আগস্ট, ২০০৮ ।।
শীতের রাত জমে যাওয়ার মত ঠান্ডা পরেছে,বন্ধুর গ্রামের বাড়িতে নিমন্ত্রিত হয়ে বেড়াতে গিয়েছি!!
বন্ধুটির মা নেই,
নাসের আমার বন্ধুর নাম,ওদের পূর্ব পুরুষ জমিদার তাই বাড়িটিও জমিদার বাড়ি বলেই পরিচিত...
পাঁচ দিন হয়েছে এসেছি,,
এই কয়েকটা দিন ভালই কাটছিল....হঠাত্ নাসের বিছানায় পড়ে, ভীষণ অসুস্থ হয়ে যায়, যায় যায় অবস্থা,বাড়িটিতে পুরুষ বলতে আমি আর ওর বাবা,ওর বাবার বাইরে যেতেও আরেকজনের সাহায্য লাগে...
অতঃপর,বাধ্য হয়েই রাতের বেলায় সদ্য চেনা এই গ্রামটিতে বেড় হলাম হেকিম ডাক্তারের বাড়ির দিকে,দূরত্ব কম করে হলেও পাঁচ মাইল,চারিদিকে প্রচন্ড কুয়াশা নিজের চেহারা দেখা যায়না...
অন্য মনস্ক হয়ে চলছিলামতো চলছিলাম রাস্তার শেষ নেই,মোবাইলটি সাথে আনিনি আনলেও লাভ হতোনা চার্জ নেই,হাতে একটা ছোট লাইট এর রেন্জ বেশি হলে দশ হাত...
কতক্ষণ কেটে গিয়েছিল জানিনা তবে যখন হুশ ফিরে দেখি ফুল বিছানো একটি রাস্তা দিয়ে হাটছি...অবাক হলাম এরকম রাস্তা কখনো চোখে পড়েনি...রাস্তা যেহেতু একটাই এগুতে থাকলাম....
এরপর কতক্ষণ চলেছি জানিনা,কিন্তু হাতের লাইটের আলো পড়ল একটা দেয়ালের উপর!!দেয়ালটা পরিচিত,অবাক আর হতবাক হওয়া শুরু দেয়ালটা নাসের দের বাড়ির পাচিল!! ওহ বলতে ভুলে গিয়েছিলাম বন্ধুটিরএকটি বোন ছিল নাম শান্তা,বয়সে আমার ছোটই ছিল,,কখনো কাছে ঘেষেনি,ভালমন্দ তেমন একটা কথাও হয়নি,শুনেছিলাম মানসিক ব্যধিতে আক্রান্ত,সাদা ৪ ফিটপ্রস্থ দেয়ালের উপর কমলা রঙের শাড়ি পড়ে কে যেন বসে আছে, বুকটা ধক করে ওঠল,,কাছে যেতে সাহস পাচ্ছিলামনা এরিয়ে চলে যাচ্ছিলাম.....
এইযে ভাইয়া শুনুন,,আমি ঘুরে দেখলাম.... আপনি ঐ বাড়িতে আর যাবেন না....
কেন যাবনা?
আপনার ইচ্ছা, বলে দেয়াল থেকে লাফ দিয়ে নেমে চলে গেল....
পশ্চিমের পুকুরের দিকে.., .একটিবারও মনেপ্রশ্ন জাগেনি এত রাতে মেয়েটি এখানে কি করছিল বা কোথায় গেল আর কেনই বা আমাকে সতর্ক করতে আসল!!এখনও গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে.......
আমি ভেবে পাচ্ছিলামনা আমি এখানে কিভাবে ঘুরে আসলাম...আমার গন্তব্যঅন্যত্র ছিল!!
দ্রুত কদম ফেলে এগুতে চাচ্ছিলাম কেন যেন পাথর হয়ে যাচ্ছিলাম....হাবেলীতেই যাচ্ছি ভয়ে আত্না বের হওয়ার অবস্থা...
দক্ষিণের রুমে হাড়িকেন জ্বলছে যে রুমে নাসের শুয়েছিল......
দরজায় পা দিতেই গা ছমছম করে ওঠছিল অসহ্যকর নিরবতা...রুমে ঢুকলাম...নাসের কেমন লাগছে রে,,আমি তো রাস্তা ভুল করে....কপালে হাত দিলাম ভীষণ ঠান্ডা,,নাসের,নাসের,,,, মনে হচ্ছিল কন্ঠনালী কেউ চেপে ধরেছে,অনেকদিন কাঁদিনি তবুও এক দু'ফোটা জল গড়িয়ে পরলো....
দৌড়ে ওর বাবা বোনকে ডাকতে গেলাম....গিয়ে যা দেখলাম তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলামনা!!!
শান্তা রেল লাইনের তৈরি ছাদের সাথে বাঁধা একটা দড়িতে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে ঝুলছে....আর বাবা??,,ওর বাবার চোখ মুখ দেখা যাচ্ছিলনা রক্ত ফোঁয়ারার জন্য....
আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি,স্বপ্ন মনে হচ্ছিল,মাঝে মাঝে এমন স্বপ্ন দেখতাম কিন্তু এমন ভয়ঙ্কর পরিনতি হতোনা কখনও,,বার বার আল্লাহর নাম ডেকে যাচ্ছিলাম....সম্বিত ফিরে এলে এক মুহূর্ত দেরি না করে ব্যাগটানিয়ে বেরিয়ে পড়লাম....কোথায় যাব?এ কি হল??এ কোন পাপের শাস্তি??
হাটছি না দৌড়াচ্ছি.....দেয়ালের উপর কে যেন বসে আছে,কাছে আসতেই বলল চলে যাও আর এসোনা.... . এ বাড়িতে কারো রেহাইনেই....
চলতে চলতে হাপিয়ে উঠলাম,,আজানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে....
এরপর ৭ টি বছর কেটে গেছে,,না আমি ওদের সমাহিত করতে যাইনি...একটি বারের জন্যও খোঁজ নিতে যাইনি...
আমি কিভাবে বেঁচে গেলাম কি হয়েছিল ওদের সাথে??
প্রত্যেকেরই জীবনে কিছু অসঙ্গায়িত রহস্য থাকে...
যার সমাধান কখনোও মেলেনা,,থাকনা রহস্যই..
বেঁচে থাকাটাই রহস্য,,পৃথিবী ও তার মানুষ রহস্যময়....!!!
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ ভোর ৫:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




