- ওই পাকনা, কি করো? মিস কল, ম্যাসেজ পাও নাই?
- পাইছি। মুড ছিল না কথা বলার। গান শুনি।
- কি গান?
- তেরে বিন।
- আচ্ছা! বিরহ বিরহ ভাব যায় নাই! মন খুব বেশি খারাপ?
- হু।
- চশমা খুলে দিব?
- দ্যান।
- ভূতে বিশ্বাস করো?
- নাহ।
- ধরো তুমি বিশ্বাস করো। এখন আমাকে বলো, একবার স্বপ্নে ভূত দেখে ভয় পেলা আর একবার সামনা সামনি ভূত দেখলা। দুইটার ইম্প্যাক্ট কি এক হবে?
- না।
- ঠিক তাই। স্বপ্নে ভূত দেখে ভয় পাবা। প্রচন্ড ভয়ে অস্থির হয়ে মাকে গিয়ে বলবা আজকে রাতে একা শুতে পারবা না। হয়তো কয়েক রাত একা ঘুমাতে পারবা না কিছুতেই। কিন্তু আস্তে আস্তে ভয়টা কেটে যাবে। আবার একা ঘুমাতে পারবা। কিন্তু যদি রিয়েল লাইফে ভূত দেখো, তাইলে ভুলাটা এত সোজা না। কারণ সেটা তখন বাস্তব এবং স্মৃতি। স্বপ্নের মাধ্যমে কখনও স্মৃতি তৈরি হয় না। এখন ব্যাপারটা এরকমই। ভার্চুয়াল লাইফে কখনও স্মৃতি তৈরি হয় না। হলেও সেটার ইম্প্যাক্ট রিয়েল লাইফের মত না।
- কিন্তু ঠিক ভার্চুয়ালও না।
- যেটুকু রিয়েল, সেই তিন দিন এক ঘন্টার জন্য দেখা হওয়া, এক সাথে ফুচকা কফি আইসক্রীম খাওয়া? সেটুকু সবার সাথে হয়। এতটুকুতে কারো সাথে পুরা জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না।
- কিন্তু... ফিলিংসটা তো সত্যি। তাছাড়া, আনটাচড মনে প্রথম স্পর্শ... আমার মধ্যে এর তীব্র ইম্প্যাক্ট দেখেও বুঝেন নাই?
- অফকোর্স। কিন্তু এত টুকুই। ফিলিংসটা সত্য। কারণটা পাকনা বুঝে গেছে--আনটাচড মনে প্রথম স্পর্শ। ক্লাস ফোরে থাকতে একটা মেয়েকে দেখে আমি পাগল হয়ে গেছিলাম। ওই ভালো লাগাটা ওই বয়সের জন্য ঠিক ছিল। কিন্তু তাই বলে এখন ওইটাকে বিয়ের কথা চিন্তা করি না।
- হা হা হা। ওকে.. কিন্তু...
- শোন পাকনা, ডোন্ট বি সো অবসেসড এবাউট গেটিং ইট রাইট দ্যা ফার্স্ট টাইম। তুমি বেশি চিন্তিত আসলে কোনটা ঠিক কোনটা ভুল তাই নিয়ে। তাই তুমি নিজের মন, এমনকি সত্যিকার অর্থে ঠিক সিদ্ধান্তটাকেও কম্প্রমাইজ করবা। বেশি ট্যালেন্টেড, আজাইরা বসে বসে বেশি চিন্তা করে নিজেকে হুদা হুদিই কনফিউজ করে লট ঘট সিচুয়েশনে নিয়ে যাও। একজন মানুষের সাথে কনসিডারেবল এমাউন্ট অফ সময় রিয়েল লাইফে না কাটিয়ে তাকে বুঝা যায় না। দু'একবার দেখলে ভার্চুয়াল দেখাটাই হয়তো রিকনফার্মড হয়। কিন্তু আসল সময় কাটালে বুঝা যায়। এখন তোমাকে ভ্যারিয়েন্স ক্যালকুলেইট করতে হবে, টোটালে পজেটিভ না নিগেটিভ।
- ওয়েল...
- কোন ওয়েল টোয়েল নাই। একটা ভুলকে আরেকটা ভুল দিয়ে জাস্টিফাই করা যায় না।
- কিন্তু... ঠিক এভাবে তো চাই নি।
- লাইফকে এত প্ল্যান করে আগায় নিতে চাইলে তো সমস্যা। উই আর নট রোবটস। তবে আর যাই বলো, ভাল লাগার অনুভূতিটা দারুন! টু গুড!
- তা ঠিক.. কিন্তু, ধুত্তোরিকা, মানুষের মন এত কমপ্লিকেটেড ক্যান!!!
- এই খানেই তো কবি নিরব!
- ভালো কথা, খবিতার খিতা খবর?
- পঁচানো হচ্ছে না? আমারও দিন আসবে!
- কি যে বলেন, আপনারে পঁচামু? এত সাহস আছে?
- আইচ্ছা! একটা কথা বলি শোনেন বুদ্ধিজীবি। জীবন খুব বেশি দেখো নাই, য়ু আর টু ইনোসেন্ট। তাই একে এত বিগ ডিল মনে হচ্ছে। আসলে, নিজের দেখার দরকার নেই তো, য়ু ডোন্ট হ্যাভ টু টেইক লেসন ফ্রম য়ুর ওউন লাইফ। তোমার আশে পাশে যথেষ্ট উদাহরণ আছে। দেখো। শিখো। পিসলা খেয়ে মাজা ভেঙে শিখার দরকার নাই। আগেও বলছি এখনও বলি।
- বুঝলাম বুঝলাম। এবার চুপ করেন।
- আরে... কি দশা! ভালো কথা কইতে গেলেও প্রবলেম। এই বাইল্যা মাইয়ার সাথে ক্যান যে এত সিরিকাস কথা কই!
- কি বললেন, বাইল্যা মাইয়্যা!!!
- তো কি? এই যে, মন খারাপ আপুটাকে দেখতে ইচ্ছা করছে। চলে আসেন।
- এহ, চলে আসেন!
- আরে আসেন!
- কই আসবো? কখন আসবো?
- এখন। কফি খেতে। দোকান তোমার চয়েস।
- আচ্ছা! এত দূর যাবো আমি খালি কফি খেতে?
- তাইলে মায়ায় আসো।
- ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে ভাত তরকারি খেয়ে কি লাভ?
- আরে, ওইটা পয়েন্ট না। মায়াবতীর মায়া ইদানিং কমতির দিকে। মুখ দিয়ে ঠাশ ঠাশ কথা বাইর হয়। মায়া খাওয়ায় কিছু চাষ শুরু করবো আরি।
- হা হা হা। লাভ হবে না। মায়া অপাত্রে ব্যায়িত হয় না

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


