আবেগতাড়িত কিছু তিক্ত/কঠিন অনুভূতি আছে যা সাধারণত আমাদের মস্তিষ্ক সহজ ভাবে নিতে পারে না, অর্থাৎ মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধ আচরণ করে। তখনি আমরা মস্তিষ্কের এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার জন্য কিছু বিরূপ আচরণ প্রদর্শন করি। স্বাভাবিক চোখে দেখলে এই আচরণ গুলো পাগলামি বা স্বৈরতান্ত্রিক পর্যায়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে বলা যায় আমরা নিজদের কে অন্যদের কাছে হাসির পাত্র/পাত্রী বানিয়ে ফেলি। তাৎক্ষণিক ভাবে ব্যাপারটা বুঝতে অক্ষম হলেও পরবর্তীতে তা ঠিকই উপলব্ধি করতে পারি আমরা কিন্তু ততক্ষণে যা সর্বনাশ হওয়ার হয়ে যায়। এই সাধারণ বিষয় বুঝতে মনোবিজ্ঞানী হওয়ার আদও মনে হয় না প্রয়োজন আছে। তাই আমাদের সংযত হতে হবে বিরূপ এই প্রতিক্রিয়া বা ক্রোধ প্রকাশের ক্ষেত্রে। কারণ এই ক্রোধ বা রাগ আমাদের যতটা না ক্ষতি করে তারচেয়ে বরং অন্যদের বেশী কষ্টের কারণ হয়। কিছু সহজ ও সুধীজন স্বীকৃত উপায় আছে এই ক্রোধ প্রশমন বা দমন করার জন্য। নিম্নে তার কিছু তুলে ধরা হল ;-
(১) যখনই আপনি বুঝবেন আপনার প্রচণ্ড রাগ লাগছে তখনি দাঁড়ানো থাকলে বসে পড়ুন, আর বসে থাকলে দাঁড়িয়ে পড়ুন।
(২) দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় মনে মনে ক্রমিক সংখ্যা ১০০ থেকে উল্টো দিকে যেমন ৯৯, ৯৮, ৯৭, ৯৬...... এইভাবে গণনা করতে থাকুন।
(৩) কিছু সময় নিয়ে আপনার উত্তেজিত হওয়ার প্রাথমিক কিছু কারণ বাছাই করে নোট করে রাখুন যাতে করে পরবর্তীতে ওই কারণ গুলো এড়িয়ে যেতে পারেন।
(৪) অনেকক্ষেত্রে তর্ক থেকে ক্রোধ এর সৃষ্টি হয় তাই ভালো লজিক জানা না থাকলে তর্ক থেকে দূরে থাকুন। কারণ অনেক বিষয়েরই একাধিক লজিক থাকতে পারে।
(৫) বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাছের মানুষদের বিরূপ আচরণ ক্রোধ সৃষ্টি করে। তাই আপনার খারাপ লাগা গুলো আগে থেকেই তাঁদের জানিয়ে রাখুন, তবে এই ক্ষেত্রে তাঁদের খারাপ লাগা গুলো আগে জেনে নেওয়া ভালো।
(৬) অচেনা মানুষদের প্রতি ক্রোধ প্রকাশের আগে অন্তত এইটুকু ভাবুন তাঁরা আপনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অজ্ঞ তাই হয়তো আপনার এই ক্রোধ সৃষ্টি হয়েছে।
(৭) রাগ প্রশমিত করার জন্য রাগের বিষয় বস্তুর চেয়ে নিজেকে প্রাধান্য দিন। মনে রাখতে হবে ব্যাক্তিত্ব বোধ ক্ষুণ্ণ করার অন্যতম কারণ হল ক্রোধ।
(৮) দ্বিমত থাকতেই পারে যেকোনো বিষয়ে, তবুও যতটা সম্ভব প্রথমেই বিষয় টিকে ইতিবাচক দৃষ্টি কোন থেকে দেখার চেষ্টা করুন।
(৯) প্রবল উত্তেজনা বা ক্রোধ পরিহারের সর্বোত্তম ও সার্বজনীন প্রক্রিয়া হল ধ্যান। তাই যদি পারেন ধ্যান বা ইয়ুগা’র প্রতি সক্রিয় হন।
(১০) যদি শেষ পর্যন্ত ক্রোধ প্রকাশ করেই ফেলেন তবে ভুল যারই হোক যত তারাতারি সম্ভব আপনি ক্ষমা প্রার্থনা করুন। কারণ ক্ষমা মহৎ কাজের প্রদর্শন।
( পুনশ্চ ;- উপরোক্ত লেখা টি যদিও আমার নিজের ভাষায় লিখা কিন্তু উল্লেখিত অধিকাংশ তথ্যাদি আহরিত জ্ঞান থেকে লেখা) আপনাদের কিছুটা উপকৃত করতে পারলে তবেই লেখা টি সার্থক হবে । ধন্যবাদ সবাইকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

