হয়তো সবচেয়ে ভালো গ্রাহ্য না করা কিন্তু না লিখে কিছুতেই পারলামনা। অনেকের লেখা এবং মন্তব্য পড়ে মনে হল যত অল্প কথায় পারা যায় আমাদের কয়েকটি বিষয় নিয়ে লেখা উচিত। আসলে আমরা আমাদের স্বভাব কোন ভাবেই বদলাতে পারিনা তা আমরা যেখানেই থাকিনা কেন। অনলাইন বলুন, মুখোমুখি আড্ডা বলুন, দেশে বলুন আর বিদেশেই বলুন।
1। ধর্ম ঃ আমরা কিছুতেই ধর্ম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি না করে পারিনা। কারো ধর্ম ীয় বিশ্বাসে যেমন আঘাত করা উচিত নয় তেমনি ধরে নেয়া উচিত নয় যে অন্যরা ধর্মের কিছু জানেনা। একটা কথা বলে নেয়া দরকার ধর্মান্ধ কিংবা মৌলবাদী যে কোন ধর্মেরই হতে পারে। সে মুসলিম, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা অন্য যে কোন ধর্মেরই হোকনা কেন। অন্যকে ধর্ম শিক্ষা দেয়ার আগে একবার ভাবুন আপনি আসলে কতটুকু জানেন। আজ থেকে 800 শত বছর আগে জালালউদ্দিন রুমি যা বলে গেছেন নজরুলও সৃষ্টিকর্তাকে চেনার ব্যাপারে তাই বলে গেছেন। এখন আমি যদি ধর্ম সম্পর্কে নজরুলের বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই আমাকে অবশ্যই ভেবে দেখা উচিত ধর্ম সম্পর্কে আমি কতটা জানি। কিন্তু দেখা যায় কিছু লোক অন্যের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে খুব বেশী রকম চিন্তিত। অথচ ঐ সময় টুকু অন্য কাজে ব্যয় করলে হয়তো আরো উপকারী কাজ হতো। আমি মনে করি যার যার ধর্ম তাঁর তাঁর কাছে। সবার আগে দরকার সবার জন্য অন্ন বস্র বাসস্থান তারপর আসে অন্য সব। যারা আসলেই ধর্ম জানে তাদের কথায় মানুষ রাগ করার কথা না কারণ সে ঠিকি বোঝাতে পারার কথা। উন্নত দেশ গুলোতে রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা রাখা হয়েছে বলেই তাঁদের উন্নতি হয়েছে। তার মানে এই নয় যে সেখানে মানুষ ধর্ম পালন করছেনা। আশাকরি এখানে আমরা সকলেই শিক্ষিত (অন্তত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আছে) সুতরাং ভালো মন্দ বোঝার ক্ষমতা আশাকরি আমাদের আছে।
2। রাজনীতিঃ রাজনীতি নিয়ে আমরা না জেনে শুনে যে কোন একটা মন্তব্য করতে একটুও দ্্বিধাবোধ করিনা। আমরা সবাই এই ব্যাপারে পটু। অনেক কেই দেখেছি রাজনীতি করে অথচ কোনদিন তাঁর দলের গঠন তন্ত্র ধরেও দেখেনি। সত্য কথা বলার সাহস নাই। নিজের দলের কেউ অযোগ্য হলে তা মেনে নয়া যেন পাপ। রাজনীতিবিদদের ভালো হতে বলার আগে আমাদের নিজেদের ভালো হওয়া উচিত।
3। গর্বের যা কিছুঃ আমাদের গর্বের যা কিছু তা ছোট না করতে পারলে যেন আমাদের শান্তি হয়না। অন্যান্য দেশে দেখা যায় পারলে বাড়িয়ে বলে আর আমরা প্রথমেই খুঁজি কোন খুত পাওয়া যায় কিনা। আমরা এখনো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক করি। দ্্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাদে বাংলাদেশেই হয়েছে সবচেয়ে বড় গণহত্যা। অথচ আমরা ঝগড়া করি আসলে কত লোক মারা গেছে। যারা মেরেছে তাঁরা করেনা সত্যতা যাচাই করি আমরা। মানুষ সেই উনিস শত শতকের প্রথম দিকে তুর্কিরা কত আরমেনিয়ান মেরেছিলো তা জানে কিন্তু আমাদের দেশে এতো বড় গণহত্যার কথা শুনলে অবাক হয়ে যায়। জানতে চায় কেন মানুষ জানেনা। আমি বলি আমাদের জন্য। সামপ্রতিক কালের ঘটনা হিসাবে ডঃ উইনূসের কথা বলা যায়। নোবেল পেতে না পেতেই শুরু হলো কি ভাব তাঁর খুত বের করা যায়। খুত অবশ্যই তাঁর আছে এবং খুঁজেও পাওয়া যাবে।কিন্তু আমাদের যেন তর সয়না। তিনি অধিক সুদে ঋন দেয় তো আরেকজন কম সুদে দিয়ে তারপর সমালোচনা করলেই হয়।আর সুদ খাওয়া নিয়ে এখন বলতে চাই না তাহলে অনেক লিখতে হবে। আমরা বলতে পারিনা যে আলাউদ্দিন খান আমাদের বাংলাদেশেই জন্মেছিলো। তার বাড়িতে বরং আক্রমন করা হয়। অনেক প্রতিভার বিকাশ অন্য দেশে গিয়ে হয় আমদের স্বভাবের জন্য।
আমি আমার আগের লেখায় লিখেছি এবং আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আমাদের উন্নতির অন্তরায় আমাদের অশিক্ষা, অসচেতনতা এবং ধর্মান্ধতা। তিন কারণেই আমাদের নারী সমাজও বিভিন্ন ভাবে অত্যাচারীত হয়। এই তিন কারণে আমাদের দেশ এতো পিছিয়ে আছে এবং অদূর ভবিষ্যতে উন্নতির কোন সম্ভাবনা নেই যদিনা আমরা এই তিনকে দূর করতে না পারি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৮:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



