
সারাজীবন আমি মানবতা, সত্য, শুভ, সুস্থ, সুন্দরের চর্চা করে এসেছি। আমার উপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে আমি কিছু বলি না বা দাবি করি না। এই যুদ্ধের ওপর নজর রাখছি। আগের দুটো লেখায় যেমন বলেছি, এই পৃথিবী ও মানবসভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখতে ইরান নামের এই অভিশাপ, এই কলঙ্ককে আমাদের সবাই মিলে সমাপ্ত করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘ অশান্তি, সংঘর্ষ-সংঘাত, রক্তপাতের মূলে হলো ইরান। হামাস, হিজবুল্লা, হুতি, ইসলামিক জিহাদ ইত্যাদি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো আসলে এদের সৃষ্টি। এদের হয়ে কাজ করে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে ফান্ড করে আসছে। ইরানিদের সম্পদ ইরানিদের জন্য ব্যয় না করে এইসব জঙ্গিদের দেয় ইরান। সামান্য জায়গা নিয়ে ছোটো একটি দেশ ইসরায়েল ইরানের সমস্যা! ইরানের সংবিধানে আছে, ইহুদিদের স্বাধীন রাষ্ট্র পৃথিবীতে থাকতে পারে না। তাদের ধ্বংস করতে হবে। এ লক্ষ্যে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে এইসব প্রক্সিদের সচল করে রেখেছে ইসরায়েলের চারপাশে। একেবারেই অসভ্য, অসুস্থ, বর্বর রাষ্ট্র ইরান। এই যুদ্ধেই এলোপাতাড়ি মিসাইল আক্রমণ করেছে দেশে দেশে। আবাসিক এলাকা, যাত্রী গমনাগমনের বিমানবন্দর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেল স্টেশন, হেটেল রেস্টুরেন্ট কোনওকিছু বাকি রাখেনি। সবখানে নির্বিচারে আক্রমণ করেছে। ইসরায়েলের থেকেও বেশি মিসাইল ইউ.এ.ই’তে ছুঁড়েছে ইরান। ইউ.এ.ই’র ওপর রাগ, সম্প্রতি ইউ.এ.ই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে, আমেরিকার সাথে নিবিড় সম্পর্ক, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য অন্যান্য আরব দেশের সাথে কথা বলছে। এভাবে মধ্যপ্রাচ্য ক্রমেই স্বাভাবিক হচ্ছিলো। ইরানের জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের জন্য পরিস্থিতি প্রতিকূল হতে শুরু করেছিলো। আরব রাষ্ট্রগুলো স্বাভাবিক হতে কাজ শুরু করেছিলো। পরিবর্তিত পৃথিবীতে ইসরায়েলের বিজ্ঞান, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দিজের দেশকে এগিয়ে নেবার জন্য কাজ করতে উদ্যোগী হয়েছিলো ইউ.এ.ই। এই পরিবর্তন ইরানের কট্টরপন্থী মোল্ল শাসকদের সহ্য হয়নি। তাই পরিস্থিতি জটিল, অস্বাভাবিক, সংঘাতময় করতে ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের মাধ্যমে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ ইহুদি গণহত্যা ঘটানো হয়েছে ইসরায়েলের অভ্যান্তরে যেয়ে। এ নির্দেশনা এসেছিলো ইরান থেকে। হামাস ইরানের প্রক্সি মাত্র। এ যুদ্ধে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনের কোনওরকম তোয়াক্কা করছে না ইরান। গোঁয়ার্তুমি করে ইতোমধ্যেই বহু ইরানির মৃত্যু ঘটিয়েছে। এছাড়া আশেপাশের আরব দেশগুলোতে আক্রমণ করে ভয়ানক ক্ষতি সাধন করেছে। ইউ.এ.ই, কাতার, বাহরাইন, ইত্যাদি দেশগুলোতে বড়ো ধরনের আক্রমণ করেছে তারা। এতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশগুলো। এ যুদ্ধে ইসরায়েলের আসলে হারাবার কিছু নেই। নব্বই পঁচানব্বই লাখ মানুষের ছোটো দেশ। বেশিরভাগই ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের দ্বৈত নাগরিক। