somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-৪

০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এ যুদ্ধে ইরান ইতোমধ্যেই একশো বছর পিছনে চলে গেছে। ইরানের খবর সেভাবে আমরা পাই না। কারণ, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদে জর্জরিত বিপদজনক, অস্বাভাবিক দেশ। নিষিদ্ধ দেশ। আইনের শাসন বলে কিছু নেই সেখানে। সাংবাদিকতা, অবাধ তথ্যপ্রবাহের জন্য একেবারেই অনিরাপদ। পক্ষান্তরে ইসরায়েলে দেখেন। দুনিয়ায় মিডিয়া নির্বিঘ্নে কাজ করছে। কোথাও কোনও সমস্যা নেই। ভারতীয় চ্যানেলগুলোর সংবাদকর্মীরা এই ভয়ানক যুদ্ধের মাঝেও দলে দলে অবস্থান করছে ইসরায়েলে। সেখানকার প্রশাসন, সরকার সবরকম সহযোগিতা, নিরাপত্তা দেয় পৃথিবীর সংবাদকর্মীদের। ইরানে যা অকল্পনীয়। আগে থেকেই ইরানের খবর সেভাবে পাওয়া যেতো না মিডিয়ায়। এখন তো সেটা প্রায় অসম্ভব। ইন্টারনেট বন্ধ ইরানে। ছিটেফোঁটা যে সব খবর পাচ্ছি বিভিন্ন সোর্স থেকে, সেটা ভয়াবহ। ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন বলেছে, ইরান আত্মসমর্পণ না করলে পাথর যুগে নিয়ে যাওয়া হবে তাদের। উল্টোদিকে সে যাত্রা চলছে ইরানে বাস্তবিকই। ভয়ানকরকম ধ্বংসলীলা, বিপর্যয় ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। যে স্কেলে ইরানে হামলা হয়েছে, তা অভাবনীয়। ইরানের ১৩ হাজারের মতো স্থাপনা হিট হয়েছে এ পর্যন্ত। ধারাবাহিক হামলায় একেবারেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরান। ভয়ানকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। এদিকসেদিক থেকে লুকিয়ে কিছু মিসাইল মারার সক্ষমতাই এখন শুধু অবশিষ্ট আছে তাদের। শীঘ্রই সেটাও থাকবে না। অথচ আমাদের বাঙ্গু মিডিয়া, তৌহিদি জনতা, মোমিন মুসলমান পড়ে আছে যুদ্ধে ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে। ইসরায়েলই নাকি উল্টো শেষ হয়ে গেছে এ যুদ্ধে। মিসাইল মেরে মেরে ইসরায়েলকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে ইরান। হা হা হা। বাস্তবতা হলো যে, ইরানের একশো ভাগের এক ভাগও ক্ষতি হয়নি ইসরায়েলের। সেখানে সবই স্বাভাবিকভাবে চলমান। এরকম যুদ্ধের মাঝেও তাদের সংসদ চলছে পুরোদমে। ইসরায়েলিদের কাছে যুদ্ধ নতুন কিছু নয়। যুদ্ধ করেই টিকে আছে তারা। নাগরিকদের প্রস্তুতি থাকেই যুদ্ধ মোকাবিলার। ইসরায়েলে সবরকম স্থাপনার পাশে আলাদাভাবে বাঙ্কার, আন্ডারগ্রাউন্ড বোম শেল্টার থাকে। সাইরেন বাজলে তারা সেখানে আশ্রয় নেয়। তারপরও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হবেই। সেটা ঠেকানো সম্ভব নয়। সেটা হয়েছেও। সে ক্ষয়ক্ষতি অল্প সময়েই পুষিয়ে নিবে ইসরায়েল। কিন্তু ইরান একেবারেই শেষ। আগামী একশো বছরেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না ইরান। দীর্ঘসময় যুদ্ধের প্রভাব থাকবে সেখানে। ইরানের সাধারণ মানুষ দীর্ঘসময় অবর্ননীয় দুঃখকষ্ট হতাশায় ভুগবে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ থেকে ২০০৬ / ২০২৬শে এসে আবারও দেশ ফিরে গেলো খাম্বার খপ্পরে ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৪

তারেক জিয়া “ ২০০১ থেকে

২০০৬ পর্যন্ত যা করে গিয়েছিলেন। তিনি ঠিক সেখান থেকেই ২০২৬ শুরু করলেন। অনেকেই তার অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলছেন। ছোট ছোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে AI, গণমাধ্যম, এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

বাংলাদেশে AI নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু “নতুন প্রযুক্তি” নিয়ে উত্তেজনা বা ভয় নয়। এখন বিষয়টা অনেক বড়। AI ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, সরকারি কাজ, জনবিশ্বাস, ভাষা, এবং নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাল্যবিবাহে আমারও আপত্তি নেই, তবে…(একটু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০



১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×