ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার জন্য বাসে উঠলাম প্রায় ৪:৪০ এর দিকে। বাস চলছে.... চলছে। হঠাৎ শুনলাম রামপুরা ব্রীজে গন্ডগোল হচ্ছে। রাস্তা বন্ধ করে ছাত্ররা আন্দলোন করছে। মনে মনে ভাবলাম, " ওমা!!!!! ঢাবি এরিয়া ছেড়ে, এই ছাত্রদল/ছাত্রলীগের পোলাপাইনরা এইখানে জট বাধাইতে আসছে কেন? " মেজাজ টা ৪৯ হয়ে গেলো তখন এই ভেবে যে কতক্ষণে বাসায় যেয়ে ইকটু স্বস্থির নিশ্বাস নিবো।কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষাটা আর হলো না। ধাক্কাইতে ধাক্কাইতে বাস অনেক কষ্টে মেরুল বাড্ডায় এসে একেবারেই থেমে গেলো। কারন সেই ছাত্ররা এখন একেবারেই রাস্তা ব্লক করে রেখেছে। গাড়ি এক কদম ও আগাবে না!!!! কোনো গতি না পেয়ে আমি এবং আমার সাথে দুই জন মেয়ে বাস থেকে নেমে হাটা দিলা। পরিকল্পনা হচ্ছে, রামপুরা ক্রস করে আবার ও বাস এ উঠে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিবো।
হাটতে হাটতে যখন রামপুরায় অবস্থিত East West Universityর সামনে আসি, তখন দেখি জনতার ঢল। সে এক বিশাল কান্ড, পুরা রাস্তা জুরে ছাত্ররা বসে উচ্চ স্বরে তাদের দাবি জানাচ্ছে। কাছে যেয়ে যা শুনলাম, তা শোনার পর মন চাইলো আমিও তাদের সাথে রাস্তায় বসে চিল্লাই " NO VAT! NO VAT!" তখন আমার মধ্যে সেই ট্রাফিক এ বসে থাকার ক্ষোভ আর ইকটুও ছিলোনা, বরং খারাপ লাগলো যে, যেই আন্দলোন এ আমার ও থাকা উচিত সেই আন্দলোন এর পাশ ঘেষে আমি চলে যাচ্ছি, সেই প্রতিবাদ এর অংশীদার ও হতে পারলাম না। তবে মনে মনে ভাবলাম, " করুক, আরো করুক, ঐ টাকলা না আসা পর্যন্ত যেন এরা এখান থেকে না নড়ে। প্রয়োজনে বন্ধ থাকবে আজকে সাড়া ঢাকা শহর। চলুক আন্দলোন।
হ্যা, আমি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। কেনো পড়ি জানেন? কারন, আপনাদের সাধ্য হয়নি আমাকে ঢাবি তে একটা চান্স দেয়ার (হ্যা অপারোগ আমিও ছিলাম, তা অগ্রহ্য করবোনা) তবুও আজকে যারা পথে ঘাটে খুন করে বেরাচ্ছে, পহেলা বৈশাখে নারীদের আদর করে গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, পুলিশ দের ইট মেরে মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছে, দিন শেষে তারাও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে 'পড়াশোনা' (!) করে। তাদের সিট গুলা কি ফাঁকা থাকে? অবশ্য থাকলেই বা কি? তারা কষ্ট করে এই সিট টি অর্জন করেছে, তাদের জানাই 'সাল্যুট'।
যাই হক, আমার শিক্ষার যেই অধিকার আমাদের সরকার পুরণ করতে পারে নাই সেই অধিকার আমার বাবা পুরোণ করছে। Private University তে পড়ি, শুনলেই মনে হয় 'বাপের কত্ত টাকা', কিন্তু ৩ মাস পর পর ৬০,০০০ টাকা গুনে (পরোবর্ততে হয়ত যা আরো বেশি হবে) দিতে আমার বাবার মুখে হাসি থাকেনা, বরং কষ্টের সাথে বলে, 'মা, পরের বার একটা Scholarship নেয়ার চেষ্টা করিস,আমার পক্ষে এত টাকা খরচ করা খুব কষ্টের ব্যাপার।
আর সেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে যখন সরকার এরূপ মহািন এক পদক্ষেপ নেয় এবং আমাদের বিনিতো ভাবে request করা টা কেও যখন অগ্রাহ্য করে তখন আন্গুল ট্যারা করে ঘি বের করা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই, I am Sorry।
আমার বাবার টাকা আছে, দেখে আজকে আমি পড়াশোনা করতে পারছি, কিন্তু এই টাকা দিয়ে চুপচাপ অমানোবিক অত্যাচার সয়ে যাব, তা কিন্তু নয়। প্রতবাদ চলছে, প্রতিবাদ চলবে। রাস্তায়, ফেসবুকে, ব্লগে সবখানেই আওয়াজ উঠবে।
অণ্বেষনের জন্য এই অজ্ঞাতের সামন্য একটি প্রশ্ন, " যেখানে,অশিক্ষিত বাস ড্রাইভারদের কেও Student বলে পরিচয় দিলে বাস ভারা কমিয়ে দেয়, সেখানে Private University তে পড়ি বলে এক্সট্রা ভ্যাট ও দিতে হবে এই কোন ধরনের নৈতিকতা?"


সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



