
খুব ভালো চলছিলো বাংলাদেশ। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা সবদিক দিয়েই সবচেয়ে ভালো। শেখ হাসিনার এই সময়কালেই বাংলাদেশের বিস্ময়কর পরিবর্তন, উত্থান। সারা বিশ্বের জন্য বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। ভারত পাকিস্তানের মিডিয়ায় বিভিন্ন আলোচনায় বহুবার দেখেছি, বক্তারা তাদের দেশের সাথে তুলনা করতে বাংলাদেশের উদাহরণ টানছে। দেখুন, বাংলাদেশ কতো এগিয়ে গেছে। শেখ হাসিনা শূন্য থেকে শুরু করে কোথায় নিয়ে গেছে দেশকে। কতো ভালো করছে তারা। বহু প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে ঢের রিপোর্ট পড়েছি। ওপার বাংলার বিখ্যাত বাংলাবাজার পত্রিকার বিশেষ রিপোর্টের কথা এ মুহূর্তে মনে পড়ছে। এ এক অন্য বাংলাদেশ। এরকম কিছু। ভারতের ওপর একদা আগাগোড়া নির্ভরশীল রাষ্ট্রটি আজ স্বাবলম্বীই শুধু নয়, সমস্ত উন্নয়ন সূচকে উল্টো ভারতকেই পিছনে ফেলতে চলেছে। ভারতীয়রা রীতিমতো ঈর্ষার চোখে দেখতে শুরু করেছিলো ব্যাপারটা। এটা তথ্য। এটা ফ্যাক্ট। বাংলাদেশের এই সমৃদ্ধি এই উন্নতি আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান। শেখ হাসিনার এ সময়কালে কি থেকে কি হয়ে গেলো বাংলাদেশ। নিঃসন্দেহে দারিদ্র্যের হার ঢের কমে এসেছে। এক সময় ঢাকায় বস্তি ছাড়াও, এখানেসেখানে জীর্ণশীর্ণ কঙ্কালসার ছিন্নমূল ভাসমান দরিদ্র মানুষদের মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা যেতো। ফুটওভার ব্রিজের ওপর এরকম বহু উদ্বাস্তু পরিবার বাস করতো। এগুলো সাধারণ দৃশ্য ছিলো ঢাকার। বড়ো কোনও রাস্তার মোরে দাঁড়ালেই দলে দলে ভিক্ষুক ঘিরে ধরতো। ব্যাপক পতিতাবৃত্তি ছিলো। বিভিন্ন সড়কের পাশে অসহায় দরিদ্র মেয়েদের খদ্দেরের অপেক্ষায় লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতাম। সংখ্যায় অগুনিত। আজ সে তুলনায় নিঃসন্দেহে পরিস্থিতি অনেক ভালো। দেশের যোগযোগ ব্যবস্থা, পরিবহন খাতে শেখ হাসিনা তার এ সময়কালে একরকম বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে বললেও অত্যুক্তি হবে না। ঢাকাকে যে কখনও এরকম যানজট মুক্ত করা যাবে, তা কি কেউ কোনওদিন কল্পনা করতে পেরেছিলো? শেখ হাসিনাই সে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে। মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, হাইওয়ে, ফ্লাইওভারে আজ ছেয়ে গেছে পুরো ঢাকা। ঢাকায় অবস্থানরত পনেরো ষোলো বছরের কিশোর জানে না যানযট কি। মিরপুর আজিমপুর মৌচাক মগবাজার ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় বহুবার এরকম হয়েছে যে, বিকেল পাঁচটায় হয়তো যানজটে পড়েছি, গন্তব্যে পৌছতে পৌছুতে রাত আটটা বেজে গেছে। সেই মহা যানজটের নগরী ঢাকা আজ যানজট মুক্ত। শেখ হাসিনারই অবদান। পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের জন্য বিরাট সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। একসময় যা কল্পনাতীত ছিলো। পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের চিত্রই বদলে দিয়েছে এক প্রকার। একে কেন্দ্র করে বিরাট কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে সেখানে। মানুষের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে পদ্মা সেতু। গার্মেন্টস কৃষি মৎস্য ইত্যাদি তো আছেই। মাথাপিছু আয় ঢের বেড়ে গেছে। এরকম উদাহরণ অসংখ্য। লিখতে গেলে আস্ত বই হয়ে যাবে। ঢাকাই শুধু নয়, এভাবে সারা বাংলাদেশেরই চিত্র সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছে শেখ হাসিনা তাঁর এই সময়কালে। সারা বিশ্বের জন্য আজ উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ। সমৃদ্ধি উন্নতি উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর বিস্ময়। বিএনপি জামায়াতের সময়কালও দেখেছি আমরা। আগাগোড়া অকার্যকর ব্যর্থ পঙ্গু রাষ্ট্র। এক ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ঘন্টা লোডশেডিং। ছিনতাই মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজের অভয়ারণ্য। অপরাধের নগরী। বিচারহীনতার সংস্কৃতি। ভয়ের সংস্কৃতি। সংখ্যালঘু, আদিবাসীদের ওপর রাষ্ট্রীয় মদদে সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতন। কোথাও কোনও আইন নেই, বিচার নেই। জঙ্গিবাদের তীব্র উত্থান। চৌষট্টি জেলায় বোমা হামলা। আদালত বিচারালয় সিনেমাহল খেলার মাঠ রমনাপার্ক মসজিদ মন্দির চার্চ প্যাগোডা সর্বত্র বোমা হামলা। চারিদিকে শুধু রক্ত মৃত্যু কান্না হাহাকার। নরক গুলজার অভিশপ্ত একটি দেশ। কোনও সিস্টেম নেই, নিয়ম নেই। বলবানরা যা খুশি করে বেড়াচ্ছে। আগাগোড়া পরনির্ভরশীল মেরুদণ্ডহীন ব্যর্থ অকার্যকর অরাজক রাষ্ট্র। আজ যদি শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপি জামাত এ সময়কালে বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকতো, তাহলে দেশের চিত্র হতো সম্পূর্ণ বিপরীত। পৃথিবীর বুকে এক আতঙ্কের নাম হতো বাংলাদেশ। নির্ঘাত পাকিস্তান আফগানিস্তানের থেকেও খারাপ হতো অবস্থা। উন্নয়নের রোল মডেলের জায়গায় আজ জঙ্গিবাদ মৌলবাদ অপরাধ অরাজকতার রোল মডেল হতো। বিশ্বের বুকে অভিশপ্ত নরকের নাম হতো বাংলাদেশ। বিএনপি জামায়াতের হাত ধরে সে পথেই যাচ্ছিলাম। শেখ হাসিনা এই রাষ্ট্র এই মানুষের জন্য ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন। তাঁর হাত ধরেই আজ এতোদূর এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। একাত্তরের পরাজিত শক্তি, সেই চরম মৌলবাদী, স্বাধীনতা বিরোধী হিংস্র হায়েনার দল আজ আবার ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশকে বিপদে নিতে তৎপর। দেশের বুকে মরণকামড় বসিয়েছে হায়েনারা। দেশব্যাপী সংগঠিত পরিকল্পিত জঙ্গি আক্রমন শুরু করেছে। যে কোনওভাবে, বেশুমার নিরীহ সাধারণ মানুষের রক্তপাতের মধ্য দিয়ে হলেও আবার ক্ষমতার মসনদে আসীন হবার স্বপ্নে বিভোর তারা। হ্যা, স্বাধীন বাংলাদেশে আজও তাদের একটি বিরাট জনসমর্থন রয়ে গেছে, এ সত্য কিছুতেই অস্বীকার করা যাবে না। একাত্তরেও যেমন ছিলো। যা দুর্ভাগ্যজনক। একাত্তরে যেটা ছিলো বিশ শতাংশ, হতে পারে সেটা আজ চল্লিশ শতাংশে পৌছেছে। তবু্ও মূল জনগোষ্ঠী এখনও স্বাধীনতার পক্ষেই অবস্থান করছে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আগেরবার গোলযোগের সময় নিজে স্বশরীরে ঘটনাস্থলে ছিলাম। বিরাট সংখ্যক মানুষ এসবে যারপরনাই বিরক্ত। তারা শান্তি চায়। কোটা আন্দোলন নিয়ে তাদের একবিন্দু আগ্রহ নেই। তারা শান্তিকামী বিবেকবোধসম্পন্ন শুভবুদ্ধির মানুষ। তারা বুঝতে পারছিলো না, এরকম এক ব্যাপক সংঘবদ্ধ পরিকল্পিত আক্রমন নাশকতাকে কি করে মোকাবেলা করবে। দিশেহারা বোধ করছিলো। যেমন আমি নিজেও পারিনি। শুধু মূক দর্শক হয়ে ছিলাম। আমি রাজনীতি করি না। সেভাবে রাজনীতি সচেতনও না। দেশ, দেশের মানুষকে খুব ভালোবাসি। সদা তাদের ভালো চাই। তাই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমি সর্বাত্মকভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সাথে আছি। শেখ হাসিনার সাথে আছি। এরকম উগ্রবাদ জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের মধ্যে শেখ হাসিনার পতন মানে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটিরই