তবু, দু'টো ঠিক এক না। আমার মাথার ভিতরের 'ভাষা-বৃক্ষে'র বিস্তৃত মূল, সবল কান্ড.. সব বাংলার তৈরি। এই বাংলা-বৃক্ষে ভর করে ইংরেজি ডালা পালা বের হয়েছে। ভাষার ভিত্তি প্রস্তর বাংলায়, ইংরেজি শিখতে সেই তো বাংলার সরনাপন্ন হতে হয়েছিল। বাংলা বড় আপন, বড় নিজের। একদম আটপৌরে। বাংলার মুখোমুখি হতে কোন প্রস্তুতির দরকার হয় না। বাংলায় ভাবতে, স্বপ্ন দেখতে, কথা বলতে, গান গাইতে, রাগ করতে, হাসতে, ভালবাসতে, ঝগড়া করতে যতটা আরাম পাই, ইংরেজিতে তার ছিটে ফোঁটাও যে নেই!
আজ ইউনি থেকে আসার সময় ট্রেইনে ঘুমে চোখ ভেঙে আসছে। হাতের উপর হেলান দিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে চোখ বুজে আসার পরেও হঠাৎ চোখ খুলে গেল সটান হয়ে। কারন খুঁজতে গিয়ে টের পেলাম, দুই সিট পিছনে এক ভদ্রলোক ফোনে বাংলায় কথা বলছে। অস্তিত্বের অংশ হয়ে গিয়েছে যে বাংলা, নিজের হাত পা যেমন আলাদা করে চিনতে হয় না, তেমনই। অবচেতন মনেও চেনা শব্দেরা খুব আপন হয়ে ধরা দেয়। হঠাৎ ঝি ঝি ধরে পা অবশ হয়ে গেলে ভীষণ রকমের প্রয়োজনীয় মনে হয় পায়ের সচল হয়ে ওঠাকে। সিডনী আসার পরে যখন পুরা-ইংরেজি পরিবেশে আমাকে হাত পা বেঁধে ছুঁড়ে ফেলা হলো, তখন তেমন লাগছিল। দিন রাত শুনতাম... 'আমি বাংলার গান গাই'... গানটা শুনলে এখনও সেই তীব্র আকুতি আমাকে পেয়ে বসে, বাংলায় গান গাওয়ার, বাংলায় চিৎকার করার, বাংলার পথ ধরে বহুদূর হেঁটে যাওয়ার।
অস্তিত্বের অংশ যে বাংলা, নিজের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে কে বসে থাকে? তাই তো অধর্্ব শতাব্দী আগে ঠিক এই দিনে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা বসে থাকে নি। থাকলে, আজ এতকাল পরে সামহোয়ার ইনে বসে বাংলা ভাবনাগুলো এত উলটে পালটে দেখতে পারতাম বুঝি?
শান্তি পাক সেই মহান আত্মারা। আমাদের অসি্তত্বের অংশ হয়ে বাংলায় ভালবাসতে দিক আরও হাজার হাজার বছর।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


