somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'জোর করেই হওয়াবো' - 3

১৯ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেমা শুধু একটা মন্ত্র নয়। একে কলেমা না বলে 'শাহাদাত' বা সাক্ষ্য দেয়া বলা উচিৎ। এটাই ইসলামে একজনের প্রবেশের চিহ্ন হিসেবে ধরা হয় কারণ মানুষ অন্তরে খোদাই করা কথাই উচ্চারণ করে, প্রকাশ করে, পৃথিবীকে নিজের বিশ্বাস জানায়। সেই বিশ্বাসের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়, সেই বিশ্বাসের প্রতি তার 'এলিজেনস' জানায়। এটাই ছিল মূল আইডিয়া। ঠিক এভাবেই ইসলামের প্রথম যুগে ইসলামে আসত মানুষগুলো। সব প্রশ্নের জবাব পেয়ে, পরিশুদ্ধ হয়ে। পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে। নিজে চাইতেন বলে। বিশ্বাসটা আগে আসত, তারপরে আসত আর সব কিছু।

কয়েকটা মজার তথ্য দেই। নবুয়াত প্রথম আসার মোটামোটি বারো বছরের মাথায় নামাজ ফরজ হয়। বারো বছর! সময়টা কিন্তু একেবারেই কম না! এই সময়টা দেয়া হয়েছিল, প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষগুলোর হৃদয়ে বিশ্বাস ঢুকানোর জন্য। নামাজ মানে তো কেবল উঠা বসা বা মন্ত্র জপা না... সত্যিই, ইসলামের প্র্যাক্টিসটা ভিতর থেকে বাইরে আসতে হয়। আমাদের দেশীয় (বা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ যে কোন অঞ্চলের) স্টাইলে বাইরে চাপিয়ে সেটা ভিতরে ঢুকে যাবে 'একসময়' অমনটা আশা করা অন্যায়। আর হিজাব? সেটা আরও ক্লাসিক, মদীনায় যাওয়ার পরে, মানে অন্তত: নবুয়াতের তের বছর পরে হিজাবের হুকুম আসে। তেরটা বছর পরে! তাহলে এত তাড়াহুরা কেন, ছোট ছোট অনিচ্ছুক মেয়েগুলো, যারা বুঝেই উঠে নি জীবন কি, পথ বেছে নেয়া তো দূরে থাক, বুঝে শুনে বিশ্বাস স্থাপন তো অনেক দূরের কথা, তাদের গায়ে হিজাব চাপিয়ে একটা 'ইসলামিক' ইমেজ সৃষ্টি করা? 'খোলস'? হবে!

জোর জবরদস্তিতে ইসলামের ঘরটা ভাল মতই ভচকে যায়, খুঁটি তৈরি দূরে থাক, একটা ইটও বসে না। বরং অন্য দিকে সুড়ঙ্গ সৃষ্টি হয়। আল্লাহ বুঝেন বলেই সাবধান করে দিয়েছেন দ্বীন নিয়ে জোর জবরদস্তি করা নিয়ে!

এই জোর জবরদস্তির কথা সবাই মুখে কপচায়, কিন্তু পরিবারের প্রশ্ন আসলেই কেন যেন জোর করাটাকে পুরোপুরি হালাল মনে করেন! বুঝি না কেন! বড় পর্যায়ে তো চলেই অহরহ... কি আস্পর্ধায় বোমাবাজী করে যাচ্ছে মানুষগুলো! ওগুলো প্রকৃত ইসলাম না বললেই উঠে হাসি ঠাট্টার রোল। 'আচ্ছা, প্রকৃত ইসলাম তাহলে কি শুনি?'

কোরআন আর হাদীসের সাথে সংঘর্ষশীল যা হয় না তাই প্রকৃত ইসলাম। এই তো প্রমান করে দিলাম, ওগুলো সংঘর্ষশীল। রাসুল (সা) কখনও আতর্কিত আক্রমন করেননি। খুব ভাল করে জানিয়ে শুনিয়ে ঘোষনা করে, যুদ্ধ ক্ষেত্রে সম্মুখ যুদ্ধ করেছেন, যুদ্ধে আগ্রহীদের সাথে। তাও শেষ প্রতিকার হিসেবে। কারও উপর 'চাপিয়ে' দেননি যুদ্ধ। ওই কাপুরুষতা নিয়ে আল্লাহর কথা বলতে যায় মানুষগুলো!

আর অন্য ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, সে তো অবশ্যই।

'তোমাদের দ্বীন তোমাদের জন্য, আমার দ্বীন আমার জন্য'। (কাফিরুন: 6)

স্পষ্ট ঘোষনা আল্লাহর। প্রাথমিক যুগের সেরা মানুষগুলোর উদারতা দেখে অবাক হতে হয়, তখন প্রতিটা ধর্মের নিজেস্ব ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা তো ছিলই, ছিল উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা। উপাসনালয়গুলোর প্রতি এক বিন্দু অসম্মানের সুযোগ ছিল না। প্রচন্ড পবিত্র মনে করা হত প্রতিটা উপাসনালয়। ইতিহাসের পাতা খুললে দেখা যায়, উমর (রা) গীর্জার কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নামাজের সময় নামাজ পর্যন্ত পড়েছেন। আমাদের সময় অন্য ধর্মের উপাসনালয়কে অতটা পবিত্রজ্ঞান করার সৎ সাহস কি আমাদের আছে?

ওহ নো, ইমান এত ঠুনকো যে, এর পোক্ততা প্রমান করতে অন্য ধর্মের উপাসনালয় পোড়াতে নেমে যাওয়া লাগে? বলছি ব্রাম্মনবাড়িয়ায় কাদিয়ানীদের উপাসনালয় পোড়ানো নিয়ে? নিজেকে ধর্মপ্রান দাবি করা মানুষগুলো ওই কাজ করেছে? কি অদ্ভূদ, এরাই দাবী করে এরা 'মুসলিম'? আল্লাহর কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পন করা মানুষ? কোরআনের আয়াতের সরাসরি লংঘনের পরেও এই দু:সাহস পায় কোথা থেকে?

পুরো ঘটনা আমি জানি না, কিন্তু আমার বিশ্বাসে ওই পোড়ানোর কোন জাস্টিফিকেশন নেই, ব্যাস!

তথাকথিত আত্মসমর্পনকারীদের এই সব অর্থহীন আস্ফালন দেখলে খুব কষ্ট হয় সত্যি!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ২:২২
২৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

গতকালের একটা বড় খবর ছিল আমেরিকার একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে তাদের সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই স্পিরিট অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×