পতন। মুক্তচিন্তা মুক্তবুদ্ধি বাকস্বাধীনতা আধুনিকতা উন্নয়নের পতন। অসাম্প্রদায়িক উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পতন। আমরা কিছুতেই তা হতে দিতে পারি না। এবার আমরা রুখে দাঁড়াবো। সবাই মিলে রুখে দাঁড়াবো। উপস্থিত বোর্ডে লিখছি। মোটেও পরিকল্পিত লেখা নয়। বহু লিখে ফেলেছি ইতোমধ্যে। পরিশেষে দেশের সমস্ত মুক্তচিন্তার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সভ্য সুস্থ মানুষদের বলতে চাই, দেশ আজ আক্রান্ত। মৌলবাদ জঙ্গিবাদ মরণকামড় বসিয়েছে বাংলাদেশের বুকে। এ সময় কারও কোনওরকম ভুল করা যাবে না। বিভ্রান্ত হয়ে কোনও পাতা ফাঁদে পা দেয়া যাবে না। কোনও কোটাফোটার ছাত্র আন্দোলন ছিলো না এটা। তথাকথিত এ কোটা আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী ছাত্রদের সিংহভাগই বড়োলোকের ছেলেমেয়ে। পোশাকআশাক চালচলনেই তা প্রতীয়মান। এরা গ্রামের সাধারণ দরিদ্র কৃষক শ্রমিক মজুরের সন্তান নয়। শুরুতেই এদের আচারআচরণ কথাবার্তায় শিওর হয়ে গিয়েছিলাম, এদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদের সাথে আলাপআলোচনার কালক্ষেপণে শুধুই রাষ্ট্র বিরোধী উগ্রবাদী জঙ্গি শক্তি সংগঠিত হয়েছে, শক্তিশালী হয়েছে, আর কিছু নয়। এখন সময় এসেছে, সবাই মিলে এদের প্রতিহত করার। সবাই মিলে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার। প্রথম দিনই ডান্ডা মেরে তুলে দেয়া লাগতো সব ক’টাকে। আদৌ কোনও কোটা বিরোধী আন্দোলন করেনি ওরা। ওদের কেউই খেটে খাওয়া দরিদ্র কৃষক শ্রমিক মজুরের ছেলেমেয়ে নয়। একটা সরকারি চাকরি ওদের জন্য কোনোই গুরুত্ব রাখে না। বড়ো ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী অবস্থাপন্ন পরিবারের ছেলেমেয়ে এরা। আঠারোর ছাত্র আন্দোলন এটা ছিলো না কিছুতেই। নিঃসন্দেহে অনেক সাধারণ ছাত্রছাত্রী বিভ্রান্ত হয়েছে ফাঁদে পা দিয়ে। এখন এ মুহূর্তে আমার এ লেখাটি যদি আন্দোলনরত সাধারন শিক্ষার্থীদের কেউ পড়ো, তবে তোমাকেই বলছি, শেখ হাসিনার পতন শুধুমাত্র শেখ হাসিনার পতন হবে না। এটা বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটির পতন হবে। দেশের উন্নয়ন উন্নতি সমৃদ্ধি প্রগতির পতন হবে। মুক্তচিন্তা বিরোধীমত বাকস্বাধীনতা গনতন্ত্রের পতন হবে। ফিরে আসো। অন্ধকারে থেকো না। এ অবারিত আলোয় আসো। অনেক রক্ত শ্রম ঘাম ত্যাগ তিতিক্ষার শেষে পাওয়া আমাদের বহু কষ্টার্জিত এ স্বাধীনতা। একে রক্ষা করো। সবাই যার যার ঘরে কিংবা ক্যাম্পাসে ফিরে যাও। আমরা সবাই তোমাদের সাথে আছি। আমি নিজেও সবরকম কোটার বিরুদ্ধে। কোটা কোনও সুস্থ চর্চা নয়। তোমরা ফিরে আসো। তোমরা যার যার ক্যাম্পাসে, বাড়িতে ফিরে যাও। সমস্ত সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিককেও একই কথা বলবো। দেশ আজ বিরাট সঙ্কটে। আমাদের মূক দর্শক হয়ে থাকার সময় আর নেই। সবাই রুখে দাঁড়ান চলমান এই সশস্ত্র জঙ্গিবাদ উগ্রবাদের বিরুদ্ধে। একা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার পাশে থাকুন। দেশের উন্নয়ন সমৃদ্ধি অগ্রগতির সাথে থাকুন। সবাইকে ধন্যবাদ। সবার জন্য শুভকামনা। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
(খুবই অপরিকল্পিত লেখা। ভুলভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখার অনুরোধ করছি সবাইকে। লেখা বড়ো হয়ে গেছে বেশ। পোস্ট করে রাখছি। সময় সময় সম্পাদনা হবে। বিরাট সঙ্কট দেশে। অপেক্ষা করার সময় আর নেই। লেখায় যে কোনও সভ্য, সুস্থ মতামত কাম্য।)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


