somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঙাবনের রাজাবনে 4 (আকাশের আয়না)

২৪ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব coyb

কৃত্রিম হৃদের ব্যপারটা বলে নেই। ক্যানবেরা পুরোটাই কিন্তু আগে মানুষের কল্পনায় এসেছে, তারপরে বাস্তবে এসেছে। মূল প্রদেশের পুরোটাই অনেক ভেবে চিন্তে প্ল্যানড, গুছিয়ে গড়ে তোলা। ক্যানবেরার মাঝ খান দিয়ে একটা বিশাল বড় হৃদ বানান হয়েছে, ঘুরানো পেঁচানো বিশাল হৃদটাকে এখন দেখলে মানুষের সৃষ্টি মনেই হবে না। হৃদের তীরেই পার্লামেন্ট হাউজ, ন্যাশনাল মিউজিয়াম, ন্যাশনাল লাইব্রেরী, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, এমনকি হৃদের মাঝখান দিয়ে চলে ফেরি, স্পীড বোট।

আমরা জানতাম না আমাদের তখনকার অবস্থান থেকে হৃদটা ঠিক কোন দিকে। তবু হাঁটা শুরু করলাম একদিকে। হাজার হোক, ক্যানবেরার মত জনমানবহীন, ছোট্ট ডেড সিটিতে হারিয়ে যাওয়া হবে আমাদের খোদাপ্রদত্ত বুদ্ধিমত্তার অবমাননা। প্রায়ে এক ঘন্টা হাঁটলাম। হাঁটার সময় এক গাদা ছবি তোলা হল, সিডনী ক্যানবেরার তুলনায় বার বার সিডনীকে বিজয়ী প্রমান করা হল, রাস্তা ঘাট বিল্ডিং সব কিছুর নামকরণ চলল। অবশেষে হঠাৎই পানির ঝিলিক দেখলাম দুর থেকে। পেয়ে গেছি হৃদ!

হৃদটা অদ্ভূত সুন্দর। আকাশটা খুব লক্ষী ছিল, একদম সময় মত আমাদের ভীষণ ভালবেসে মেঘের হিজাব খুলে ফেলেছে। শুধু টুকরো মেঘের অলংকার পড়ে ছিল নীলের রূপ বহু গুণে বাড়িয়ে। টলটলে হৃদের পানিতে অদ্ভুত সুন্দর আকাশের প্রতিবিম্ব মন্ত্রমুগ্ধের মত দেখছিলাম। পার্কের সবুজ আর আকাশের নীল তুলনা করে নীল আর সবুজের সখ্যতার এত সুন্দর রূপটা নতুন করে টের পেলাম। পার্কের সবুজেরও কত রূপ। ওই দূরের গাছগুলোর এক রকম সবুজ রং। পাহাড়র সবুজ রংটা অন্য রকম। ঘাসের হালকা সবুজ রংটাও পাগল করা। উইপিং উইলো গাছগুলোতে তো একটাও পাতা নেই, তীব্র শীতে সব ঝরিয়ে দিয়েছে, তবু কি যে সুন্দর! ঝুঁকে পড়ে কয়েকটা উইলো গাছ আবার পানির আয়নার নিজেদের চেহারা দেখছে। কাঁদছে কি না কে জানে! স্রষ্টার সৃষ্টির সৌন্দর্য আমাকে বরাবর অভিভূত করে... এবার একটু বেশিই করল...

এই হৃদের ধারে হাঁটলাম অনেক্ষণ। হৃদের পাশে পা ঝুলিয়ে বসে থাকলাম, ছুটাছুটি করলাম, ছবি তুললাম, ইমু গাছে উঠে মৌমাছির তাড়াও খেল। এক ফাঁকে খেয়ে নিলাম আর শর্ট কাট নামায। এই ব্যপারটা মজার। ক্যানবেরার দুরত্বের জন্য ওখানে কসর নামায। ফলে নো সুন্নত, ফরজটাও শর্ট কাটে। জোহরের দুই রাকাত ফরজ আর আসরের দুই রাকাত ফরজ এক সাথে পড়লাম লেইকের পাশে ঘাসে দাঁড়িয়ে, সূর্যের ছায়া দেখে দিক নির্ণয় করে। 100% সত্যি সত্যি মুসাফিরের মত ব্যপার স্যপার!

সন্ধ্যা হয় হয় করছিল যখন তখন অদ্ভূত সুন্দর জায়গাটার মায়া ছাড়িয়ে রওয়ানা দিলাম বাস স্টপের উদ্দেশ্যে। সূযর্াস্তের সময়ের লজ্জায় রাঙা আকাশ দেখতে দেখতে ক্যানবেরার পাহাড়ী পথে বাসের সাথে দুলতে দুলতে বাসায় ফিরলাম।

(চলবে)

[ইটালিক]বি:দ্র: এই সিরিজের নামে অরিজিনালিটি নেই, কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি মুখফোড়ের ছড়ার। পুরো সিরিজটাই উৎসর্গ করলাম ধূসর গোধুলিকে।[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×