
আহা, বাংলাদেশের রাজনীতি যেন একটা অদ্ভুত সার্কাস, যেখানে ক্লাউনরা নিজেদেরকে জান্নাতের টিকিটের এক্সক্লুসিভ ডিলার বলে দাবি করে, কিন্তু পকেট ভরে টাকা নিয়ে ভোটের বাজারে ডাকাতি চালায়। জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলো তো সবসময় ইসলামিক মূল্যবোধের ব্যানার তুলে ধরে, বলে যায় তারা হলো সত্যের পথপ্রদর্শক, জান্নাতের গেটকিপার। কিন্তু ২০২৬-এর এই নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে, তাদের নেতারা টাকার বস্তা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ভোট কিনতে চেষ্টা করছে যেন সুপারমার্কেটে ডিসকাউন্ট সেল চলছে।
সৈয়দপুরে জেলা আমিরকে ৭৪ লাখ টাকাসহ আটক করা হয়েছে, আর তারা বলছে এটা ব্যবসায়িক টাকা। ওয়াহ, ব্যবসা কী? জান্নাতের টিকিট বিক্রির? বিমানবন্দরে ধরা পড়ে গেলেন, এখন বলছেন সাজানো নাটক। কিন্তু ভাই, ৭৪ লাখ টাকা দিয়ে কতগুলো ভোট কেনা যায়, সেটা তো গণিতের হিসাব নয়, সোজা ডাকাতির ফর্মুলা।
ঢাকা-৬-এ সূত্রাপুরে নায়েবে আমির হাবিবকে টাকা বিতরণ করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন, আর ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ২ দিনের জেল দিয়েছেন। চালের দোকানে টাকা বিলি করছিলেন, যেন ভোটাররা ভিক্ষুক আর তারা দানবীর। লোকালরা ধরে ফেলেছে, সাক্ষীরা বলছে সব দেখেছে। কিন্তু জামায়াত বলছে এটা সাজানো। অবশ্যই সাজানো, কারণ তাদের প্ল্যান ছিল ভোট সাজানো, কিন্তু ধরা পড়ে গেল।
শেখ হাসিনার রাতের ভোটের কথা কেউ এখনো ভুলে নাই , ২০১৮-এর সেই মিডনাইট ভোটিং, যেখানে রাত ১০টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ব্যালট স্ট্যাম্প করা হয়েছে, আর আওয়ামী লীগ জিতেছে ৯৬% ভোট নিয়ে। কিন্তু জামায়াত কি একই কাজ করছে না ? একই কায়দায় টাকা দিয়ে ভোট কিনছে রাত-বিরাতে , শুধু পার্থক্য হলো তারা বলছে এটা ইসলামিক, আর হাসিনা বলতো এটা গণতান্ত্রিক। দুইটাই তো ডাকাতি, শুধু ব্যানার আলাদা!
শরীয়তপুরে ৭.২০ লাখ টাকাসহ পোলিং কর্মকর্তাকে আটক করে ২ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে, আর জামায়াতের কার্যালয় থেকে টাকা আর ভোটার লিস্ট উদ্ধার হয়েছে। তারা বলছে এটা কর্মীদের জন্য টাকা, সাজানো কেস। ওহো, কর্মীরা কী? ভোট কেনার এজেন্ট? নাঙ্গলকোটে মৎস্য খামার থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, জামায়াত নেতার খামার। এখন বলবেন এটা মাছের ফিড মেকিং মেশিন? সিদ্ধিরগঞ্জে রাতে ব্যালট খোলার অভিযোগে বিজিবি মোতায়েন, মুরাদনগরে ২ লাখ টাকা বিতরণ করতে গিয়ে জনতার ধাওয়া খেয়ে আটক।
মেহেরপুরে ভোটকেন্দ্রের পাশে ককটেল উদ্ধার, গোদাগাড়ীতে আমিরের গাড়ি ঘেরাও। নন্দীগ্রামে ভোট কেনা নিয়ে সংঘর্ষে একজনের চোখ নষ্ট, মায়ের মৃত্যু। সিরাজগঞ্জে টাকা বিতরণে ধাওয়া, নেতা পলাতক। বগুড়ায় রাত ১০টায় স্কুলে অবৈধ প্রবেশে আটক। মির্জাগঞ্জে টাকা বিতরণে কর্মী আটক। ঢাকা-১৫-এ উত্তেজনা আর সন্দেহভাজন আটক। এসব দেখে মনে হয়, জামায়াতের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের স্লোগান হওয়া উচিত "ভোট কিনুন, জান্নাত ফ্রি"।
হাসিনার সময়ে তো সত্যিই রাতের ভোট ছিল, ২০১৮-এর নির্বাচনে পুলিশের পরামর্শে রাতে ব্যালট স্ট্যাম্প করা, অপোজিশনকে গ্রেপ্তার, ভোট রিগিং। আওয়ামী লীগ জিতেছে, কিন্তু বিশ্বব্যাপী সমালোচনা। এখন জামায়াত সেই কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু নিজেরা একই পথে হাঁটছে। ২০২৬-এর এই নির্বাচনে হাসিনা নেই, আওয়ামী লীগ ব্যানড, কিন্তু জামায়াতের রিসার্জেন্স দেখে মনে হয় তারা ভাবছে, "এখন আমাদের পালা"। কিন্তু ভাই, ইসলামিক দাবি করে ভোট ডাকাতি? এটা তো জান্নাতের টিকিট নয়, নরকের এক্সপ্রেস ট্রেন। তারা বলছে সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, কিন্তু টাকা বিতরণ, অস্ত্র উদ্ধার দেখে মনে হয় সুষ্ঠু মানে তাদের জয়।
এখন প্রশ্ন হলো, এই ডাকাতদের কী করব? সহজ উত্তর: বয়কট করুন। জামায়াতের মতো দলগুলোকে বলুন, "জান্নাতের টিকিট তোমরা রাখো, আমরা সত্যিকারের গণতন্ত্র চাই"। হাসিনার রাতের ভোট মনে রাখুন, কিন্তু এখনকার দিনের ডাকাতিকে ভুলবেন না। রাজনীতি যেন সার্কাস না হয়ে যায়, যেখানে ক্লাউনরা জিতে যায় আর জনগণ কাঁদে । বয়কট করুন এই ভোট ডাকাতদের, যাতে আসল জান্নাতের পথ খোলে, না কি ডাকাতির রাস্তা।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



