সিজন অফ ম্যারিজ বললাম, নামটার সার্থকতা আপনারাই বিচার করুন। এমনি সিডনীতে বাঙালীর সংখ্যা তেমন বেশি না। যারা এসেছেন, নব্বইয়ের দশকেই প্রথম এসেছেন। তাই খুব পুরানো বাঙালীরাও হয়তো বিশ বছর পুরানো। আমরা তো মোটে চার বছর পুরানো। এখন মোটে দ্্বিতীয় বা দেড় প্রজন্ম বাঙালী হওয়া শুরু হয়েছে।
গত ডিসেম্বর থেকে কাল অব্দি আমি মোট নয়টা বিয়েতে গিয়েছি। আটটা আপু আর একটা ভাইয়া। সবার বয়স পঁচিশের নিচে। গত ডিসেম্বর থেকেই আমাদের, অবিবাহিতাদের উপর কিসের কালো ছায়া আসা যাওয়া করে, দেখতে না দেখতে আমার খুব কাছাকাছি, পরিচিত নয় জনের বিয়ে হয়ে গেল!
এখন বিয়ের কথা শুনলেই আতংক লাগে... হু ইজ দ্যা নেক্সট ভিকটিম?
লাস্ট মোস্ট ভিকটিম হলেন গিনি আপু। সত্যি বলতে কি, বিয়েটা আমার খুব ভাল লেগেছে। অনেকদিন পরে একটা বিয়ে বাড়ি বিয়ে বাড়ি আমেজ ভরা আন্তরিক পরিবেশে বিয়ে দেখলাম। সারা রাত কেউ ঘুমায় নি, রাত জেগে বাড়ি সাজিয়েছে। আঙ্কেলরা বাইরে লাইট জ্বালিয়ে পিঁয়াজ কাটছিলেন, ভিতরে চলছিল হালকা মেহদী সন্ধ্যা।
বিয়ের অনুষ্ঠানটা খুব ছোট খাট হয়েছে। ইদানিং যত বিয়েতে গেছি, তাতে আনুষ্ঠানিকতার পাল্লায় পড়ে বিয়ের পবিত্রতা, সৌন্দর্য, মিষ্টতা সব কই হারিয়ে যায়। আমরা সবাই শাড়ি পড়েছিলাম, নিতান্ত অনিচ্ছুকদেরও কি করে শাড়ি পড়ানো হয়ে গেছে। ছোট্ট অনুষ্ঠানটায় গিনি আপুকে কাঁদতে দেখেও ভাল্লাগছিল... আজ কাল কার বউদের কাঁদতে দেখা যায় না, কিন্তু আমার ওই কান্নাটা দেখতে খুব ভাল্লাগে... আবেগী আবেগী লাগে...
রাতে অবশ্য ভাল ঘুম হয় নাই। বিয়ের কালো ছায়ায় আক্রান্ত দুই বিবাহিতা আর আমরা চার জন অবিবাহিতা এক ঘরে শুয়েছিলাম। বিবাহিতাদের জামাই বাবা গণ এখনও বাংলাদেশে, ডাক্তারি সম্পন্ন করছেন। বিরহিনীরা সারা রাত জেগে এস এম এস করলেন আর আমাদের ঘুমের অবস্থা বারোটা বাজালেন...
এই পোস্টের শেষে আমার আন্তরিক কামনা আর কেউ যেন সিজন অফ ম্যারিজের পাল্লায় পড়ে মৃত হয়ে না যান...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



