সেই ম্যাসেজগুলো পড়ার সবচেয়ে বড় হ্যাজার্ড হল যে কোন সময় এংজাইটি অ্যাটাক হয়ে হার্ট অ্যাটাক ট্যাটাক হয়ে যেতে পারে: ইহা আজকের মধ্যে দশজনকে বিলি না করলে তুমি কখনও ভালবাসতে পারিবে না। উহা পাঁচ মিনিটের মধ্যে পাঁচজনের কাছে পৌছে না দিলে তোমার জন্য দোজখ নিশ্চিত। তাই নিজের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ওগুলোকে আলাদা রেখে মাঝে মাঝে গিয়ে ইনবক্স ঝাড়া দিয়ে পরিষ্কার করে আসি।
অনেক আগে, একবার ডিলিট করতে গিয়েও পড়ে ফেলেছিলাম একটা ফরওয়ার্ডেড ম্যাসেজ। তারপরে, কখনই যা করি নি সেদিন তাই করলাম: সাথে সাথে ওটা আমার কনটাক্টসের সবাইকে পাঠিয়ে দিলাম। দারুণ একটা গল্প ছিল। আজ সারাদিন ঘুরে ফিরে গল্পটা মনে পড়ছে।
গল্পের শুরুতে এক দর্শনের প্রফেসর ক্লাসে একটা ছোট্ট কাঁচের বোতল, কতগুলো টেনিস বল, নুড়ি পাথর, এক গ্লাস বালু আর এক কাপ কফি আনলেন। প্রথমেই তিনি কাঁচের বোতলটায় টেনিস বল ভরা শুরু করলেন। একটা পর্যায়ে পৌছানোর পরে বোতলটা ভরে উঠেছিল। আর একটাও টেনিস বলের জায়গা ছিল না। তখন তিনি নুড়ি পাথর গুলো ঢুকানো শুরু করলেন। বলের ফাঁকে ফাঁকে নুড়ি পাথর ঢুকে গেল, বেশ অনেকগুলো। যখন বোতল পুরোটাই ভরে উঠল তখন তিনি বালু ঢুকানো শুরু করলেন। ঝাকি টাকি দিয়ে এক গাদা বালু ভরা হল বোতলে। মুখ পর্যন্ত ভরে গেল। সব শেষে তিনি কাপের কফি পুরোটাই ঢেলে দিলেন বোতলে। এবার সত্যিই ভরে গেল বোতল।
এবার ব্যাখ্যায় গেলেন প্রফেসর: বোতলটা আমাদের জীবনের মত। টেনিস বলগুলো আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো। ভালবাসা, ভালবাসার মানুষ, বাবা-মা-পরিবারের অন্যান্যেরা, বন্ধু, স্রষ্টা, মানবিক গুণাবলী, জ্ঞানার্জন, প্রাপ্তিসোনার মত পৃথিবীর সন্তানেরা।
নুড়ি পাথরগুলো এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তবু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো। পড়াশোনা, চাকরী, ক্যারিয়ার, বাড়ি, গাড়ি ইত্যাদি।
বালু তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তবু জীবনকে কানায় কানায় ভরে তোলার জন্য আবশ্যক ব্যপারগুলো। এই যেমন সময়ে অসময়ে ব্লগিং, মাঝে মাঝে একটু ঝগড়া আর খুনসুটি করা, দুবেলা নিয়ম করে আকাশ দেখা। গোধূলী আর সূর্যদয়ের সোনালী রোদ গায়ে মাখা।
মজার ব্যপার হলো, এগুলো সবই প্রাণকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আবশ্যক, কিন্তু ঠিক কোন অর্ডারে এগুলোকে জীবনের বোতলে ঢুকানো হয়, কোনটা আগে যায় আর কোনটা পরে যায় তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। খালি বোতলে প্রথমেই বালু আর নুড়ি পাথর ভরে ফেললে টেনিস বলের একদম জায়গা হতো না।
আর জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত ভরিয়ে দেয়ার মত প্রবল ব্যস্ততার মাঝেও বালুর ফাঁকে ফাঁকে কফির জায়গা এটে যায়। তখনও, তখনও বন্ধুদের সাথে মাঝে মাঝে এক কাপ কফি খাওয়ার সময় বের করা যায়। কালপুরুষের আড্ডায় বা গ্লোরিয়া জিন্স ক্যাফেতে। তাহলেই জীবনটা যে কানায় কানায় ভরে উঠে!
আমার পরীক্ষা শেষ। এক মাসের ছুটি। ভ্রম হয়, হাতে অফুরন্ত সময়। মাথায় অ-নে-ক প্ল্যান। টেনিস বল আকারের প্ল্যান। অথচ আমি বোধ হয় বালুতে বালুময় করে ফেলেছি বোতল খানা!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




