somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রচলিত ইসলামিক মাহফিল গুলো ও কিছু ভাবনা

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাসূল (সাঃ) কে,ভালোবেসে,তার প্রচারিত দ্বীন কে ছড়িয়ে দিতে গিয়ে, খাব্বাব এর গোশত লোহার অংগারের উপরে গলে গলে পড়েছিল, হযরত বিলাল (রাঃ) এর দেহ তপ্ত বালুচরে নিকৃষ্ট বস্তুর মত হ্যাচকানো হয়েছিল, হযরত সুমাঈয়া (রাঃ) এর যৌনাঙ্গে আঘাত করে শহিদ করা হয়েছিল। শুধুই তাই? উহুদের যুদ্ধে জীবন দিয়েছিল তাজা তাজা ৭০ টা গোলাপ ফুল! আবু বকর, উমর,উসমানের মত সাহাবীরা নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল।সদ্য বিবাহিত সাহাবী, নিজের স্ত্রীকে ছেড়্রে দিয়ে যুদ্ধে ময়দানে ঝাপিয়ে পড়েছিল,সেই চির কাংখিত শাহাদাতের শানে!

আল্লাহর দ্বীনের প্রতি তাদের ডেডিকেশন, নবীজির সুন্নাহর প্রতি তাদের ভালোবাসা সেই পর্যায়ে চলে গিয়েছিল, যেখানে মৃত্যুর ভয় বড় তুচ্ছ মনে হয়, জীবনের মায়া খড়কুটোর চেয়েও অধম হয়ে যায়।

সেই রাসূলের উম্মাতের দিকে আজকে তাকালে বড় অসহায় মনে হয়। উম্মাহ আজ রাসূল কে ভালোবাসে, আজিমুশশান মাহফিল করে, কুরআন হাদীস থেকে কোন কিছু সেখানে শিখানো হয় না, দুই চারটা হামদ নাথ, মাইলের পরে মাইল মাইকিং করে ঘন্টার পর ঘন্টা চলতে থাকে।এই হচ্ছে তাদের ভালোবাসার দৃষ্টান্ত!

মানুষ জড়ো হয়, সেকুল্যার ছাত্রসমাজ সেটাকেই ইসলাম ভাবে, আর বলে, বাহ , কি শান্তির ধর্ম !

আরো অদ্ভুত লাগে, যখন মনে হয়, যে ছেলেটা জীবনের প্রথম এরকম একটা মাহফিল দেখে শুরু করেছে, তার কাছে কি মেসেজ টা গেল? ইসলামের এপেয়ারেন্স তার কাছে, রঙ বেরঙ্গের হ্যাজাক লাইট, মিউজিকের তালে তালে " ইশকে নাবি", " মুহাম্মদ কা পেয়ারা" গান ! সে দেখতে পায়, ষ্টেইজ্য মুরব্বিরা বসে আছে, তার পাশে মাইজভান্ডারীর গায়কেরা সুর করে ,কোরাস দিয়ে দিয়ে মুহাম্মদের প্রতি ভালোবাসা নিবেদন করছে!

এই ইসলাম বাতিলের মাথা ব্যাথার কারণ হয় না,বাতিল বরং প্রমোট করে, দেওয়ানবাগীদের মত পীর দের, যাহাদের মুরীদেরা জন্মদিনের কেক কেটে পীরবাবার সামনে হাজির করাকে ইসলামের কাজ ভাবে! এই ইসলাম বাতিলের কাছে যায় শান্তির ধর্ম রুপে ! তাদের অনাচার, ওজনে কম দেয়া, সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি, ব্যাভিচার ইত্যাদির কাছে এই ইসলাফ সেইফ জোন, নো থ্রেট এরিয়া ! সুতরাং এইরকম ইসলাম পালন করতে ও প্রমোট করতে বাতিলের বিন্দু মাত্র সমস্যা নাই ।

অথচ যুগে যুগে ইসলাম একটি আতংকের কারন ছিল বাতিলের কাছে,প্রকৃত ইসলামকে বাতিল কখনোই প্রমোট করে নি।এই দৃষ্টান্ত দেখতে বেশী দূরে যেতে হয় না, প্রচলিত সমাজের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।আপনি ন্যায়বিচার করার চেয়ে আপনার স্বার্থকে সবার উপরে রাখেন, নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশাকে কালচার মনে করেন, পর্দাবিহীন কোন নারীর পাশে দিয়ে গেলে আপনার খারাপ তো লাগেই না, বরং অন্যরকম আনন্দে আপনি অভিভূত হন। সুদকে আপনি সেইফ মনে করেন , টাকা খাটানোর চেয়ে ব্যাংকে রেখে দিয়ে সুদ পাওয়াটা আপনার কাছে জাষ্টীফাইড হয়ে দাঁড়ায়।প্রকৃত ইসলাম যদি থাকতো, আপনি কোন দিনো এসবের ধারে কাছে যেতে পারতেন না।

যৌতুক নেয়া,সুদ খাটানো,মাপে ওজনে কম দেয়া,ব্যভিচারের প্রসার কে রোধ করার জন্য, ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ব্যাবস্থা দাড় করানোর জন্য যে ইসলামের আবর্ভাব হয়েছিল , সেই ম্যাসেজ দেবার জন্যে কোন মাহফিলের এপেয়ারেন্স নাই। স্পন্সর ও নাই। এসব মাহফিল সরকার অর্থায়ন তো দূরে থাক, বরং নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে ঠ্যাঙ্গায় দিতে সদা প্রস্তুত !

ইমাম ইবনে তাইমিয়ার কথাটা এসব ক্ষেত্রে খুব বেশী মনে পড়ে।তিনি বলেছিলেন, তোমরা যদি প্রকৃত ইসলামী দল খুজে না পাও, তবে বাতিলের চক্ষুশুল কারা সেদিকে লক্ষ্য কর। কারন তোমরা তাদের চিনতে ভুল করলেও তারা সেটা করে না।

প্রচলিত মাহফিলের এপ্রোচ গুলো দেখলে ক্যানো জানি এইকথা গুলাই বারবার ফীল হয়।আর আফসোস হয়, বিলাল, সুমাইয়্যা, খাব্বাবদের কথা মনে করে।ওদের জীবনের তাতপর্য আমরা অনুধাবন করতে পারি নি।্নতুবা, আমাদের চোখের সামনে এত্ত এত্ত মকিং দেখেও আমরা নিশ্চুপ সয়ে যাই কি করে?

যে ব্যাক্তি রাসুল (সাঃ) কে ভালোবাসবে, সে তো চাইবে তার সুন্নাহর অনুসারন করতে, তা বাদ দিয়ে এসব নিরর্থক অনুষ্ঠান গুলো কে এডভার্টাইজ করার কি আদৌ কোন অর্থ হয়?

প্রশ্নগুলো বেড়েই যাচ্ছে দিনকে দিন...
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০



দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র

একদা এক রাতে-
রাষ্ট্র, কড়া নাড়তে নাড়তে দরজা ভেঙ্গে
ঢুকে পড়লো
আমি নিথর,নিস্তব্ধ এক জনগণ
বললাম,আমি ভয় পাচ্ছি
রাষ্ট্র হাসতে হাসতে ভাঙ্গা দরজা দিয়ে
এক পা দুই পা করে,লোকালয়ে মিশে গেলো

রাষ্ট্র কি ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×