
জ্ঞান হবার পর আমার দেখা, আমার অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে খারাপ সময় গিয়েছিলো বিএনপি জামাতের ২০০১ পরবর্তী শাসনকাল। নরক গুলজার অভিশপ্ত দুর্বিষহ স্মৃতি। সে সময়ের কথা চিন্তা করলেও শিউরে উঠতে হয়। একেবারে ঘোর অন্ধকার, কালো সময় স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে। বিন্দু পরিমাণ উন্নয়ন, উন্নতি নেই। আইনের শাসন নেই। চারিদিকে শুধু অরাজকতা, অপরাধ, অনিয়ম। কি যে অভিশপ্ত সময় গেছে! চারদলীয় জোট সরকারের পলিসি ছিলো, নো ওয়ার্ক নো হেডেক। একটি দেশের উন্নয়ন করতে শাসককে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়, দিনরাত এক করে কাজ করতে হয়। এমনি এমনি সব হয় না। বিএনপি জামাত জোট পুরো সময়কালে দূর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট, ডাকাতিতে লিপ্ত ছিলো। তারেক জিয়া আসলে কোনও রাজনীতিবিদ না। সে একজন আন্তর্জাতিক মাফিয়া, মহা দূর্নীতিবাজ, মহা ডাকাত। চোর বললেও লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হবে! সে দেশের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। দীর্ঘ বিচারিক প্রকৃয়ায় মাধ্যমে, সমস্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সাজা হয়েছে। আমেরিকার সুপরিচিত স্বনামধন্য গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্ত করে সিঙ্গাপুরে তার অবৈধ অর্থ পাচারের দূর্নীতির মামলার রিপোর্ট দিয়েছিলো, আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলো। পরবর্তীতে সে মামলায় ইউনুসের জঙ্গি সরকার কর্তৃক তারেক জিয়া নির্দোষ সাব্যস্ত হয়। বেকসুর খালাস পায়। মামলা নিস্ক্রিয় হয়। ব্যাপারটা জেনে সে মামলার তদন্তকারী একজন এফবিআই কর্মকর্তা দারুণ বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন ‘এটা অসম্ভব! এ মামলায় সে মুক্ত হতে পারে না। আমি নিজে তদন্ত করে বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছি।’ এটা আসলে তারেক জিয়ার হাজারো অপকর্মের নগণ্য অংশ মাত্র। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছিলো এই জঙ্গি নেতা তারেক জিয়াই। সারা দেশে জঙ্গিদের অবাধ ছেড়ে দিয়েছিলো। সে সময় বাংলাদেশের এখানেসেখানে বোমা হামলা সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছিলো। চৌষট্টি জেলায় বোমা হামলা। রমনা পার্ক মন্দির গির্জা প্যাগোডা সিনেমাহল আদালত খেলার মাঠ হাটবাজার সর্বত্র বোমা হামলা। শরিয়া আইন চাই। বেপর্দা নারীর পাছায় দোররা মারা শাসন চাই। আমরা হবো তালেবান। বাংলা হবে আফগান। প্রতিদিন খবরের কাগজ ভরে থাকতো সারাদেশে আওয়ামী লীগ, বামদলের নেতাকর্মীদের হত্যার খবরে। অবাধ হত্যা হতো। অপরাধীরা জানে জামাত বিএনপি ক্ষমতায়। পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে না। একটা পশমও বাঁকা হবে না। তুচ্ছ কারণেও বিএনপি জামাতের গুন্ডাপান্ডারা নিয়মিত প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের রগ কাটা, হত্যা, জখম জারি রেখেছিলো পুরো সময়কালে। পুলিশ প্রশাসন রাজনৈতিক ব্যাপারে একেবারেই নিস্ক্রিয় ছিলো। ধর্ষণ, নারী নির্যাতন সাধরণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। চোখের সামনে অপরাধ দেখতে দেখতে এগুলো আর মানুষকে বিচলিত করতো না। স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে নিতো সবাই। যেমন বলেছি, নরক গুলজার দুঃসহ অভিশপ্ত অন্ধকার সময়।
দেশে বিদ্যুৎ ছিলো না। এই রাজধানী ঢাকাতেই এক ঘন্টা বিদ্যুৎ তো পরের ঘন্টা লোডশেডিং। দেশের সবখানেই চব্বিশ ঘন্টা জেনারেটরের ঘটরমটর শব্দ শোনা যেতো। ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের দেশ। মে জুনের ভ্যাপসা গরমেও প্রতিদিন মাঝরাতে লোডশেডিং। লোকজন খোলা মাঠে, গাছের নিচে, বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিতো। বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষা করতো। আমি সে সময় দেশের রাজধানী ঢাকা শহরের বিদ্যুতের কথা বলছি। সারাদেশের পরিস্থিতি কি ছিলো, সহজেই অনুমেয়। মনে পড়ছে, মাগরিবের নামাজের পর ভরা মিলাদ মাহফিলে লোডশেডিং। আয়োজক স্থানীয় এক ঠিকাদার, ব্যবসায়ী তখন বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে জানিয়েছিলো যে, আমাদের বাড়িতে মিলাদ চলছে, দেখেন কিছু করা সম্ভব কিনা। পরে বিদ্যুৎ এসেছিলো। উফফ, কি যে দুঃখ দুর্দশা সারা দেশে। বিদ্যুতের জন্য হাহাকার। চব্বিশ ঘন্টা যখনতখন বিদ্যুতের সুইচ অফ করে লোডশেডিং। প্রোডাকশন বন্ধ। কলকারখানা অচল। উন্নয়ন বন্ধ। চারিদিকে শুধু দারিদ্রতা, অভাব।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



