somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

রোজা ও আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান; কিছু কথা, কিছু অনুভূতি

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
রোজা ও আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান; কিছু কথা, কিছু অনুভূতি

ছবি সংগৃহিত।

অংশ ১: ভূমিকা এবং রোজার মূল উদ্দেশ্য

ইসলাম কোনো আংশিক বা বিচ্ছিন্ন জীবনদর্শন নয়। বরং এটি মানবজীবনের প্রতিটি স্তরের জন্য একটি সমন্বিত, বাস্তবসম্মত এবং কল্যাণকর ব্যবস্থা। মানুষের আত্মিক পরিশুদ্ধতা, নৈতিক উৎকর্ষ, সামাজিক ভারসাম্য এবং শারীরিক সুস্থতা সবকিছুই ইসলামের বিধানে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত। ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম রোজা (সিয়াম) এই সমন্বিত দর্শনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

রোজা কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়। বরং এটি মানুষের শরীর ও মনের উপর একটি গভীর, সুদূরপ্রসারী এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত প্রভাব বিস্তারকারী ইবাদত। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান, কোষজীববিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের গবেষণা আজ একবাক্যে স্বীকার করছে যে রোজা মানবদেহের জন্য একটি প্রাকৃতিক ডিটক্সিফিকেশন, মেটাবলিক রিসেট এবং মানসিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো দেখিয়েছে যে রমজান মাসে রোজা পালন ওজন হ্রাস, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং মেটাবলিক প্রোফাইল উন্নয়নে সহায়ক। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে রোজা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং প্রদাহজনিত প্রক্রিয়া হ্রাস করে। এছাড়া, ২০২৩-২০২৪ সালের মেটাবলিক এবং লিভার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গবেষণায় রোজার ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত হয়েছে।

রোজার মূল উদ্দেশ্য: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি

রোজার দর্শন ও লক্ষ্য আল্লাহ তাআলা কুরআনে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছে:

> يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

বাংলা অনুবাদ: “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” -সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৮৩

এই আয়াতে তাকওয়া শব্দটি অত্যন্ত গভীর অর্থ বহন করে। তাকওয়া মানে কেবল ধর্মভীরুতা নয়। বরং এটি আত্মনিয়ন্ত্রণ, লালসা দমন, ধৈর্য, সংযম, শারীরিক ভারসাম্য এবং মানসিক স্থিতিশীলতার সমন্বিত রূপ। আধুনিক বিজ্ঞান আজ প্রমাণ করছে যে এই তাকওয়ার বাস্তব প্রয়োগ মানবদেহে সুস্পষ্ট শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটায়। রমজান রোজা এক ধরনের ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, যা শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যকেও উন্নত করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে রোজা পালনকারীদের মধ্যে স্ট্রেস হরমোন কমে এবং মেজাজ উন্নত হয়।

এছাড়া, সূরা আল-বাকারার ১৮৫ আয়াতে রমজান মাসের ফজিলত, রোজার বিধান এবং এর সহজতা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন যে তিনি তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কষ্ট করতে চান না—যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো। এই কৃতজ্ঞতা (তাশকুরুন) শারীরিক ও আত্মিক সুস্থতার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে, যা আধুনিক গবেষণায় রোজার মেটাবলিক উন্নয়ন, শারীরিক বিশ্রাম এবং সামগ্রিক কল্যাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অংশ ২: মানবদেহে কোষীয় ক্ষয় এবং অটোফেজি

মানবদেহে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি কোষ সৃষ্টি ও ধ্বংস হয়। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পুরোনো ও অকার্যকর কোষ মারা যায়, মৃত কোষের অংশ, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস কোষের ভেতরে জমা হয় এবং বিপাকক্রিয়ার ফলে টক্সিন তৈরি হয়। এই বর্জ্য পদার্থগুলো যদি নিয়মিত অপসারিত না হয়, তাহলে শরীরে প্রদাহ, মেদ বৃদ্ধি, হরমোনজনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

