
দুয়েক বছর আগের কথা। তিনশো ফিটে দৌড়াচ্ছি। ঠাঠা রৌদ্রের দিন। যার পর নাই তপ্ত আবহাওয়া। সকাল দশটার মতো বাজে। প্রচণ্ড গরমে ত্রাহিত্রাহি অবস্থা। এক পর্যায়ে দৌড় থামিয়ে হাটা শুরু করলাম। এসময় হঠাৎ একটা কেঁচো সামনে পড়লো। চাইলে সাবধানে পা ফেলে উপেক্ষা করে দিব্যি চলে যেতে পারতাম। কিন্তু সেটা না করে ইচ্ছাকৃতভাবেই পা দিয়ে মারিয়ে হত্যা করি। থেঁতলে গিয়েছিলো শরীর। ‘ক্যাৎ’ করে বিদঘুটে শব্দ হয়েছিলো। হাটতে হাটতে পেরিয়ে যেতে থাকি। এ সময় তীব্র অপরাধবোধ, পাপবোধ আমাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো। এ কী করলাম! এটা খুব ভুল করেছি। অন্যায় করেছি। কাজটা কোনওরকমেই ঠিক হয়নি। এমন নয় যে, অসাবধানতাবশত ঘটে গেছে। না। ইচ্ছা করেই করেছি। একটা নিষ্পাপ জীবকে নিছকই শখের বশে হত্যা করে বসলাম! যার দ্বারা আমার বা অন্য কারোই ক্ষতি হবার কোনওরূপ সম্ভাবনা ছিলো না। এই মহাসড়কের ঠাঠা রোদ্দুরে পুড়ে পুড়ে যে জীবন সমাপ্ত হবার কথা ছিলো। আমি নিছকই খেলার ছলে পাড়া দিয়ে হত্যা করলাম!
সত্যি, পরবর্তীতে খুবই অনুতপ্ত হয়েছিলাম। আমার সে মনোবেদনা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। প্রচন্ডরকম তীব্র সে অনুভব। সে বিদঘুটে শব্দ, সে বীভৎস মুহূর্তটি বারবার ফিরে আসছিলো। এখন লিখতে গিয়েও সে স্মৃতিচারণ করে আমি ব্যথিত, অনুতপ্ত। সেদিন সেখানে হাটতে হাটতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, পরবর্তীতে যতোদিনই বেঁচে থাকি পৃথিবীতে, এরকম অন্যায়, অকাজ, অনাসৃষ্টি আর করবো না। প্রতিটি পদক্ষেপে সাবধান, সচেতন থাকবো।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




