somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঁচের বোতলে জীবন

০২ রা জুলাই, ২০০৬ সকাল ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বিরক্তিকর পাঁচটা জিনিসের লিস্ট করতে বললে ফরওয়ার্ডেড ম্যাসেজ নিশ্চয়ই তার একটা হবে। আই ডেসপাইজ ফরওয়ার্ডেড ম্যাসেজেস! শুধু এই ফরওয়ার্ডেড ম্যাসেজের হাত থেকে রক্ষার জন্যই দু'টো ইমেইল এডরেস এক সাথে চালাই। একটা দেই গুরুত্বপূর্ন পাবলিকেদের। ইউনির কাগজপত্রে। চাকরির আবেদনপত্রে। এমন মানুষদের যাদের কথা একদিন না শুনলে নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চায়। দ্বিতীয়টা দেই কর্মকান্ডহীন আজাইরা পাবলিকদের, যাদের একমাত্র কাজ প্রতিদিন তিনটা করে ফরওয়ার্ডেড ম্যাসেজ করে কনটাক্টের সবার ইনবক্স ভাসাইয়া দেয়া।
সেই ম্যাসেজগুলো পড়ার সবচেয়ে বড় হ্যাজার্ড হল যে কোন সময় এংজাইটি অ্যাটাক হয়ে হার্ট অ্যাটাক ট্যাটাক হয়ে যেতে পারে: ইহা আজকের মধ্যে দশজনকে বিলি না করলে তুমি কখনও ভালবাসতে পারিবে না। উহা পাঁচ মিনিটের মধ্যে পাঁচজনের কাছে পৌছে না দিলে তোমার জন্য দোজখ নিশ্চিত। তাই নিজের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ওগুলোকে আলাদা রেখে মাঝে মাঝে গিয়ে ইনবক্স ঝাড়া দিয়ে পরিষ্কার করে আসি।

অনেক আগে, একবার ডিলিট করতে গিয়েও পড়ে ফেলেছিলাম একটা ফরওয়ার্ডেড ম্যাসেজ। তারপরে, কখনই যা করি নি সেদিন তাই করলাম: সাথে সাথে ওটা আমার কনটাক্টসের সবাইকে পাঠিয়ে দিলাম। দারুণ একটা গল্প ছিল। আজ সারাদিন ঘুরে ফিরে গল্পটা মনে পড়ছে।

গল্পের শুরুতে এক দর্শনের প্রফেসর ক্লাসে একটা ছোট্ট কাঁচের বোতল, কতগুলো টেনিস বল, নুড়ি পাথর, এক গ্লাস বালু আর এক কাপ কফি আনলেন। প্রথমেই তিনি কাঁচের বোতলটায় টেনিস বল ভরা শুরু করলেন। একটা পর্যায়ে পৌছানোর পরে বোতলটা ভরে উঠেছিল। আর একটাও টেনিস বলের জায়গা ছিল না। তখন তিনি নুড়ি পাথর গুলো ঢুকানো শুরু করলেন। বলের ফাঁকে ফাঁকে নুড়ি পাথর ঢুকে গেল, বেশ অনেকগুলো। যখন বোতল পুরোটাই ভরে উঠল তখন তিনি বালু ঢুকানো শুরু করলেন। ঝাকি টাকি দিয়ে এক গাদা বালু ভরা হল বোতলে। মুখ পর্যন্ত ভরে গেল। সব শেষে তিনি কাপের কফি পুরোটাই ঢেলে দিলেন বোতলে। এবার সত্যিই ভরে গেল বোতল।

এবার ব্যাখ্যায় গেলেন প্রফেসর: বোতলটা আমাদের জীবনের মত। টেনিস বলগুলো আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো। ভালবাসা, ভালবাসার মানুষ, বাবা-মা-পরিবারের অন্যান্যেরা, বন্ধু, স্রষ্টা, মানবিক গুণাবলী, জ্ঞানার্জন, প্রাপ্তিসোনার মত পৃথিবীর সন্তানেরা।

নুড়ি পাথরগুলো এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তবু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো। পড়াশোনা, চাকরী, ক্যারিয়ার, বাড়ি, গাড়ি ইত্যাদি।

বালু তার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তবু জীবনকে কানায় কানায় ভরে তোলার জন্য আবশ্যক ব্যপারগুলো। এই যেমন সময়ে অসময়ে ব্লগিং, মাঝে মাঝে একটু ঝগড়া আর খুনসুটি করা, দুবেলা নিয়ম করে আকাশ দেখা। গোধূলী আর সূর্যদয়ের সোনালী রোদ গায়ে মাখা।

মজার ব্যপার হলো, এগুলো সবই প্রাণকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আবশ্যক, কিন্তু ঠিক কোন অর্ডারে এগুলোকে জীবনের বোতলে ঢুকানো হয়, কোনটা আগে যায় আর কোনটা পরে যায় তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। খালি বোতলে প্রথমেই বালু আর নুড়ি পাথর ভরে ফেললে টেনিস বলের একদম জায়গা হতো না।

আর জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত ভরিয়ে দেয়ার মত প্রবল ব্যস্ততার মাঝেও বালুর ফাঁকে ফাঁকে কফির জায়গা এটে যায়। তখনও, তখনও বন্ধুদের সাথে মাঝে মাঝে এক কাপ কফি খাওয়ার সময় বের করা যায়। কালপুরুষের আড্ডায় বা গ্লোরিয়া জিন্স ক্যাফেতে। তাহলেই জীবনটা যে কানায় কানায় ভরে উঠে!

আমার পরীক্ষা শেষ। এক মাসের ছুটি। ভ্রম হয়, হাতে অফুরন্ত সময়। মাথায় অ-নে-ক প্ল্যান। টেনিস বল আকারের প্ল্যান। অথচ আমি বোধ হয় বালুতে বালুময় করে ফেলেছি বোতল খানা!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×