অটোফেজি: রোজার সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

আধুনিক জীববিজ্ঞানের একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার হলো অটোফেজি (Autophagy)। গ্রিক শব্দ অটো (নিজে) ও ফ্যাজি (খাওয়া) থেকে উদ্ভূত এই শব্দের অর্থ হলো কোষ নিজেই নিজের ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ ভেঙে ফেলে এবং পুনঃব্যবহার করে। রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ খাদ্য গ্রহণ বন্ধ থাকায় শরীর বাহ্যিক শক্তির উৎস না পেয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত কোষ, মৃত কোষের অংশ, অকার্যকর প্রোটিন এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার অবশেষকে ভেঙে শক্তি হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। ফলে শরীর ভেতর থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়।

২০১৬ সালে জাপানের বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহসুমি অটোফেজি বিষয়ে গবেষণার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর গবেষণায় স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে দীর্ঘ সময় খাদ্যবিরতি (ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং) অটোফেজি সক্রিয় করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। মুসলমানরা যে রোজা হাজার বছর ধরে পালন করে আসছেন, সেটিই এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে আদর্শ রূপ। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে রমজানের ডন-টু-ডাস্ক ফাস্টিং অটোফেজি জিনের অভিব্যক্তি বাড়ায়, বিশেষ করে ওভারওয়েট/অবেসিটি রোগীদের মধ্যে। এছাড়া, ১২-২৪ ঘণ্টার ফাস্টিং অটোফেজি সক্রিয় করে, যা ডিমেনশিয়া এবং পারকিনসনের মতো বয়সজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। রমজান রোজা এই প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিকভাবে সক্রিয় করে, যা ক্যান্সার এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে।

অংশ ৩: রোজা, নাইট্রিক অক্সাইড, বার্ধক্যরোধ এবং হৃদরোগ

রোজার সময় শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড (নাইট্রিক অক্সাইড) উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এই উপাদান রক্তনালীকে প্রসারিত করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, কোষে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায় এবং কোষের আয়ু বৃদ্ধি করে। ফলে রোজা কার্যত একটি অ্যান্টি-এজিং মেকানিজম হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ফাস্টিং নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন বাড়িয়ে রক্তপ্রবাহ উন্নত করে, যা বয়সজনিত রোগ প্রতিরোধ করে। ক্যালোরি রেস্ট্রিকশন সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত উপবাস পালনকারীদের আয়ু দীর্ঘ হয় এবং বয়সজনিত রোগের ঝুঁকি কম থাকে। রমজান ফাস্টিংয়ের সময় নাইট্রিক অক্সাইডের লেভেল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, যা এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন উন্নত করে।

হৃদরোগ, কোলেস্টেরল ও রোজা

রোজা শরীরের লিপিড প্রোফাইলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে। গবেষণায় দেখা গেছে যে এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) হ্রাস পায়, এইচডিএল (ভালো কোলেস্টেরল) বৃদ্ধি পায় এবং ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে, রক্তনালীতে চর্বি জমা (অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস) প্রতিরোধ হয় এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা আজ ফাস্টিং-ভিত্তিক লাইফস্টাইলকে হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী বলে স্বীকার করছেন। রমজান ফাস্টিং রক্তচাপ কমায় এবং মেটাবলিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। তবে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ফাস্টিংয়ের সময় কোলেস্টেরল সাময়িকভাবে বাড়তে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি উন্নত হয়। ২০২৪ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে যে রোজার পর এইচডিএল বৃদ্ধি পায় এবং লিপিড প্রোফাইল উন্নত হয়।

অংশ ৪: ডায়াবেটিস ও বিপাক ব্যবস্থায় রোজার ভূমিকা

রোজার সময় শরীরে গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপাদিত হয়, ইনসুলিন নিঃসরণ কমে এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ে। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং নতুন করে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ইফতার ও সেহরিতে পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ। গবেষণায় দেখা গেছে যে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করে এবং ওজন কমায়। রমজান রোজা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ হতে পারে যদি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পালন করা হয়। ২০২২ সালের গাইডলাইনস অনুসারে, ভালো নিয়ন্ত্রিত টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা পালন করতে পারেন, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমায়।

