somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাগালোচনা

২৩ শে জুন, ২০০৬ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজনের সাথে চার বছর কথা বন্ধ রেখেছিলাম। কেমন আছি ভাল আছির মত সাধারণ কথাও না। তাকাতাম এমন করে যেন সামনে কিছু নেই, পিছনের দেয়াল দেখছি। সবার সামনে ধরিয়ে দেয়ার জন্য কথা জিজ্ঞাসা করলেও আমি নির্বাক। সৌজন্যতার ধার ধরি নি একদম। বুঝুকগে যার যা বুঝার। লাগুক গে দৃষ্টিকটু।

অথচ আমার স্বাভাবিক রাগ মোটেই দীর্ঘস্থায়ী না। কখনই রাগের মাথায় প্লেট বাটি গ্লাস ভাঙি নি। এ পর্যন্ত সবের্াচ্চ ধ্বংসাত্মক কাজ শব্দ করেদরজা বন্ধ করা। রাগের সময় কখনই চিল্লাচিলি্ল করি না। পারি না। একটা পর্যায়ের পর গলা উঠালে গলা ভেঙে আসে তাই তীব্র রেগে গিয়েও পারি না চিল্লাতে। কেউ চিল্লালে মাথা ধরে। বিরক্ত লাগে, কি জালা, কিছুক্ষণ আগের চেয়ে আমার কানের পাওয়ার কমে গেল এই ধারণা করছে ক্যান?

অল্প যতটুকু সময় রাগ থাকে, সেটুকু সময় খুব রেগে গেলে অইত্যন্ত গুছিয়ে কথা বলি। বলতে বলতে চোখে ঝড়ে বাড়ি ধারা। ব্যাস, আমার রাগ খতম। রাগ ঝুলায় রাখতে ভাল্লাগে না। কারও সাথে ভুল বুঝাবুঝি হল তো যতক্ষণ না রিজলভড হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমার রাতে ঘুম নাই।

এই আমি চার বছর কথা না বলে ছিলাম। চার বছর শেষে অশ্রু ভেজা চোখের অনুতাপ মেনে নিলাম খুব সহজে। কারণ ছিল অন্য, আমার প্রতি যেই অবিচার করে রাগের কারণ ছিল সে, একই অবিচার তার উপরে হয়েছে। আমার উপর করা অবিচারের পরোক্ষ হলেও কারণ ছিল সেটা। দু'জনেই মজলুমের পাল্লায় বলেই হয়তো মাফ করতে পেরেছি।

অথচ সেই মেয়েটা, যার জন্য পাগল ছিলাম এক সময়। প্রতিদিন এক ঘন্টা কথা, ইমেইল, মাঝে মাঝে চিঠি আর উপহার চালাচালি না হলে ঘুম হত না, ওর সাথে কি সহজে ছয় মাস কথা না বলে আছি। জানতেও ইচ্ছা করে না কেমন আছে সে। নাম ভাবতেই ভিতরে জ্বালা আসে। অনেক ক্ষমা প্রার্থনার পরেও মাফ করতে পারি নি। বুদ্ধের মুর্তির মত নির্লিপ্ত হয়ে আছি 'যে মাফ করে সেই বড়' টাইপের নীতি বাক্য শুনার পরেও। অবাক হয়ে যাই আমি, মাঝে মাঝে ওর দেয়া কোন বই হাতাতে গিয়ে মনে হয়, কেন পারি না মাফ করতে? কেন? কেন ওর কথা ভাবতেই ভিতরে নিষ্ঠুর নির্লিপ্ততা দানা বাঁধে?

শুধু দুইটা ভুল করেছিল। দুইবার কথা ভেঙেছিল। তাও একজনের দিব্যি দিয়েছিলাম, যার কিছুতেই জানা চলবে না। পরের দিনই সে জেনে গেল। আমার সারা পৃথিবী এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। কি করে মাফ করি বলেন? চেষ্টা করেছি অনেক, আজও পারি নি। অত শত অশ্রুর বন্যা দেখেও করুণা ছাড়া কিছুই হয় না।

অবিশ্বাস করতে জানি না কাউকে (মায়ের ধারণা এই আমার সবচেয়ে বড় দোষ, পস্তাবো অনেক)। এত অবলীলায় আত্মসমর্পনের পরে একবার বিশ্বাস ভাঙলে সেটা জোড়াও লাগাতে পারি না কিছুতেই। আইকা, সুপারগ্লু কিছুতেই কিছু হয় না। চৌচির হয়ে যাওয়া বিশ্বাস পড়ে থাকে। আমি নির্লিপ্ত।

ছবি কৃতজ্ঞতা:
http://graphics.iparenting.com/ lipart/justkids/00075112.jpg
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০০৬ রাত ১০:০১
২৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×