somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরতাল এবং কয়েকটি স্বপ্নের মৃত্যু

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম দৃশ্যঃ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একটি শহরতলী বাস পুড়ছে....
বাসের ভেতর থেকে পটপট শব্দ কাপড় পোড়া আর তাজা মাংস পোড়া গন্ধ বেরুচ্ছে.....
আঠারো শতাব্দীর সতীদাহ প্রথা ভেবে ভুল করি.......
ভেতর থেকে ভেসে আসছে পুরুষালী কন্ঠের আর্তনাদ .... মেয়ে মানুষের চিত্‍কার.....
কিছু পুলিশ অস্ত্র উচু করে দাঁড়িয়ে আছে ফায়ারিং পজিশনে......
দমকল বাহিনীর যানের সাইরেন শোনা যাচ্ছে.,..
রেসকিউ টিম এখনো পৌঁছেনি....
দ্বিতীয় দৃশ্যঃ আসিফ আধুনিক সভ্যতা থেকে দূরে বেড়ে ওঠা একটি ছেলে.....
প্রবল ইচ্ছাশক্তির দ্ধারা অল্প বয়সে পিতৃহারা ছেলেটি এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় A+ পেয়ে উত্তীর্ন হয়......
বাড়ি থেকে জানানো হয়েছে আর পড়ালেখা সম্ভব নয়.....
বাড়িতে একটি দোচালা ঘর আর কাঠা দশেক জমি ছাড়া সম্পদ বলতে কিছুই নেই,
মায়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়...
কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি.....
বাড়ি ফিরে আবার সে পড়াশুনা আরেকটা মাত্র সুযোগ রয়েছে সামনে....
আগামী বছর তাকে চান্স পেতেই হবে.......
তার চোখে অনেক স্বপ্ন একদিন সে নিজের পায়ে দাঁড়াবে.... মানুষের মত মানুষ হবে...
ভাঙ্গা টেবিলে মাথা রেখে সে স্বপ্ন দেখে, তাদের আর কোন আর্থিক অসচ্ছ্বলতা থাকবেনা.....
ভাবে আর পুলকিত হয়..
নতুন উদ্যমে পড়া শুরু করে......
দেখতে দেখতে একটি বছর কেটে গেল.... আবার শুরু হল ভর্তি যুদ্ধ....
না এবার ভাগ্য তাকে খালি হাতে ফেরায়নি....
এখন ভর্তি হতে টাকার দরকার থাকার ব্যবস্থা দরকার.... এই অচেনা শহরে তার আপন বলে কেউ নেই, শহরের এই আধুনিক ছেলে মেয়ের সাথে সে মিশতে পারবে কিনা কে জানে.......,..
আসিফ তার অর্ধেক জমি বিক্রি করে দিয়েছে,তার বাবার কষ্টের উপার্জন, সে প্রতিজ্ঞা করেছে সে ভালো কিছু করবেই....
ভর্তির তারিখে সে ভর্তি হলো...
বাইরের এক সস্তা হোটেলে উঠলো, কয়েক দিন যাওয়ার পর সস্তা হোটেলের সস্তা পেমেন্ট ও তার কাছে পাহাড়সম মনে হচ্ছিল......
সে ভার্সিটি হলে ওঠতে চায়... ভার্সিটি হলে ওঠতে হলে বড় ভাইদের মন জুগাতে হয়.,... বড় ভাইদের মন জুগিয়ে চলতে গেলে অস্ত্র হাতে নিতে হয়......
সে ভাবে অস্ত্র হাতে নিলেই বা কি আমি তো আর সন্ত্রাসী হয়ে যাইনি......
রাজনৈতিক দলে নাম লিখালে নাকি সুশীল হওয়া যায়... সমস্যা কি তাতে?
ভাঙ্গচুড়,আন্দোলন সব তো দেশের জন্যই.....
তৃতীয় দৃশ্যঃ সালেহা বানু অতি দরিদ্র পরিবারের এক বিধবা গৃহিণী .. .. সাত কন্যা একবং এক পুত্রের জননী....
পুত্র সোহাগ এই তো দু'বছর হলো বিয়ে করেছে,
তার ঘর আলো করে এসেছে,নবজাতক!
কি ফুটফুটে.... দেখতেই আদর করতে ইচ্ছে হয়.....
লক্ষীপুরে সালেহার বাড়ি..
