
এ যুদ্ধে ইরান ইতোমধ্যেই একশো বছর পিছনে চলে গেছে। ইরানের খবর সেভাবে আমরা পাই না। কারণ, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদে জর্জরিত বিপদজনক, অস্বাভাবিক দেশ। নিষিদ্ধ দেশই বলা যায়। আইনের শাসন বলে কিছু নেই সেখানে। সাংবাদিকতা, অবাধ তথ্যপ্রবাহের জন্য একেবারেই অনিরাপদ। পক্ষান্তরে ইসরায়েলে দুনিয়ায় মিডিয়া কাজ করছে নির্বিঘ্নে। কোথাও কোনও সমস্যা নেই। ভারতীয় চ্যানেলগুলোর সংবাদকর্মীরা এই ভয়ানক যুদ্ধের মাঝেও দলে দলে অবস্থান করছে ইসরায়েলে। সেখানকার প্রশাসন, সরকার সবরকম সহযোগিতা, নিরাপত্তা দেয় পৃথিবীর সংবাদকর্মীদের। ইরানে যা অকল্পনীয়। আগে থেকেই ইরানের খবর সেভাবে পাওয়া যেতো না মিডিয়ায়। এখন তো প্রায় অসম্ভব। ইন্টারনেট বন্ধ ইরানে। ছিটেফোঁটা যে সব খবর পাচ্ছি বিভিন্ন সোর্স থেকে, সেটা ভয়াবহ। ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন বলেছে, ইরান আত্মসমর্পণ না করলে তাদের পাথর যুগে নিয়ে যাওয়া হবে। উল্টোদিকে সে যাত্রাই চলছে ইরানের বাস্তবিক। ভয়ানকরকম ধ্বংসলীলা, বিপর্যয় ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। যে স্কেলে ইরানে হামলা হয়েছে, তা অভাবনীয়। ইরানের তেরো হাজারের মতো স্থাপনা হিট হয়েছে এ পর্যন্ত। ধারাবাহিক হামলায় একেবারেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরান। ভয়ানকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। এদিকসেদিক থেকে লুকিয়ে কিছু মিসাইল, ড্রোন মারার সক্ষমতাই শুধু অবশিষ্ট আছে ইরানের। শীঘ্রই সেটাও থাকবে না। অথচ আমাদের বাঙ্গু মিডিয়া, তৌহিদি জনতা, মোমিন মুসলমান পড়ে আছে ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে। ইসরায়েলই নাকি শেষ হয়ে গেছে এ যুদ্ধে। মিসাইল মেরে মেরে ইসরায়েলকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে ইরান। হা হা হা। বাস্তবতা হলো যে, ইরানের একশো ভাগের এক ভাগও ক্ষতি হয়নি ইসরায়েলের। সেখানে সবই স্বাভাবিকভাবে চলমান। এরকম যুদ্ধের মাঝেও তাদের সংসদ চলছে পুরোদমে। ইসরায়েলিদের কাছে যুদ্ধ নতুন কিছু নয়। যুদ্ধ করেই টিকে আছে। নাগরিকদের প্রস্তুতি থাকেই যুদ্ধ মোকাবিলার। ইসরায়েলে সবরকম স্থাপনার পাশে আলাদাভাবে বাঙ্কার, আন্ডারগ্রাউন্ড বোম শেল্টার থাকে। সাইরেন বাজলে তারা সেখানে আশ্রয় নেয়। তারপরও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হবেই। সেটা ঠেকানো সম্ভব নয়। হয়েছেও। সে ক্ষয়ক্ষতি অল্প সময়েই কাটিয়ে উঠবে ইসরায়েল। কিন্তু ইরান একেবারেই শেষ। আগামী একশো বছরেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না ইরান। দীর্ঘসময় যুদ্ধের প্রভাব থাকবে সেখানে। ইরানের সাধারণ মানুষ দীর্ঘসময় অবর্ননীয় দুঃখকষ্ট হতাশায় ভুগবে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


