
বিভিন্ন সময় এই ব্লগে অনেককে দেখেছি মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তর্কবিতর্কে জড়াতে। অনেকেই নিহতের সংখ্যা ত্রিশ লাখকে তিন লাখ দাবি করে। একজন বাংলাদেশী বাঙালী হয়ে এটা করা যার পর নেই দুঃখজনক। এতে করে গণহত্যাকেই অস্বীকার করা হয়! আপনারা না জেনে না বুঝে বিরাট ভুল করছেন। মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা আওয়ামী লীগের নিজস্ব সম্পত্তি নয়। আপামর জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধ হয়। দলমত নির্বিশেষে সবাই অংশ নেয়। সবারই বেশুমার অশ্রু রক্ত ঘাম মিশে আছে মুক্তিযুদ্ধের সাথে। আমার ছোটোবেলায় এরকম বহু মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলাম যাাদের বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। বাবার কোনও স্মৃতি নেই। আহা, কী যে মর্মান্তিক সেসব কাহিনি! লিখতে গিয়ে মনে পড়ছে। মন শোকাভিভূত। আমার বড়ো বোনের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী রেখা আপা। মুক্তিযুদ্ধে পিতা হারিয়েছেন। বিহারিরা নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়। এভাবে একজন দুজন নয়, অগুনিত। এ ব্যাপারে কারও কিছু বলার থাকলে মন্তব্যে অবশ্যই বলবেন। সবার কাছে করজোড়ে নিবেদন, দয়া করে কেউ আর মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা তিন লাখ বলবেন না। এটা সেই শহীদদের রক্তের সাথে খুবই বেইমানী, বিশ্বাসঘাতকতা হবে। আমার চোখে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। ব্লগে অনেককেই এ ভুল করতে দেখি। তাদের দুয়েকজনকে বরাবরই সম্মানের চোখে দেখে আসছি। বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী মনে করি। তারাও আমাকে হতাশ করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে নয় লাখ বেসামরিক মানুষ মারা যায়। কোনও জাপানি কোনওদিন নয় লাখের জায়গায় দুই লাখ তিন লাখ বলবে না। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার ও বিহারিরা মিলে গণহত্যা চালিয়েছে। ব্যাস ফুলস্টপ। বিহারিদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করলাম; কারণ, ওদের নৃশংসতা, বর্বরতা সম্পর্কে মনে হয় না ব্লগে আমার থেকে ভালো আর কেউ জানে! আমি বিহারি অধ্যুষিত এলাকায় বড়ো হয়েছি। আমার হাইস্কুলের সত্তর ভাগ সহপাঠী ছিলো বিহারি। যাই হোক, ব্লগে যেন আর কখনও দেখতে না হয়, মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ত্রিশ লাখ না তিন লাখ।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



