বেশ গরম পড়েছে,সলীম খাঁ পার্কে এসে সেই কখন থেকে বসে আছেন, দেহের তাপমাত্রা বেশি না পরিবেশের তাপমাত্রাটা বেশি উনি ঠাওড়াতে পারেন না! মাঝে মনে হয় মনের উত্তাপটাই বেশি... .
পার্কে আসাটা উনার নতুন কিছু নয় ,উনার ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে মাঝে মধ্যে পার্কের ঠিকানা দিয়ে বসেন...তিনি তার নাম নিয়ে প্রায়ই ভাবেন বাবা মা সলীম নামটাই দিয়েছেন নামের সাথে খাঁ উপাধীটা কিভাবে এসে জুটলো তা তিনি ভেবে পান না....
স্যার পানি লাগবে??
ভাবনায় ছেদ পড়ল...একটি বাচ্চা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,হাতে কয়েকটা পানির বোতল... মেয়েটিকে উনি প্রায়ই দেখেন ,কেন জানি মেয়েটিকে পথ শিশু মনে হয়না চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ!! সলীম সাহেব মেয়েটির সাথে যেন কোথায় একটা মিল খোঁজে পান....
এইতো সেদিনকার কথা তিনি বিয়ে করলেন ঐন্দ্রিলাকে....কিছুদিন পর ঘর আলো করে এসেছিল ফুটফুটে একটি মেয়ে.....
হঠাত্ কি জানি কি হল .... তারপর সব এলোমেলো তিনি কখনো বিয়ে করেছিলেন বলে তার মনে পরেনা সবই অতীত.... টেলিফিল্মের ঘটনা মনে হয়....
শরতের নরম নরম বিকেলে সলীম আর ঐন্দ্রিলা এসেছিলেন এই পার্কে,এই বেঞ্চিটাই উনাদের প্রিয় ছিল.....
কত গল্প কত কি...কত ভালবাসা কত আবেগ না ছেড়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা....
আজ কোথায় সে,কোথায় তার মেয়ে!! আচ্ছা মেয়েটির কি নাম রাখা হয়েছে, নাকি ও আবার বিয়ে করেছে শত প্রশ্ন বার বার ঘুরে ফিরে আসে....
ও স্যর পানি নিবেন না??
.
আবার ভাবনায় ছেদ পড়ল....
এই বাবু কি নাম তোমার?
.
ঐশী!!
ঐশী নামটি সলীমের প্রিয় ছিল,সে ভেবে রেখেছিল তার মেয়ের নামটি রাখবে ঐশী... ঐন্দ্রিলার ঐ আর সলীমের শ!!
.
দাও একটা বোতল দাও....
মোবাইল রিং বেজে ওঠলো...নাম্বারটা অপরিচিত... ইয়েস বাটন চেপে মোবাইল কানে চাপলেন... ওপাশ থেকে কোন উত্তর পাওয়া যায়না,,উনার কাছে মাঝে মাঝেই এই অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে....
চোখের কোনটা একটু ভেজা ভেজা লাগে.... ছেলেদের চোখের পানির মনে হয় অনেক দাম....
উনি ওঠে চললেন চললেন জীবনের কালচক্র সম্পন্ন করতে...
এমন কত সলীম ঐন্দ্রিলা পৃথিবীতে আসে,আসে অভিমানী ভালবাসাগুলো নীরবে বিসর্জন দিতে....
ওরা আসে বার বার ক্ষণে ক্ষণে... পৃথিবীটা যত দিনই থাকবে ততদিন ওরা আসবেই ...ওরা পৃথিবীর কাছে দায় বদ্ধ..ওদের যে আসতেই হবে....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




