somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২৬ মার্চ ২০১৫ ও পরবর্তী প্রেক্ষাপট

২৬ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘আজও আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,আজও আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ন নৃত্য দেখি,ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজও আমি তন্দ্রার ভেতরে’ (বাতাসে লাশের গন্ধ....রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লা)
প্রিয় শ্রদ্ধাভাজনেষু,
আজ ২৬মার্চ,২০১৫ আমাদের জাতীয় জীবনে তাৎপর্যবহ একটি দিন।আজ আমাদের ৪৪তম স্বাধীনতা দিবস। সকলকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

প্রিয় অভ্যাগত,
১৯৭১এর ২৫মার্চ আমাদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতার বিভৎসচিত্র কেমন ছিল সে বিষয়ে আমরা সকলেই অবগত। বাংলাদেশের ওপর পরিচালিত অপরেশন সার্চ লাইটের ভয়াবহতা নিয়ে দেশীবিদেশী বহু সাংবাদিক তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলেধরেছিলেন।আমরা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে ঐ কালো অধ্যায়কে পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়েছিলাম ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১এ। আমি ৪৪ বছর পরে এসে সে বিষয়ে যাবনা। আমি দুট বিষয়ে কথা বলতে চাই।

প্রথমটা হচ্ছে- আমরা কেন মুক্ত হওয়ার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম আর দ্বিতীয়টা-আমরা কতটুকু মুক্ত হতে পেরেছি?

প্রথমটার উত্তর-একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের জন্য। যেখনে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হবে ,বুদ্ধিজীবীগণ তাঁদের সুচিন্তিত মত প্রকাশ করবেন আর রাষ্ট্র হয়ে উঠবে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান।

দ্বিতীয়টার উত্তর- আমরা আজও মুক্ত হতে পারিনি।

প্রিয় সুধী,
যদিও জাতীয় মুক্তি ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের জন্য বিভিন্ন শ্রেণি পেশা, ধর্মবর্ণের মানুষ এক হয়ে ছিল,তারপরও স্বাধীনতা বিরোধীরা মত্ত হয়ে উঠেছিল বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে প্রগতিশীল সকল শক্তি কে কতল করতে।
এরই ধারাবাহিকতায় তারা ১৪ ডিসেম্বর, ৩ রা নভেম্বর, ১৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।

সুহৃদ,
২৫ মার্চ ৭১থেক ১৬ ডিসেম্বর৭১ এরপর আজ ২৬ মার্চ ২০১৫। বাংলাদেশের অর্জন অনেক।যেমন-বিশ্বকাপ
ক্রিকেটে অংশগ্রহণ,সমুদ্রসীমা বিজয়,শিক্ষার প্রসার,কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি,নতুন চিন্তাশীল মানুষের আবির্ভাব,নোবেল পুরস্কার লাভ,তরুণ সমাজের জেগে ওঠা ইত্যাদি।
এতকিছুর পরও আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন আমি কেন বলছি যে আমাদের উন্নতি হয়নি? যখন স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরে পেট্রোল বোমায় নিহত হয় প্রায় দেড়শতাধিক মানুষ? যখন আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো মহান ২১এ ফেব্রুয়ারি নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়? তখন আমার মত লাখ তরুণের মনে হয় দেশে২৫ মার্চই চলছে আর , ২৬মার্চের আদর্শ হয়ে যায় মেকি।


আমি রাজনীতি বা ইতিহাসে অভিজ্ঞ নই যে এর যথার্থ কারণ বলতে পারব কিন্তু এটুকু বলতে পারব –
হ্যাঁ, আপনিই সেই প্রতিভাবান পুরুষ, যাঁকে আমরা খুঁজছি।
যদি আপনার কোন মগজ না থাকে, শুধু পেশি থাকে
যদি আপনার কোন হৃৎপিন্ড না থাকে, শুধু লিঙ্গ থাকে
যদি আপনার কোন ওষ্ঠ না থাকে, শুধু দাঁত থাকে
তাহলে আপনিই সেই প্রতিভাবান পুরুষ, যাঁকে আমরা খুঁজছি
যদি আপনি অবলীলায়, একটুও না কেঁপে, শিশুপার্কে
একঝাঁক কবুতরের মতো ক্রীড়ারত শিশুদের মধ্যে একের পর এক
ছুঁড়ে দিতে পারেন হাতবোমা।
(বিজ্ঞাপন….হুমায়ুন আজাদ)

প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী,
৭৫ পরবর্তী যে অশুভ শক্তির উত্থান ঘটেছিল বাংলাদেশে তার শেষ এখনোও হয়নি। আমরা কতটা অদক্ষ জাতি যে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন করতে পারিনা! আমরা পারিনা প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পযন্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে,অথচ আমরা স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও বেশ সুচারু রূপে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্কে মেতে উঠি!
আমরা একদিকে হত্যা করছি মুক্তবুদ্ধির ধারক ,বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী হুমায়ুন আজাদকে, হত্যা করেছি বিজ্ঞান মনস্ক লেখক অভিজিৎকে, নির্বাসনে পাঠিয়েছি তরুণ কবি দাউদ হায়দারকে আর নারীবাদী লেখক তসলিমা নাসরিনকে
অথচ পারছিনা একটি গণজাগরণ মঞ্চ করতে, আবার হত্যা করেছি রাজীবকে!

এখন আমার প্রশ্ন – যেদেশে মুক্তবুদ্ধির চর্চা থাকবে না সে দেশে কীভাবে বাস্তবায়িত হবে স্বাধীনতার স্বপ্ন?

এর পরেও আমরা আশাবাদী, আমরা বলছি-

এরকম বাংলাদেশ কখনো দেখনি তুমি।/মুহূর্তে সবুজ ঘাস পুড়ে যায়;/ত্রাসের আগুন লেগে লাল হয়ে জ্বলে ওঠে চাঁদ।
নরোম নদীর চর হা-করা কবর হয়ে/গ্রাস করে পরম শত্রুকে;/মিত্রকে জয়ের চিহ্ন, পদতলে প্রেম,/
ললাটে ধূলোর টিপ এঁকে দেয় মায়ের মতন;
(প্রথম অতিথি…নির্মলেন্দু গুণ)

প্রিয় সহযোদ্ধা,
‘ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য/ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা
চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য/কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া (মে দিনের কবিতা…সুভাষ মুখোপাধ্যায়)

প্রিয় সহযাত্রী,
সবথেকে দুঃখজনক বিষয়-মুক্তিযুদ্ধ কাগজের যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।আরো দুঃখজনক সরকারের সাথে সাথে এই কাগজের ও পরিবর্তন হয়!এই মহান অবদানকে লজ্জাজনক ভাবে রাজনীতি করণ হয়েছে।
চলুন আমরা আমাদের তারুণ্য দিয়ে যে যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করি ,ত্রিশলক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধানকে বিনির্মাণ করি। শ্রেণিপেশা ভুলে,জাতিধর্মবর্ণ এক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলে দেশ গড়ার লক্ষে কাজ করি। এটাই হোক আজকের শপথ।

ধন্যবাদ।








২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×