ইসলামকে আল্লাহ কোরআনে বলেছেন 'দ্বীন'। দ্বীন শব্দটার অর্থই হল পথ। জীবন পথ। পথ মানুষের সামনে অগুনিত। যেটা খুশি বেছে নিতে পারবে, কারণ মানুষকে 'বেছে' নেয়ার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সমস্ত প্রানীজগতের মধ্যে শুধু মানুষেকেই চিন্তা চেতনার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, চিন্তা করে সঠিক পথ বেছে নেয়ার স্বাধীনতা। কোরআনেরই আয়াত:
"আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন। কিন্তু তা করেননি, যাতে তোমাদের যেই পথ দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন... ' (সূরা মায়েদা: 48)
পারতেন না কি সমগ্র বিশ্বের স্রষ্টা ইচ্ছা করলেই সবাইকে জোড় করে তাঁর উপর বিশ্বাস আনাতে? পারতেন অবশ্যই। কিন্তু করবেন কেন? পরীক্ষা করছেন চিন্তা চেতনার স্বাধীনতা দিয়ে। প্রতিটা পথের শেষ পরিণতি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, মানুষকে বুদ্ধি আর চেতনা দিয়েছেন, স্বাধীনতা দিয়েছেন সেই বুদ্ধি, চেতনাকে কাজে লাগানোর। আমরা মানুষেরা কি আস্পর্ধায় এই স্বাধীনতাটুকু কেড়ে নিতে চাই!
কাউকে জোর করে কি সত্যিই কিছু মানানো যায়? ইসলাম মানে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পন, বাহ্যিক, আভ্যন্তরিক, সব দিকের। আল্লাহর ইচ্ছা মত চলা, বিশ্বাস করা। আল্লাহর সাথে কোন ফাঁকিবাজি চলে না, যে নামায পড়তে নিতান্ত অনিচ্ছুক একজনকে উঠবস করিয়ে তাঁকে খুশি করা যাবে। বা মাথায় টুপি রেখে টেবিলের নিচে বাম হাতে ঘুষ নিলে তিনি খুশি থাকবেন!
ছোট বেলা থেকে তোতা পাখির মত শেখানো হয় একটা বুলি: ইসলামের পাঁচটি খুঁটি। কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ, জাকাত। তারপরে? হু, কলেমা শিখ। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই, মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রসূল। মুখস্ত? পাঁচে পাঁচ। এবার নামাজ শিক্ষা গুলিয়ে খাওয়ানো হয়। তারপরে রোজা। মানে রমজান আসলেই খরচ বেড়ে যাওয়া, বিপুল উৎসাহে ইফতার মাহফিল করা আর ভোজন বিলাসী ইফতার খাওয়া। দোকানগুলোর উপরে লাল চাদর ঝুলিয়ে খাওয়া দাওয়া করা। ঈদের দিন মহা ধুম ধামে এক গাদা সস্তা শাড়ি আর লুঙ্গি বিলি করে জাকাতের দায় মিটানো। চুল পাকলে দাড়ি রাখা শুরু করে তবেই হজ্জ করা, সারা জীবন জমানো টাকা পাক সাফ করার নিয়তে।
আহ কি অপূর্ব ইসলাম! প্যাকেট করে আসা ইসলাম। খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে যায় আমাদের ইসলাম।
আসলেই কি তাই?
এই খুঁটি গুলো একটার পর আরেকটা গড়তে হয়। চার পাশে চারটা খুঁটি গড়ার আগের ফাউন্ডেশনটা সবচেয়ে জরুরি। প্রথম খুঁটিটা। 'কলেমা'। ওটা পোক্ত না হলে ঘর পোক্ত হয় না, একটু টোকাতেই ঝুর ঝুরিয়ে পড়ে যায়। যত দুর্বল খুঁিট ঘর তত নড়বড়ে। যত শক্ত ফাউন্ডেশন, তত দীর্ঘমেয়াদী মজবুত ঘর।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



