somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'জোর করেই হওয়াবো' - 2

১৯ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামকে আল্লাহ কোরআনে বলেছেন 'দ্বীন'। দ্বীন শব্দটার অর্থই হল পথ। জীবন পথ। পথ মানুষের সামনে অগুনিত। যেটা খুশি বেছে নিতে পারবে, কারণ মানুষকে 'বেছে' নেয়ার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সমস্ত প্রানীজগতের মধ্যে শুধু মানুষেকেই চিন্তা চেতনার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, চিন্তা করে সঠিক পথ বেছে নেয়ার স্বাধীনতা। কোরআনেরই আয়াত:

"আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন। কিন্তু তা করেননি, যাতে তোমাদের যেই পথ দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন... ' (সূরা মায়েদা: 48)

পারতেন না কি সমগ্র বিশ্বের স্রষ্টা ইচ্ছা করলেই সবাইকে জোড় করে তাঁর উপর বিশ্বাস আনাতে? পারতেন অবশ্যই। কিন্তু করবেন কেন? পরীক্ষা করছেন চিন্তা চেতনার স্বাধীনতা দিয়ে। প্রতিটা পথের শেষ পরিণতি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, মানুষকে বুদ্ধি আর চেতনা দিয়েছেন, স্বাধীনতা দিয়েছেন সেই বুদ্ধি, চেতনাকে কাজে লাগানোর। আমরা মানুষেরা কি আস্পর্ধায় এই স্বাধীনতাটুকু কেড়ে নিতে চাই!

কাউকে জোর করে কি সত্যিই কিছু মানানো যায়? ইসলাম মানে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পন, বাহ্যিক, আভ্যন্তরিক, সব দিকের। আল্লাহর ইচ্ছা মত চলা, বিশ্বাস করা। আল্লাহর সাথে কোন ফাঁকিবাজি চলে না, যে নামায পড়তে নিতান্ত অনিচ্ছুক একজনকে উঠবস করিয়ে তাঁকে খুশি করা যাবে। বা মাথায় টুপি রেখে টেবিলের নিচে বাম হাতে ঘুষ নিলে তিনি খুশি থাকবেন!

ছোট বেলা থেকে তোতা পাখির মত শেখানো হয় একটা বুলি: ইসলামের পাঁচটি খুঁটি। কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ, জাকাত। তারপরে? হু, কলেমা শিখ। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই, মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রসূল। মুখস্ত? পাঁচে পাঁচ। এবার নামাজ শিক্ষা গুলিয়ে খাওয়ানো হয়। তারপরে রোজা। মানে রমজান আসলেই খরচ বেড়ে যাওয়া, বিপুল উৎসাহে ইফতার মাহফিল করা আর ভোজন বিলাসী ইফতার খাওয়া। দোকানগুলোর উপরে লাল চাদর ঝুলিয়ে খাওয়া দাওয়া করা। ঈদের দিন মহা ধুম ধামে এক গাদা সস্তা শাড়ি আর লুঙ্গি বিলি করে জাকাতের দায় মিটানো। চুল পাকলে দাড়ি রাখা শুরু করে তবেই হজ্জ করা, সারা জীবন জমানো টাকা পাক সাফ করার নিয়তে।

আহ কি অপূর্ব ইসলাম! প্যাকেট করে আসা ইসলাম। খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে যায় আমাদের ইসলাম।

আসলেই কি তাই?

এই খুঁটি গুলো একটার পর আরেকটা গড়তে হয়। চার পাশে চারটা খুঁটি গড়ার আগের ফাউন্ডেশনটা সবচেয়ে জরুরি। প্রথম খুঁটিটা। 'কলেমা'। ওটা পোক্ত না হলে ঘর পোক্ত হয় না, একটু টোকাতেই ঝুর ঝুরিয়ে পড়ে যায়। যত দুর্বল খুঁিট ঘর তত নড়বড়ে। যত শক্ত ফাউন্ডেশন, তত দীর্ঘমেয়াদী মজবুত ঘর।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×