somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিউম্যান সেলে স্রষ্টার অস্তিত্ব

০৮ ই জুন, ২০১৬ সকাল ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষের পুরো শরীরটা যেন ওয়ান হান্ড্রেড ট্রিলিয়ন হিউম্যান বিয়িংস-এর একটা বিশাল কলোনি । সায়েন্সের ভাষায় যাকে বলা হয় হিউম্যান সেলস। ঐ সেলগুলোর সমষ্টিই আমরা। প্রতিটি সেলেরই আলাদা জীবন রয়েছে। মাইন্ড আছে, স্লিপ আছে, সোজা কথায় ইচ সেল কেন ডু এভরিথিং। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার-এই সেলগুলো সবকিছু করতে পারে কিন্তু আবার একা একা কিছুই করতে পারেনা। তাই একটি বিশেষ পরিকল্পনায় সেলগুলো একসাথে হয়। দে কাম টুগেদার। আর তৈরী হয় হিউম্যান বডি। অর্থ্যাৎ টুগেদার না হলে কিছুই হতোনা। আমি, আপনি, আমরা কিছুই না। পৃথিবী বিখ্যাত সেল বায়োলজিস্ট ব্রুস লিপটন। উইসকনসি ম্যাডিকেল স্কুলের অধ্যাপক। সারা জনম ধরে এথিস্ট। শুধু তত্ত্ব আর তর্ক না করে জীবনের বিশাল অংশ ল্যাবে কাটালেন। উদ্দেশ্য স্রষ্টার অস্তিত্ব বিলীন করা দেয়া। ল্যাবে প্রমাণ করা -"স্রষ্টা দূর্বল মানুষের মনের কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়"।

লাইভ সেল নিয়ে গবেষণা চললো দিনের পর দিন। নতুন বর্ণ হওয়া সেলকে বলা হয় জাইগোট যার ওজন .১২০১ গ্রাম। এর কোনো জীবন নাই। তারপর Integral membrane protein এর মাধ্যমে অনেকটা টিভির এ্যান্টনার মতো এই সেল ইউনিভার্সাল কনসাসনেসের সাথে সম্পর্কিত হয়। এরপর পরই এই সেলের মধ্যে প্রাণ আসে। সেল সবকিছু করা শুরু করে। তিনি সেলের ওপর এক ফোঁটা বিষের ড্রপ ফেলে দেখলেন সেটা খুব দ্রুত দূরে সরে যাচ্ছে। আবার ভালো কোনো খাবার দিলে দ্রুত খাবারের কাছে চলে আসছে। মিঃ লিপটন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন- সায়েন্স এর কোনো কূল কিনারা করতে পারলোনা। এই কনসাসনেস কীভাবে তৈরি হলো। কীভাবে প্রাণের সৃষ্টি হলো!! কেমন করে হলো? তিনি লিখলেন-" আই থট সায়েন্স রান দ্য ওয়ার্ল্ড"। বিশ্ব মানেই সায়েন্স। সায়েন্সই বিশ্ব পরিচালনা করে। কিন্তু না-এর বাইরেও এক বিশাল রহস্য আছে। যার কূল কিনারা করা মানুষের পক্ষে সম্ভব না। জীবন ল্যাবে তৈরী হয়না। এটা কেউ তৈরী করে। আর যিনি তৈরী করেন-তিনিই স্রষ্টা। বিজ্ঞান না স্রষ্টাই বিশ্ব পরিচালনা করেন। জীবন দেন, জীবন বিনাশ করেন। ছিলেন -পুরো এথিস্ট। হলেন একেবারে বিশ্বাসীদের একজন। এরপর লিখলেন-তাঁর বিখ্যাত বই- "Biology of Belief"- ২০০৫ সালে প্রকাশিত। আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করার মতো টনিকের খোঁজ পাবেন-এই বইয়ের ভিতরে। আমি মনে করি- কোরআন, হাদীস আর ফাজায়েলে আমল ইত্যাদি পড়ার পাশাপাশি এসব বইও পড়া দরকার। কেউ চাইলে বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য সুন্দর, সহজ করে প্রাণবন্ত অনুবাদ করতে পারেন যাতে আমার মতো ম্যাডিকেল সায়েন্সে না পড়া মানুষরাও সহজে বোধগম্য করতে পারেন। জঙ্গী না হয়ে বইকে সঙ্গী করুন। খতম তারাবী পড়ার কথা কোথাও বলা হয়নি। কিন্তু জ্ঞান অর্জন করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে। যেটা বলা হয়েছে সেটা করিনা। যেটা করার কথা না সেটা করি। মাংসের টুকরো, গাছের বাকল, মাছের আঁশ, ফলের ভিতর, উটের চামড়ায় স্রষ্টার অলৌকিকত্ব না খুঁজে বইয়ের ভিতর খুঁজুন। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মনের ভিতর এক রকমের স্বর্গীয় শান্তির সন্ধান পাবেন। সবার প্রতি হিংসা, প্রতিহিংসা, জিঘাংসা দূর করে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করি। শুভ রমজানুল মোবারক।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৬ সকাল ৮:২৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেঙ্গু আবার ধেয়ে আসছে তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কার্যক্রম রূপকল্প

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪১


লেখাটির উপক্রমনিকা
মাস কয়েক আগে সামুর পাতায় ব্লগার কলা বাগান ১ এর একটি গুরুত্বপুর্ণ লেখা প্রকাশিত হয়েছে । লেখাটিতে থাকা মুল কথাগুলি ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×