সে বললো . তাদের পাশের বাড়ির এক ছেলে বিসিএস প্রশাসন এ ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে , সেই দেখাদেখি তার পরিবার থেকে চাপ আছে তাকেও প্রশাসন ক্যাডার এ যেতে হবে নইলে প্রতিবেশী হিসেবে মুখ রক্ষা হবে না । ছেলেটা এতো মানসিক চাপের মধ্যে আছে যে প্রশাসন এ না হলে আত্মহত্যা ছাড়া নাকি আর তার কোনো গত্যন্তর নেই , এই সর্বনাশা বিসিএস প্রতিযোগিতা কোনো অংশেই কম দায়ী নয় সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পেছনে । বিগত মাস গুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মহত্যার ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে এগুলোর অনেক গুলোর পেছনে ছিল বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হবার গ্লানি , এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করা দরকার । এছাড়া প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার ঘটনা নতুন করে বলার কিছু নেই , কিন্তু সম্প্রতি আত্মহত্যার তালিকায় মাঝবয়সী লোকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে , সম্ভবত হঠাৎ চাকরি হারিয়ে মানসিক আর আর্থিক বিপর্যয়ে তারা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না ,

আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে নিজের চেয়ে বেশি মূল্যবান আর কেউ নেই , প্রতিদিন যেই নতুন সকাল শুরু হয় তার জন্য আমাদের সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিতে হবে । মুক্ত বাতাসে যে নিশ্বাস আমরা নেই তার জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে । জীবন অনেক বড় , এখানে চ্যালেঞ্জ আসবে , এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে , প্রতিটা মানুষ আলাদা , তার যোগ্যতা আলাদা , নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা বন্ধ করতে হবে , আত্মবিশ্লেষণ করতে হবে নিজের , নিজের যোগ্যতা অনুসারে । ভাবতে হবে আমি কি ছিলাম , এখন কোথায় আছি আর ভবিষ্যতে আমার যোগ্যতা আর পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় নিজেকে কোথায় নিতে পারবো ।এমন কিছু জীবনে প্রত্যাশা করা উচিত না যার জন্য সবদিক বিচারে আমি যোগ্য না , প্রত্যাশার সীমারেখা সম্পর্কে ধারণা থাকা ভালো , তাহলেই আমরা আমাদের হতাশার পরিমান অনেক কমিয়ে আনতে পারবো ।

একটা মেয়ে বা একটা ছেলে যখন সুইসাইড করে , তার শেষ ঠিকানা হয় লাশকাটা ঘরের টেবিলে, তার শরীর অনাবৃত করে তার পোস্টমর্টেম করা হয় । একবার ভেবে দেখেছেন কি , যেই শরীরকে লজ্জার হাত থেকে রক্ষার জন্য আমাদের এতো আয়োজন , এতো পোশাক , সেই শরীরকেই সবার সামনে অনাবৃত করে পোস্টমর্টেম করা হয় , আত্মহত্যাকরি ব্যাক্তি তো তার প্রাণ বিসর্জন দিয়ে গেলো কিন্তু মৃত্যুর পর এটাও কি কম বিসর্জন !!!! জীবন থাকতে কখনো কি সে তার এই পরিণতির কথা ভেবেছিলো ? এইভাবে জীবনের পরিসমাপ্তি কি তার কাম্য ছিল ?

কারো স্থান যেন হাসপাতালের লাশকাটা ঘরে না হয় এই কামনাই রইলো ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো শিক্ষার্থী কখনো পরীক্ষা পেছাতে চায় না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

কারণ একজন প্রস্তুত শিক্ষার্থী জানে, পরীক্ষা যত দ্রুত শেষ হবে, সে তত দ্রুত জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে। অনিশ্চয়তা, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

বৃষ্টি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×