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও আমেরিকার নাগরিক। তার শৈশব কৈশোরের লম্বা সময় কেটেছে আমেরিকায়। চাইলে ইসরায়েলিরা এখনই ইসরায়েল খালি করে করে চলে যেতে পারে। কিন্তু তারা তা করবে না। করা উচিতও না। নিজেদের দেশ ছেড়ে কেন যাবে তারা! এই দেশ গঠনের জন্য তাদের পূর্ব পুরুষদের কঠোর পরিশ্রম, রক্ত, ত্যাগ, ঘাম আছে। ইসরায়েলিদের যদি ইসরায়েল ছেড়ে স্বর্গ যাবার অফার করা হয়, তারা যাবে না। প্রচণ্ডরকম দেশপ্রেমিক ইসরায়েলিরা। দেশকে ভীষণ ভালবাসে। ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ে বিভিন্ন রিপোর্ট দেখেছি। বিশ বাইশ বছরের তরুণ সৈনিক; দেশপ্রেম টগবগ করে ফুটছে প্রত্যেকের রক্তে। ইসরায়েল রক্ষার জন্য হাসিমুখে জীবন দিতে প্রস্তুত তারা। বিন্দু পরিমাণ ভয়, দ্বিধা নেই কারও মাঝে। ইসরায়েলের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত সবসময়। সুসভ্য সুশীল মানবিক একটি রাষ্ট্র ইসরায়েল। খুবই শান্তিপ্রিয়, নির্বিবাদী, সভ্য মানুষ ইসরায়েলিরা। ইসরায়েল কারও জন্যই কোনও সমস্যা না। জানি না বাঙ্গুদের বা পৃথিবীর অবশিষ্ট মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর কি সমস্যা ইসরায়েল নিয়ে! মিশর, জর্ডানও তো ইসরায়েলের প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্র। উভয় দেশের সাথেই ইসরায়েলের সম্পর্ক খুব ভালো। তাদের তো কোনও সমস্যা নেই। যুদ্ধের কারণে অবশিষ্ট মুসলিম বিশ্বের চাপে পড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বললেও, বাস্তবে দেশ দুটো ইসরায়েলের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রেখে আসছে। বিভিন্নভাবে ইসরায়েলের থেকে লাভবান হয়েছে। ইসরায়েলের আরেক প্রতিবেশী মুসলিম দেশ লেবাননের সাথেও স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখতে চায় ইসরায়েল। এখানে ইরানের প্রক্সি জঙ্গি গোষ্ঠী হিজবুল্লা প্রধান বাধা। লেবাননকে একেবারেই ধ্বংস করে দিয়েছে হিজবুল্লা। লেবানিজরা তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। হিজবুল্লার সাথে ইসরায়েলের এ যুদ্ধকে সভ্য শিক্ষিত লেবানিজরা শতভাগ সমর্থন করেছে। তারা ইসরায়েলের সাথে আছে। ইসরায়েলের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। যেহেতু হিজবুল্লার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকে মোকাবেলা করার মতো নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা নেই লেবাননের। লেবানিজদেরও আসলে কোনও সমস্যা নেই ইজরায়েল নিয়ে! আসলে লেবানিজদের হয়েও এ যুদ্ধ করছে ইসরায়েলিরা। হিজবুল্লা শেষ হলে লেবাননের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক মিশর, জর্ডানের মতো স্বাভাবিক হবে। লেবানিজরাও তখন নিজেদের দেশে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারবে। এতে সর্বোচ্চ লাভবান হবে লেবানিজরাই। আগেও বলেছি, এ যুদ্ধ শুভের সাথে অশুভের, মানবতার সাথে বর্বরতার, ধ্বংসের সাথে শান্তির। আমি মানবতার সাথে, শুভের সাথে, শান্তির সাথে। আমি ইসরায়েলের সাথে। পৃথিবীর সভ্যতম আদর্শ রাষ্ট্রগুলোর একটি ইসরায়েল। এ দেশ আমাদের বাঁচিয়ে রাখতেই হবে।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


