somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছুই কিছু নয়

১৯ শে জুন, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ব্লগে লিখতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানান বিষয়ে মতবিরোধ থেকে অনেকের সঙ্গেই তপ্ত বাক্য বিনিময়, তিক্ততা, এমনকি গালিগালাজেও জড়িয়েছি নিশ্চিতরূপে। আমি লজ্জিত। আসলে না চাইলেও অনেকসময় হয়ে যায়। বেশ ক'বছর আগে এখানে একবার এরকম হয়েছে যে, একজন পরিচিত ব্লগার আমাকে ভারতের দালাল আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে বসবাসের প্রস্তাব দিয়েছিলো। যে লেখায় আমার উদ্দেশ্যে এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়েছিলো, সেখানে মন্তব্যগুলো ভালোভাবে দেখে সিদ্ধান্তে আসলাম যে, আসলে ভুল আমারই হয়েছে। আমি যথাযথভাবে আমার বক্তব্য রাখতে পারিনি। তাই পরের মন্তব্যেই আমি বিনা কালক্ষেপণে সে ভুল স্বীকার করে পূর্বের মন্তব্য ফিরিয়ে নিয়ে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করি। যার সাথে এরকম হয়েছিলো, সে যদি বিশেষ সে ঘটনা স্মরণ করতে পারে, তাহলে নিশ্চয়ই বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের চরম মতবিরোধ থাকলেও, আমার সম্বন্ধে ভালোই বলবে যে, এরকম হয়েছিলো। সেখানে ভুল স্বীকার করে আমি মন্তব্য ফিরিয়ে নিয়েছিলাম ও দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম। এই চর্চা আমার চরিত্রে আছে। ব্যাপারটা খুবই সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর। প্রচুর আনন্দ নিয়ে সে বাদানুবাদ সমাধান হয়েছিলো। ভুল স্বীকার করা ও অনুতপ্ত হওয়া এবং পরবর্তীতে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সত্যি চমৎকার একটি চর্চা। এতে মোটেই দুঃখী হবার কিছু নেই। সে ঘটনা আমার জন্য বরং শিক্ষণীয় ছিলো। যাই হোক এখানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লেখায় এর ওর সঙ্গে নানারকম অনাকাঙ্ক্ষিত তিক্ততায় জড়িয়ে পড়েছিলাম। যা সত্যি দুর্ভাগ্যজনক। যেমন ইসরায়েল ফিলিস্তিনি মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট নিয়ে আমার দুটি লেখায় এরকম হয়েছে। আসলে ব্যাপারটা আমার হাতে ছিলো না। এমন সব মন্তব্য সেখানে করা হয়েছে, যা অত্যন্ত মিথ্যাচার ও ইসরায়েল ইহুদি বিরোধী সম্পুর্ন কাল্পনিক অপপ্রচার। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে সমস্যা হয়েছিলো। ব্যাপারটা একেবারেই অপর প্রান্তের অজ্ঞতা ও অজ্ঞানতা। তাই সে সবের জন্য আমি কোনওরকমেই দায়ী নই। ইসরায়েল ফিলিস্তিন নিয়ে আমার ভালো জানাশোনা আছে। বিভিন্ন সোর্স থেকে প্রচুর কৌতুহল নিয়ে এ বিষয়ে আমি গভীর অধ্যায়ণ করেছি। ইসরায়েল রাষ্ট্র, ইসরায়েলিদের সম্পর্কে জেনেছি। দীর্ঘদিন ধরে ইউটিউবে আই২৪ দেখি। সেখানে কখনও কোনওদিনও দেখলাম না যে, তারা মুসলমান বা আরবদের গালিগালাজ করছে। তাদের ধ্যানজ্ঞান চিন্তা চেতনা সবটা জুড়েই শুধু ইসরায়েলের উন্নতি। প্রত্যেক ইসরায়েলির জন্য নিরাপদ সুখী সম্বৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করা। কীভাবে কীসে ইসরায়েলের ভালো হবে। কৃষিতে কি করে আরও ভালো করা যায়। অভিবাসী ইসরায়েলিদের কর্মসংস্থান, জীবনমানের উন্নতি কি করে নিশ্চিত করা যায়। ইসরায়েলিরা কৃষি খাতকে খুব গুরুত্ব দেয়। গুগল ম্যাপে গেলে দেখা যাবে যে, সমস্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভিতরে শুধুমাত্র ইসরায়েলের ওই এক চিলতে জায়গাটুকুই সবুজ। মরু এলাকায় কৃষি ভীষণ কঠিন। এর জন্য প্রচুর সময় দিতে হয়, অস্বাভাবিক পরিশ্রম করতে হয়। ইসরায়েলিরা সেটা করে দেখিয়েছে। কারণ তারা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান মানুষ। আর কথা বাড়াতে ইচ্ছে করছে না। এতে কোনও লাভ নেই জানি। সবাইকে শুধু বলবো বিবিসি বাংলার পাখি প্রেমী এক ফিলিস্তিনি মহিলার কথা এরকম একটি শিরোনামের চার পাঁচ মিনিটের প্রতিবেদনটি দেখে নিতে। সেখানে দেখবেন, ফিলিস্তিনির সেই পাখি প্রেমী প্রবীণ মহিলা বলছে, ইসরায়েলিরা আকাশ থেকে আগে ডেমো রাবার বোম নিক্ষেপ করে থাকে ভূমিতে। যাতে নির্দোষ সাধারণ মানুষরা সে জায়গা ছেড়ে চলে যায়। এভাবে সেই ভদ্রমহিলা এরকম পরিস্থিতিতে তার পোষা পাখিদের নিয়ে সেখান থেকে নিরাপদ জায়গায় চলে যায়। খুবই মর্মস্পর্শী প্রতিবেদনটি। এই যুদ্ধে জনৈক ইসরায়েলি সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে। ঘরে তার স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তান আছে। অল্প কয়েক বছর হলো বিয়ে হয়েছে। সেই নিহত সৈন্যের স্ত্রী আশির দশকে এরকমই এক আরব ইসরায়েল যুদ্ধে বাবাকে হারিয়েছিলো। তখন সে ছিলো শিশু। এই যুদ্ধে হারালো স্বামীকে। ঘরে দুটি শিশু সন্তান। তারা আজ বাবা হারালো। যুদ্ধ কখনওই ভালো কিছু বয়ে আনে না। ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সবার জন্যই সমানভাবে ক্ষতিকর। শখ করে ইসরায়েলিরা এ যুদ্ধে যায়নি। এরকম ভাবা বিরাট ভুল হবে। ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যেয়ে যা করেছে, তারপর ইসরায়েলের জন্য ফিলিস্তিনে যেয়ে ব্যাপক সামরিক অভিযানের কোনও বিকল্প ছিলো না। যা হোক এখানেই শেষ করতে চাই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লেখায় মন্তব্য প্রতিমন্তব্যে এর ওর সাথে তিক্ততায় জড়িয়েছিলাম। সেগুলো সিরিয়াসলি না নেবার জন্য অনুরোধ করছি সবাইকে। শুরুতেই যেমন বলেছি, না চাইলেও অনেক সময় হয়ে যায়। আসলে কিছুই কিছু নয়। কোনওদিন কারও সাথে বাস্তবে হ্যালো বলবার সুযোগ হলে, খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ উষ্ণ করমর্দন করবো। কেউ কিছু মনে রাখবেন না প্লিজ। শুভকামনা সবার জন্য। সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। সবার কল্যাণ হোক।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×