ইদানিং দেশে ফোন করা এক মহা ঝমেলা। কম খরচে ফোন করার জন্য সাধারণত কলিং কার্ডে ফোন করি। এমনিতেই অনেকবার চেস্টা করতে হতো আর বর্তমান তত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ ভয়েস ওভার আইপি বন্ধ করে দেয়ায় কলিং কার্ড এ সংযোগ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু মনটা খুব ভাল হয়ে যায় যখন শুনি দেশের অবসথা এখন ভালো। অনলাইনে পত্রিকা পড়েও ভালো লাগে। কিন্তু তারপরেও কেমন যেন একটা ভয় হয়। আবার আশা ভঙ্গ হবেনাতো! আমরা যত বার আশায় বুক বেঁধেছি ততোবারই আশা ভঙ্গ হয়েছে।তাই দেখা যায় কেউ আসলেই ভালো কিছু করলেও আমরা আমাদের সংশয় দূর করতে পারিনা। এই তত্বাবধায়ক সরকারের বেলায় ও হয়তো তাই হচ্ছে। কিন্তু আমরা বরাবরের মতই আশা করে যাব। আশাকরি আমরা দেখতে পাবো আমাদের সংসদে বসে আছে তিন শত যোগ্য সাংসদ। তিন শত না হোক আশাকরি সংখ্যা গরিষ্ঠ সাংসদ হবে যোগ্য।
বেশ কিছুদিন আগে ড: ইউনুস, সাবেক বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সহ সুশীল সমাজ আহবান জানিয়েছিলেন সংসদ নির্বাচনে যাতে আমরা তিন শত যোগ্য ব্যক্তিকে প্রতিদন্ধিতা করাতে পারি। তারপর ড: ইউনুস নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন এবং তাঁর দায়িত্ব ও জনপ্রিয়তা দুটোই বেড়েছে। উনি রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন বলে জানিয়েছেন।অনেকেই সমালোচনা করছেন। অনেকেই অপছন্দ করছেন। কিন্তু আমাদের আশা করতে দোষ কি? আমরা অনেক অযোগ্য লোককে আমাদের নেতা-নেত্রী হিসাবে নির্বাচিত করেছি আর একজন নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তি যদি রাজনীতি করতে চায় তো করুক। তবে যদি আশা ভঙ্গ হয় দ:খ একটু বেশি পাবো তাতে সন্দেহ নেই।
আমাদের ভবিষ্যত নেতা-নেত্রী যোগ্য কি অযোগ্য হবে তা নির্ভর করবে যারা রাজনীতি করবেন কিংবা নির্বাচন করবেন তাঁদের যোগ্যতার উপর। কিন্তু যোগ্য ব্যক্তি আমরা কাকে বলবো? স্বল্প কথায় সাধারণ জনগণ যোগ্য নেতা কিংবা নেত্রী বলতে মনেপ্রাণে জনগণের মঙ্গল চায়, জনগণের উন্নয়ন চায় এমন একজন যার মেধা, সততা এবং কর্মপদ্ধতি তাঁর লক্ষ্য কে বাস্তবে রুপান্তরিত করতে পারবে এমন একজনকেই বোধ করি বোঝায়। কিন্তু বর্তমানে একজন যোগ্য সাংসদ আর নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার মত ব্যক্তির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আমাদের বাংলাদেশে। তিন শত নির্বাচিত সাংসদ সহ নেতা-নেত্রীদের চরিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে দলের ভিন্নতা সত্বেও তাঁদের মধ্যে অমিলের চেয়ে মিল অনেক বেশি। অযোগ্য নেতৃত্বের লজ্জা কিন্তু জনগণের উপরও বর্তায়। দেশ-বিদেশে তাঁরাই তো আমেেদর প্রতিনিধিত্ব করে। সুতরাং এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাবার পথ আমাদেরকেই খুঁেজ বের করতে হবে।
সুশীল সমাজের আহবান অনুযায়ী আমরা তিন শত যোগ্য প্রার্থ ী খুঁজে পেলেও সেই তিন শত প্রার্থ ী কোন দিনই নির্বাচিত হবেনা যদিনা আমরা এমন পরিবেশ তৈরি করতে পারি যেখানে প্রথমত তাঁরা প্রার্থ ী হতে পারবে এবং দ্্বিতীয়ত নির্বাচনের ফলাফল পেশীশক্তি, অর্থ এবং অনিয়ম দারা প্রভাবিত হবেনা। বর্তমানে নির্বাচনে নির্বাচিত হবার যোগ্যতা আর যোগ্য প্রার্থ ীর যোগ্যতা যেহেতু এক নয় হয়তোবা তিন শত যোগ্য প্রার্থ ীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। কিন্তু তাই বলে ঐ আহবান মোটেও ভুল ছিলনা। যোগ্য প্রার্থ ী দেরকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে কিন্তএগিয়ে আসার জন্য যে সাহসের প্রয়োজন তা যোগাতে হবে আমাদেরকেই।
আমরা অনেক অযোগ্য এবং দূর্ন ীতিপরায়নকে নির্বাচিত করেছি। এমনকি অনেক অশিক্ষিত এবং ধর্মান্ধকেও নির্বাচিত করেছি। তিন শত সাংসদের মধ্যে কতজন যে দেশের ভালোর জন্য কাজ করে তা সঠিক বলতে না পারলেও এই টুকু জানি সংখ্যটা খুব বেশি নয়। এখন সময় এসেছে আমাদের নেতা হওয়ার যোগ্যতা তাঁদের আছে কিনা সে প্রশ্ন করা। একজন অযোগ্য প্রার্থ ী পেশীশক্তি দিয়ে নির্বাচিত হলে হোক কিন্তু সে জানুক যে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সে নির্বাচিত হয়েছে। এমনি ভাবে এমন এক সময় আসবে যখন যোগ্য প্রার্থ ী আর নির্বাচিত হওয়ার প্রার্থ ীর যোগ্যতা এক হয়ে যাবে। আমরা যদি এখনও নেতাদের যোগ্যতা নিয়ে অন্তত প্রশ্নও করতে না পারি তবে সত্যিকারের স্বাধীন বাঙালি জাতির জন্য আরেকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ছাড়া আর কোন রাস্তাই খোলা থাকবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৮:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