অংশ ৫: পাকস্থলী, পেপটিক আলসার এবং রোজার প্রভাব স্নায়ুবিজ্ঞানে

অনেকে মনে করেন রোজায় গ্যাস্ট্রিক বা পেপটিক আলসার বেড়ে যায়। এটি একটি প্রচলিত কিন্তু আংশিক ভুল ধারণা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে যে পাকস্থলী খাদ্যমুক্ত থাকলে ক্ষতস্থান রিপেয়ার হয়, অ্যাসিড নিঃসরণ ভারসাম্যপূর্ণ থাকে এবং আলসার দ্রুত নিরাময়ের সুযোগ পায়। তবে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে রমজানের সময় ডিউওডেনাল আলসারের হার সাময়িকভাবে বাড়তে পারে, বিশেষ করে যাদের পূর্বের ইতিহাস আছে। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় সামগ্রিকভাবে পেপটিক আলসারের হার কম, যার অন্যতম কারণ দীর্ঘ এক মাসের রোজা। রোগীদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

রোজা ও স্নায়ুবিজ্ঞান: মস্তিষ্কের পুনর্গঠন

রোজা মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেম ও সেরিবেলামকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। এ সময় নিঃসৃত হয় বিডিএনএফ (ব্রেন-ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর), যা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে, মনোযোগ ও সিদ্ধান্তক্ষমতা উন্নত করে এবং বিষণ্নতা ও মানসিক চাপ কমায়। বিশিষ্ট চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. অ্যালেক্স হেইগ বলেন যে রোজা মানুষের মানসিক শক্তি, সহানুভূতি, আত্মিক অনুভূতি এবং যুক্তিবোধকে শাণিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ফাস্টিং বিডিএনএফ বাড়িয়ে নিউরোপ্লাস্টিসিটি উন্নত করে এবং স্ট্রেস প্রতিরোধ করে। রমজানের সময় প্লাজমা বিডিএনএফ লেভেল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, যা অ্যালজাইমারের মতো নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের ঝুঁকি কমায়।

অংশ ৬: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, লিভার ও কিডনি

রোজার সময় শরীরে আলফা-১ ও গামা প্রোটিন বৃদ্ধি পায়, যা ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে, কিডনি স্টোন প্রতিরোধ করে এবং লিভার ও কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ায়। রাশিয়ার শরীরবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডি. এন. নাকিটন বলেন যে প্রতিমাসে অন্তত একদিন উপবাস শরীরকে বিষমুক্ত রাখে এবং বার্ধক্যকে ধীর করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ফাস্টিং ইমিউন সিস্টেমকে রিজেনারেট করে, পুরোনো ইমিউন সেলগুলো অপসারণ করে এবং নতুন সেল তৈরি করে। এছাড়া, ফাস্টিং ইনফ্লেমেশন কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। লিভার এবং কিডনির জন্যও এটি উপকারী, কারণ ফাস্টিং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। ৭২ ঘণ্টার ফাস্টিং ইমিউন সিস্টেমকে সম্পূর্ণভাবে পুনর্নির্মাণ করে। রমজানের ফাস্টিং লিভার এনজাইম এবং কিডনি ফাংশন উন্নত করে।

রাসুল ﷺ এর পরিমিত আহারের বৈজ্ঞানিক শিক্ষা

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

> مَا مَلَأَ آدَمِيٌّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ

অর্থ: “মানুষ তার পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র পূর্ণ করে না।” -তিরমিজি

আধুনিক নিউট্রিশন সায়েন্স আজ এই নীতিকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সোনার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে। রমজান রোজা এই পরিমিত আহারের শিক্ষা দেয়, যা স্বাস্থ্যকর জীবনধারার ভিত্তি। এছাড়া, রাসুল ﷺ আরও বলেছেন: “রোজা একটি ঢাল” (সহিহ বুখারী), যা শারীরিক ও আত্মিক সুরক্ষার প্রতীক। এই হাদিস রোজার প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা নির্দেশ করে, যা আধুনিক গবেষণায় ইমিউন রিজেনারেশনের সাথে মিলে যায়।