সোহাগ ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে,কিছুদিন হলো তার স্ত্রী ও তার সাথে কাজে যায়........
যদি কিছু সঞ্চয় করা যায়....
সন্তানের দেখাশুনা করার জন্য সোহাগ গ্রাম থেকে তার মা কে নিয়ে এসেছে....
তারা এখন থাকে ইংলিশ রোডে একটা ধ্বংসপ্রায় বাড়িতে....
সালেহার মন ঢাকায় টেকে না শুধু স্বামীর ভিটায় মন টানে.....
বিরোধী দল একটানা পাঁচ দিন হরতাল ঘোষণা দেয়ায় ছুটি পেয়েছে তারা,,
এ সুযোগে সোহাগ তার পরিবার নিয়ে নিজভূমে যেতে চায়....
পাঁচ দিন হরতাল আর একদিন সাপ্তাহিক ছুটি.....
শেষের আগেঃ লক্ষীপুরগামী বাস ছুটে চলেছে ঢাকার রাজপথের সামনে দিয়ে....
হাইকোর্ট পেরিয়ে সবে মাত্র প্রেস ক্লাবের কাছে এসেছে... ..
হঠাত্‍ একঝাক অস্ত্রধারী সামনে এসে পরে....
কারো হাতে দা,কারো হাতে চাঁপাতি,কারো হাতে রিভলবার....
কারো হাতো নবাবী তলোয়ার,আর কেউ কেউ হকি স্টিক নিয়ে জানোয়ারের মত উল্লাস করছে.....
সে উল্লাস পৃথিবীর জঘন্যতম নরপিচাশের দলে... .
ওরা হাসতে হাসতে পেট্রোল ঢেলে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়... ..
সবাই চোখের নিমিষে উধাও হয়ে যায়...
বোকার মত দাঁড়িয়ে থাকে সেই সহজ ছেলেটি আসিফ যার চোখে ছিল মাথা উঁচু করে বাঁচার স্বপ্ন যার চোখে ছিল দেশ গড়ার স্বপ্ন....
শেষ দৃশ্যঃ পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্পটে উপস্থিত আসিফ গ্রেফতার......
পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে সালেহার স্বপ্ন, শেষ হয়ে গেছে সোহাগের কলিজার টুকরা ... নিজেও কাতরাচ্ছে পোড়ামুখ নিয়.... তার স্ত্রীর দেহটা আগেই নিথর হয়ে গেছে.....!!!
আমার কথাঃ কেন এই হরতাল? আর কেনই বা এই গণতন্ত্র?
এই যদি হয় গণতন্ত্র,আর গণতন্ত্রের মানেই যদি হয় গোবরে পদ্মফুলের মত স্বপ্নের মৃত্যু তবে চাইনা আমি এ গণতন্ত্র.....
আর যারা দেশের কথা বলে হরতাল দিচ্ছ তোমরা কি দেশকে ভালবাসো? একটুও ভালবাসো?
মাননীয় আদালত আপনার কাছে একটি প্রশ্ন আমার, এই নতুন স্বপ্নদেখা জাতির দেশে হরতাল নিষিদ্ধ হবেনা কেন?
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯



৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশ জুড়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তার ক্ষয়ক্ষতি ছিল ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। সংবাদমাধ্যম ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি।

লিখেছেন সুম১৪৩২, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




আমি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি।

সিদ্ধান্তটা গতকাল নিইনি। অনেক দিন ধরে একটু একটু করে নিয়েছি।

আজ শুধু বাস্তবায়ন করতে বের হয়েছি।

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বিদ্যুৎ ছিল না।

আমি এমন এক জায়গায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×