somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয়ার গল্প, কিছু স্বপ্ন আর জীবনের কিছু স্বীকারোক্তি: ১

০১ লা মার্চ, ২০১৫ সকাল ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যতদূর মনে পড়ে একদিন প্রিয়া বলেছিল,“ দেখো, একদিন আমাদের ছোট্ট একটা বাড়ী হবে। ছোট নয়, বেশ বড় একটা বাড়ী, সামনে অনেকখানি ফাঁকা জায়গা… ছোট্ট একটা বাগান। বাড়ী থেকে একটু দূরে একটা বড় পুকুর, পুকুরের সামনে শ্যাওলাপড়া বাঁধানো ঘাট আর পুকুরে চকচকে জল। আর বাড়ীর ভেতরটা হবে ছিমছাম….ব্যালকনীতে ছোট ছোট টবে সুন্দর লতানো গাছ, বড় বড় ফুল হবে তবে মাঝে মাঝে রোজ নয়, বেশ একটা নতুন নতুন ভাব। বাথরুমটা থাকবে চকচকে, একটু মিষ্টি সুগন্ধ থাকবে। অনেকগুলো শ্যাম্পু থাকবে। ছোট্ট একটা ঝর্না, ঝিরঝির করে ঠান্ডা জল পড়বে। টাওয়েলগুলো হবে খুব নরম আর রোদে শুকানো। বিছানাগুলো হবে ছিমছাম, কোনও ভাঁজ থাকবেনা । জানালাগুলো সকালে খুললে নরম রোদ জানালা দিয়ে এসে পড়বে। স্নানের পর শরীরটা ঠান্ডা হয়ে যাবে। আর তুমি রোজ দাড়ি কামাবা আর সাতদিন পর পর চুল কাটবা একদম ছোট ছোট নয়, একটু বড়সড় চুলে তোমাকে ভাল লাগে, ছোট করলে মুড়ো ঝাঁটার মত লাগে। জানালায় থাকবে সুন্দর ডিজাইনের পর্দা। ঘরে চারপাখাওয়ালা একটা ফ্যান থাকবে যখন বাতাস হবে তখন কোনও শব্দ হবেনা। ঘরে থাকবে একটা নরম শান্ত ভাব।
আমি একটু হেসে বলেছিলাম, তুমি যা বললে তাতে সেটা আর বাড়ী থাকবেনা হবে কোনও রিসর্ট্ নয়তো আশ্রম। বেশ একটু গোস্যা করে ও বলেছিল, আমার কোনও কথা্তেই তোমার বিশ্বাস হয়না। দ্যাখো, একদিন যখন অনেক উঁচুতে উঠবা সেদিন আমি কাছে থাকবনা তখন আমার সবকথা সত্যি মনে হবে।
যদিও আজ কাছে নেই তবু মনে হয় ওর কথা মত্যি হয়েছে। আজ আমার একটা বড় বাড়ী হয়েছে যদিও বাড়ীটা আমার নয় তবুও বাড়ীর মালিক আমাকে বলেছে বাড়ীটাকে আমার নিজের মনে করতে। প্রথম প্রথম না মানলেও এখন বাড়ীটাকে আমার নিজেরই মনে হয়। শুধু সামনে নয় পিছনেও অনেক ফাঁকা জায়গা, বড় না হলেও বেশ বড় একটা পুকুরে আছে আর ফাউ হিসাবে রয়েছে অনেকগুলো রাজহাঁস আর পদ্মফুল। জলটাও বেশ চকচকে কারন নোংরা হওয়ার কোনও উপায় নেই নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। ওহ্…. বলতে ভুলেই গেছি একটা সুন্দর বাঁধানো ঘাট আছে কিন্তু সেটা মোটেও শ্যাওলা পড়া নয়। ভেতরটাও বেশ ছিমছাম। ব্যালকনীতে অনেকগুলো গাছও আছে তবে লতানো নয় আর ফুল ফোটে বেশ মাঝে মাঝে আর সেটা শুনেছি, এখনও পর্যন্ত ঘটেনি। বাথরুমটা চকচকে কিন্তু গন্ধ মানে সুগন্ধ বা দূর্গন্ধ কোনটাই নেই্। অনেকগুলো শ্যাম্পু না থাকলেও ঝর্না আছে যদিও একটু বেলা হলেই সেটা দিয়ে ঠান্ডা জল না বেরিয়ে গরম জল বেরোয় যা শরীর ঠান্ডার বদলে ক্লান্তিকর করে তোলে। রোজ সকালে ইচ্ছে খুব একটা না থাকলেও দাড়ি কামাতে হয় অবশ্যই নিজে নয় আর সাতদিন পরপর চুল। সেটা আর বড়বড় রাখা হয়না…..প্রিয়ার ভাষায় মুড়ো ঝাঁটা ছাঁট। জানালায় পর্দা আছে তবে ডিজাইনের নয় ,সাদা। প্রিয়ার কথামত ফ্যানও আছে তবে তিনপাখাওয়ালা আর যখন ঘোরে তখন হাল্কা ঘরঘর শব্দ হয়। ঘরে একটা ভাব আছে তবে সেটা শান্ত না অশান্ত সেটা সবসময় ঠিক বুঝিনা। তবে বুঝি প্রিয়ার কথামত সেই নরম শান্ত ভাবটা মোটেই নেই।
প্রিয়া বলেছিল, যেদিন সে থাকবেনা সেদিন তার সবকতা আমার সত্যি মনে হবে কথাটা একশত ভাগ সত্যি কারন ওর কথাগুলো আমার এখন খুব সত্যি মনে হয়। আর মনে হয় কারন ও কাছে নেই। আর এখন আমি অনেক না হলেও বেশ উঁচুতে, সাততলায় থাকি আর আমার কথা সত্যি হয়নি( আমার জীবনের কোনও কথাই সত্যি হয়না এই কারনেই কিনা জানিনা) বাড়ীটা রিসর্ট কিংবা আশ্রম হয়নি বাড়ীটা হয়েছে হাসপাতাল আর আমি হয়েছি রোগী।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৫ সকাল ১১:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×