অংশ ৭: উপসংহার

রোজা কোনো কষ্টদায়ক ধর্মীয় আচার নয়। বরং এটি মানুষের জন্য একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসা, মানসিক প্রশিক্ষণ এবং আত্মিক পুনর্জন্মের মাধ্যম। আধুনিক বিজ্ঞান আজ যে সত্য আবিষ্কার করছে, ইসলাম তা বহু শতাব্দী আগেই মানবজাতির কল্যাণে বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছে। রোজা মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে দৃঢ় এবং আত্মিকভাবে উন্নত করে তোলে। তাই রোজা ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের এক অনন্য সেতুবন্ধন। কুরআন মাযিদে ইরশাদ হয়েছে-

> فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।” -সূরা আল-ইনশিরাহ: ৬

আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের রোজা যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

রেফারেন্স

1. Yoshinori Ohsumi – Nobel Lecture on Autophagy (2016).
2. Dawn-to-dusk intermittent fasting is associated with overexpression of autophagy genes (2024).
3. Ramadan fasting model modulates biomarkers of longevity (2024).
4. The Critical Role of NAD+ and Nitric Oxide Replenishment in Anti-Aging Medicine.
5. Effects of Ramadan fasting on serum lipid profile (2020).
6. Intermittent Fasting and Insulin Resistance: Benefits Beyond Weight Loss.
7. Effects of Ramadan fasting on peptic ulcer disease (2013).
8. Frequency of peptic ulcer disease during and after Ramadan (2006).
9. The Effects of Fasting During Ramadan on BDNF (2017).
10. Unlocking the 3 Day Fast Benefits (2025).
11. Fasting flips a switch and the liver holds the key.
12. Is Ramadan fasting related to health outcomes?.
13. Ramadan fasting was associated with beneficial changes in metabolic profile (2024).
14. Surah Al-Baqarah 183-185, Quran.com.
15. Sahih Bukhari and Tirmidhi on fasting merits.
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের যে বড় ক্ষতি হবে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩২


জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের সমাজে যে বড় ক্ষতি ও ক্ষত তৈরি হবে, তার কিছু নমুনা ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো তারা ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনেই সংবিধান ছিঁড়ে ফেলবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্নীতির মাফিয়া চক্র পিঁপড়ার কলোনির মতো কাজ করে

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২৭

বাংলাদেশের দুর্নীতির মাফিয়া চক্র ঠিক পিঁপড়ার কলোনির মতো কাজ করে। জুলাই আন্দোলনের সময় কিছু মানুষ ভাবছিলো এটা উইপোকার কলোনী। তারা ভাবছিলো রাজা শেষ তো তার কালো খেলাও শেষ।



উইপোকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ টা হোন্ডা ১০ টা গুন্ডা ইলেকশন ঠান্ডা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৯

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম সত্যিকারের ইলেকশন হতে চলেছে। আপনারা সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে যান; যাকে পছন্দ তাকে ভোট দিন। তবে একটা কথা মনে রাখবেন যিনি সৎ ও যোগ্য তাকেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮০

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৯



গতকাল রাত ১২ টায় খুব মেজাজ খারাপ হয়েছে।
বাসায় এসে বসেছি মাত্র। আর গলির ভিতর ঢুকেছে মিছিল। ধানের শীষের মিছিল। রাত ১২ টায় কেন মিছিল করতে হবে? ফাজলামোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গদি লইড়া যাইতেসে রে.... :)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২০


নিয়াজ স্যার জানেন কিনা জানি না, তবে ছাত্রদলের সেই বিখ্যাত স্লোগান: "নীলক্ষেতের ভিসি আপনি"—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে যতবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ততবারই সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে চেয়েছে যে ছাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×